সংবাদ শিরোনাম ::
পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চুয়াডাঙ্গায় প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে এএসআই’র শিশু কন্যা নিখোঁজ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিকের মালিককে জরিমানা পরে ক্লিনিকে সিলগালা অগ্রিম সতর্কতা: শুরু হওয়ার আগেই ৭,০০০ রিংগিতের নতুন ‘ভিসা ফাঁদ’ পাকাচ্ছে সিন্ডিকেট বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ

আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের সহায়তায়- রহিজুলের ভাগ্য বদল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ৪৮০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁওঃ
মুরগি ও কবুতরের পালনে স্বাবলম্বী সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। নিজের বুদ্ধি আর কর্মদক্ষতাকে কাজে খাঁটিয়ে
মুরগি ও কবুতরের পালন করে ভাগ্য গড়েছেন। সংসারের আর্থিক স্বচ্চলতা ফিরিয়েছেন। তার এই ভাগ্য বদলের গল্প মোটেও সহজ ছিলো না। কঠোর পরিশ্রম তাকে একজন পরিশ্রমী বাবা ও সংসারী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়া ইউনিয়নের রহিজুল ইসলামকে।অভাব-অনটনের সংসারে খুব বেশি পড়ালেখার সুযোগ পাননি।কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বেকার হয়ে বসে থাকেননি। বেকারত্ব দূরে নিজেই ছোট্ট পরিসরে শুরু করেন মুরগি ও কবুতরের পালন।

নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার ‍সুযোগ হয়েছে রহিজুলের। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ২০১২ সালে বাবা বশির উদ্দিনকে হারিয়ে সংসারের হাল ধরতে হয় তার। নয় ভাই-বোনের মধ্যে রহিজুল তৃতীয়।

রহিজুল ইসলাম বলেন, আমার বয়স যখন ১৪ থেকে ১৫ হবে, তখন বাবাকে হারিয়েছি। পাঁচ বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে আমি তৃতীয়। বড় দুইভাই বিয়ে করে নিজেদের মতো করে সংসার করছেন। তাই আমার পড়ালেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। সংসারের হাল ধরতে হয়েছে।

তিনি বলেন, রোজগার (ইনকাম) বাড়াতে চিন্তা করলাম কাজের পাশাপাশি মুরগি-কবুতরের খামার করবো। কিন্তু আমি ছোট মানুষ বলে কেউ ঋণ (ধার) না দেওয়ায় অর্থের অভাবে থেমে যায় সেই চিন্তা। এর পর ২০১৫ সালে পাশের বাড়িতে ‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের’ উঠান বৈঠক হচ্ছিলো। সেই বৈঠকে উপস্থিত যোগ দিলাম। সেখানে বালিয়া ইউনিয়নের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট শাহাদাত হোসেন ভাই খামার করতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং প্রকল্পের আওতায় ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করেন। এরপর সেখান থেকে ঋণ নিয়ে আমি ছোট পরিসরে মুরগি পালন শুরু করি। এভাবে ধীরে ধীরে মুরগির খামার, মুরগির খামার থেকে পুঁজি করে এখন আরেকটি কবুতরের খামার দিয়েছি।

এখন দুটো খামারের আয় দিয়ে আল্লাহ রহমতে ভালো আছি। আমার যে কবুতরের খামারটি রয়েছে তাতে বেশিভাগেই বিদেশি কবুতর। যার জোড়া বাজারে বিক্রি হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। মুরগি ও কবুতরের খামার থেকে গড়ে প্রতিমাসে আমার ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমি টাকার অভাবে পড়ালেখা করতে পারিনি। তাই সন্তানদের পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আমার বাড়ি আমার খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের উপজেলা সমন্বয়কারী আলাউল ইসলাম জানান, আমার বাড়ি আমার খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য। আমরা অসহায় দরিদ্রদের অল্প সুদে ঋণ দিয়ে খামার, সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি-গাভী পালনসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রহিজুলের মতো অনেক বেকার যুবক এ প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করেছে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের সহায়তায়- রহিজুলের ভাগ্য বদল

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁওঃ
মুরগি ও কবুতরের পালনে স্বাবলম্বী সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। নিজের বুদ্ধি আর কর্মদক্ষতাকে কাজে খাঁটিয়ে
মুরগি ও কবুতরের পালন করে ভাগ্য গড়েছেন। সংসারের আর্থিক স্বচ্চলতা ফিরিয়েছেন। তার এই ভাগ্য বদলের গল্প মোটেও সহজ ছিলো না। কঠোর পরিশ্রম তাকে একজন পরিশ্রমী বাবা ও সংসারী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়া ইউনিয়নের রহিজুল ইসলামকে।অভাব-অনটনের সংসারে খুব বেশি পড়ালেখার সুযোগ পাননি।কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বেকার হয়ে বসে থাকেননি। বেকারত্ব দূরে নিজেই ছোট্ট পরিসরে শুরু করেন মুরগি ও কবুতরের পালন।

নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার ‍সুযোগ হয়েছে রহিজুলের। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ২০১২ সালে বাবা বশির উদ্দিনকে হারিয়ে সংসারের হাল ধরতে হয় তার। নয় ভাই-বোনের মধ্যে রহিজুল তৃতীয়।

রহিজুল ইসলাম বলেন, আমার বয়স যখন ১৪ থেকে ১৫ হবে, তখন বাবাকে হারিয়েছি। পাঁচ বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে আমি তৃতীয়। বড় দুইভাই বিয়ে করে নিজেদের মতো করে সংসার করছেন। তাই আমার পড়ালেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। সংসারের হাল ধরতে হয়েছে।

তিনি বলেন, রোজগার (ইনকাম) বাড়াতে চিন্তা করলাম কাজের পাশাপাশি মুরগি-কবুতরের খামার করবো। কিন্তু আমি ছোট মানুষ বলে কেউ ঋণ (ধার) না দেওয়ায় অর্থের অভাবে থেমে যায় সেই চিন্তা। এর পর ২০১৫ সালে পাশের বাড়িতে ‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের’ উঠান বৈঠক হচ্ছিলো। সেই বৈঠকে উপস্থিত যোগ দিলাম। সেখানে বালিয়া ইউনিয়নের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট শাহাদাত হোসেন ভাই খামার করতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং প্রকল্পের আওতায় ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করেন। এরপর সেখান থেকে ঋণ নিয়ে আমি ছোট পরিসরে মুরগি পালন শুরু করি। এভাবে ধীরে ধীরে মুরগির খামার, মুরগির খামার থেকে পুঁজি করে এখন আরেকটি কবুতরের খামার দিয়েছি।

এখন দুটো খামারের আয় দিয়ে আল্লাহ রহমতে ভালো আছি। আমার যে কবুতরের খামারটি রয়েছে তাতে বেশিভাগেই বিদেশি কবুতর। যার জোড়া বাজারে বিক্রি হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। মুরগি ও কবুতরের খামার থেকে গড়ে প্রতিমাসে আমার ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমি টাকার অভাবে পড়ালেখা করতে পারিনি। তাই সন্তানদের পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আমার বাড়ি আমার খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের উপজেলা সমন্বয়কারী আলাউল ইসলাম জানান, আমার বাড়ি আমার খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য। আমরা অসহায় দরিদ্রদের অল্প সুদে ঋণ দিয়ে খামার, সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি-গাভী পালনসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রহিজুলের মতো অনেক বেকার যুবক এ প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করেছে