সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়িতে গৃহবধু প্রীতি রানী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২০ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি: মারধোর ও নির্যাতনের কারণেই গৃহবধু প্রীতি রানী ত্রিপুরার মৃত্যু হয় বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দিয়েছেন দুই আসামী ধনলাল ত্রিপুরা এবং কল্প ত্রিপুরা। জবানবন্ধী প্রদানকালে তারা বলেন, বাঙ্গালি এক ছেলের সাথে প্রীতি রানী ত্রিপুরার ভালোবাসার সম্পর্ক থাকার কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে তারা তাকে মারধোর ও নির্যাতন করে। যার ফলে ঘটনাস্থলে প্রীতি রানী ত্রিপুরা ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে মারা যায়। পরে তার লাশ একটি সিএনজিতে করে নিয়ে দীঘিনালা সড়কের রাবার বাগান এলাকায় রেখে আসে।
জেলার পানছড়ি উপজেলার রামসিং দেওয়ান পাড়া এলাকার পতেন্দ্র লাল ত্রিপুরার ছেলে ধন লাল ত্রিপুরা (২০) এবং দীঘিনালা উপজেলার বাশিরাম পাড়া এলাকার ওমকেশর ত্রিপুরার ছেলে কল্প ত্রিপুরা(১৯) কে আদালতে তোলা হলে তারা উভয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দিয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম আপছার বলেন, জবানবন্ধী প্রদানকালে উভয় আসামী বলেন, ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে তারা প্রীতি রানী ত্রিপুরাকে ধরে খাগড়াছড়ি শহরের খাগড়াপুর এলাকার একটি ক্লাবে নিয়ে যায় এবং সেখানে জেএসএস (এমএন লারমা) গ্রæফের অনেক নেতা/কর্মী উপস্থিত ছিলো। তাদের মধ্যে একজন লাথি দিয়ে প্রীতি রানী ত্রিপুরাকে ক্লাবে ডুকায়। পরে তারাসহ জেএসএস নেতারা তাকে (প্রীতি রানী ত্রিপুরা) চড়, থাপ্পর, কিল-ঘুষি মারে এবং কেন বাঙ্গালী ছেলেকে ভালোবেসেছে সেই সম্পর্কে জানতে চায়। প্রীতি রানী ত্রিপুরা চিৎকারের চেষ্ঠা করলে এক পর্যায়ে তার মুখে কস্টটেপ লাগালো হয় এবং অপরজন প্রীতি রানী ত্রিপুরার মাথায় লাঠি দিয়ে বাড়ি মারলে সেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে কয়েকজনে মিলে তাকে সিএনজিতে তুলে দীঘিনালা সড়কের রাবার বাগান এলাকায় ফেলে যায়। পুলিশ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তার মৃত দেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের স্বার্থে নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেননি।
এর আগে, বিগত ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ইং তারিখে গৃহবধু প্রীতি রানী ত্রিপুরাকে হত্যার অভিযোগে জেলার পানছড়ি উপজেলার কলোনীপাড়া এলাকার বাহার মিয়ার ছেলে আসাদুল ইসলাম রাসেল, সাওতালপাড়া এলাকার তারা মিয়ার ছেলে আল আমিন এবং দমদম এলাকার মৃত আবদুল বারেকের ছেলে কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করেন।
বিগত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ইং তারিখে গ্রেফতারকৃতদের তিন সন্দেহভাজনকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের কোর্টে তোলা হয় এবং ৭দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত উভয়পক্ষের শুনানী শেষে ১নং সন্দেভাজন আসামীকে ২দিন এবং ২ ও ৩নং সন্দেহভাজনকে ১দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ১নং আসামী আসাদুল ইসলামকে আরো ১দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলো বিজ্ঞআদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মোঃ গোলাম আপছার জানান ভিকটিম প্রীতি রানী ত্রিপুরা বিবাহিত ছিলো। সে খাগড়াছড়ি সদরের চম্পাঘাট এলাকার হরিশংকর ত্রিপুরার স্ত্রী ছিলো এবং বিবাহিত জীবনে তাদের পরিবারে রাতুল মনি ত্রিপুরা নামে ৬ বছরের একটি পুত্র সন্তানও ছিলো। ভিকটিমের মোবাইল কল ডিটেলস পরীক্ষা করে বুঝা যায় সন্দেহভাজন আসামী আসাদুল ইসলামের সাথে ভিকটিমের গত জানুয়ারী, ২০১৯ থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই সুত্র ধরে ভিকটিম ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ চট্টগ্রামে যায় এবং ৩দিন অবস্থান করে । অবস্থানকালীন সময়ে ভিকটিম আসাদুলের সাথে একাধিকবার কথা বলে। এই সুত্র ধরেই আসাদুল এবং তার দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। তবে ৬ জানুয়ারী ধন লাল ত্রিপুরা এবং কল্প ত্রিপুরাকে গ্রেফতার করলে আসল সত্য বেরিয়ে আসে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, ধন লাল ত্রিপুরা ও কল্প ত্রিপুরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দেবার পর ৭ জানুয়ারী আসাদুল ইসলাম ও আল আমিনকে জামিনে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকান্ডটি আলোচিত হত্যাকান্ড ছিলো এবং এনিয়ে বেশ কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ-সমাবেশ করার পাশাপাশি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিলো এবং দোষীদের গ্রেফতার দাবী করা হয়েছিলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

খাগড়াছড়িতে গৃহবধু প্রীতি রানী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী

আপডেট সময় : ০৪:১৭:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২০

মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি: মারধোর ও নির্যাতনের কারণেই গৃহবধু প্রীতি রানী ত্রিপুরার মৃত্যু হয় বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দিয়েছেন দুই আসামী ধনলাল ত্রিপুরা এবং কল্প ত্রিপুরা। জবানবন্ধী প্রদানকালে তারা বলেন, বাঙ্গালি এক ছেলের সাথে প্রীতি রানী ত্রিপুরার ভালোবাসার সম্পর্ক থাকার কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে তারা তাকে মারধোর ও নির্যাতন করে। যার ফলে ঘটনাস্থলে প্রীতি রানী ত্রিপুরা ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে মারা যায়। পরে তার লাশ একটি সিএনজিতে করে নিয়ে দীঘিনালা সড়কের রাবার বাগান এলাকায় রেখে আসে।
জেলার পানছড়ি উপজেলার রামসিং দেওয়ান পাড়া এলাকার পতেন্দ্র লাল ত্রিপুরার ছেলে ধন লাল ত্রিপুরা (২০) এবং দীঘিনালা উপজেলার বাশিরাম পাড়া এলাকার ওমকেশর ত্রিপুরার ছেলে কল্প ত্রিপুরা(১৯) কে আদালতে তোলা হলে তারা উভয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দিয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম আপছার বলেন, জবানবন্ধী প্রদানকালে উভয় আসামী বলেন, ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে তারা প্রীতি রানী ত্রিপুরাকে ধরে খাগড়াছড়ি শহরের খাগড়াপুর এলাকার একটি ক্লাবে নিয়ে যায় এবং সেখানে জেএসএস (এমএন লারমা) গ্রæফের অনেক নেতা/কর্মী উপস্থিত ছিলো। তাদের মধ্যে একজন লাথি দিয়ে প্রীতি রানী ত্রিপুরাকে ক্লাবে ডুকায়। পরে তারাসহ জেএসএস নেতারা তাকে (প্রীতি রানী ত্রিপুরা) চড়, থাপ্পর, কিল-ঘুষি মারে এবং কেন বাঙ্গালী ছেলেকে ভালোবেসেছে সেই সম্পর্কে জানতে চায়। প্রীতি রানী ত্রিপুরা চিৎকারের চেষ্ঠা করলে এক পর্যায়ে তার মুখে কস্টটেপ লাগালো হয় এবং অপরজন প্রীতি রানী ত্রিপুরার মাথায় লাঠি দিয়ে বাড়ি মারলে সেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে কয়েকজনে মিলে তাকে সিএনজিতে তুলে দীঘিনালা সড়কের রাবার বাগান এলাকায় ফেলে যায়। পুলিশ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তার মৃত দেহ উদ্ধার করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের স্বার্থে নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেননি।
এর আগে, বিগত ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ইং তারিখে গৃহবধু প্রীতি রানী ত্রিপুরাকে হত্যার অভিযোগে জেলার পানছড়ি উপজেলার কলোনীপাড়া এলাকার বাহার মিয়ার ছেলে আসাদুল ইসলাম রাসেল, সাওতালপাড়া এলাকার তারা মিয়ার ছেলে আল আমিন এবং দমদম এলাকার মৃত আবদুল বারেকের ছেলে কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করেন।
বিগত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ইং তারিখে গ্রেফতারকৃতদের তিন সন্দেহভাজনকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের কোর্টে তোলা হয় এবং ৭দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত উভয়পক্ষের শুনানী শেষে ১নং সন্দেভাজন আসামীকে ২দিন এবং ২ ও ৩নং সন্দেহভাজনকে ১দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ১নং আসামী আসাদুল ইসলামকে আরো ১দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলো বিজ্ঞআদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মোঃ গোলাম আপছার জানান ভিকটিম প্রীতি রানী ত্রিপুরা বিবাহিত ছিলো। সে খাগড়াছড়ি সদরের চম্পাঘাট এলাকার হরিশংকর ত্রিপুরার স্ত্রী ছিলো এবং বিবাহিত জীবনে তাদের পরিবারে রাতুল মনি ত্রিপুরা নামে ৬ বছরের একটি পুত্র সন্তানও ছিলো। ভিকটিমের মোবাইল কল ডিটেলস পরীক্ষা করে বুঝা যায় সন্দেহভাজন আসামী আসাদুল ইসলামের সাথে ভিকটিমের গত জানুয়ারী, ২০১৯ থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই সুত্র ধরে ভিকটিম ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ চট্টগ্রামে যায় এবং ৩দিন অবস্থান করে । অবস্থানকালীন সময়ে ভিকটিম আসাদুলের সাথে একাধিকবার কথা বলে। এই সুত্র ধরেই আসাদুল এবং তার দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। তবে ৬ জানুয়ারী ধন লাল ত্রিপুরা এবং কল্প ত্রিপুরাকে গ্রেফতার করলে আসল সত্য বেরিয়ে আসে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, ধন লাল ত্রিপুরা ও কল্প ত্রিপুরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দেবার পর ৭ জানুয়ারী আসাদুল ইসলাম ও আল আমিনকে জামিনে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকান্ডটি আলোচিত হত্যাকান্ড ছিলো এবং এনিয়ে বেশ কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ-সমাবেশ করার পাশাপাশি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিলো এবং দোষীদের গ্রেফতার দাবী করা হয়েছিলো।