সংবাদ শিরোনাম ::
চুয়াডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলার ১৭ বছর পর দুজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড চুয়াডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলার ১৭ বছর পর দুজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড বরিশালে ডেলটা লাইফ ইনসিওরেন্সের একক বীমার বিশেষ উন্নয়ন সভা অনুণ্ঠিত নানা আয়োজনে ঝালকাঠিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত ঝালকাঠি জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুরের বিরামপুরে দিনব্যাপী জব কেয়ার চাকুরী মেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ ঝালকাঠি জেলা পরিষদের জমি ইজারা নিয়ে গণশুনানি, অবৈধ দখল উচ্ছেদের ঘোষণা বিষখালী নদীতে মৎস্য অভিযান, আটক ৫ ৪০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জনের কারাদণ্ড অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ‘অর্ণব’, চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

“খুনি নিষ্ঠুর বোরহানের মৃত্যুদণ্ড বহাল ভাই,ভাবী,ভাতিঝিকে খুন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ৩৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বি এম মনির হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার :-

সে যেন এক ‘নিষ্ঠুর’ ভাই! প্রথমে বড় ভাইকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ। অত:পর, কারাগার থেকে বের হয়ে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা! অবশেষে খুনি বোরহান উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।

বুধবার ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোঃ কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ খুনি বোরহান উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলার শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহানা আফরোজ রুনা, শোভনা বানু ও শামসুন্নাহার লাইজু। আর আসামি বোরহান উদ্দিনের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী রওশন আরা।

এ মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়: কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানার নামাসিদলা গ্রামের বোরহান উদ্দিন পারিবারিক কলহের প্রেক্ষাপটে ১৯৯৩ সালে তার আপন বড় ভাই সোহরাব উদ্দিকে হত্যা করেন। এ হত্যার দায়ে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। বোরহান কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মা-বাবা সকল সম্পত্তি লিখে দেন বোরহানের ছোট ভাই ওমর ফারুকের নামে। পরবর্তীকালে মারা যান বোরহান ও ওমর ফারুকের মা-বাবা।

একপর্যায়ে ২১ বছর জেল খেটে কারাগার থেকে বের হন বোরহান। এরপর তিনি পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ চান ছোট ভাই ওমর ফারুকের কাছে। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কলহ শুরু হয়। এ কলহের জের ধরে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করে বের হওয়ার মাত্র দেড় মাসের মাথায় ২০১৩ সালের ১ আগস্ট বোরহান লাঠি দিয়ে আঘাত করে একে একে খুন করে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নাজমা ও দুই শিশু পুত্রকে। এরপর তিন জনের নিথর দেহ ঘরের বারান্দার লাকড়ির মধ্যে লুকিয়ে রাখে বোরহান। এসময় নাজমার ছোট্ট দুই মেয়ে ফাতেমা ও পিংকি মাদ্রাসায় ছিল। তিন জনকে হত্যার নির্মম ঘটনার পরই বোরহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীকালে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বোরহান। এরপর এ হত্যা মামলার বিচার শেষে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বোরহানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন কিশোরগঞ্জের আদালত।

এরপর এ মামলার মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। অপরদিকে জেলা আপিল করে খালাস চান বোরহান। ওই ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানি শেষে বুধবার হাইকোর্ট নিষ্ঠুর খুনি বোরহান উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।

আলোচিত এ রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিক বি এম মনির হোসেনকে বলেন ‘নির্মম এ হত্যা মামলায় খুনি বোরহান উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় আমারা সন্তুষ্ট। নিষ্ঠুর এই খুনির ফাঁসি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত আইনি যে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তা নেয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

“খুনি নিষ্ঠুর বোরহানের মৃত্যুদণ্ড বহাল ভাই,ভাবী,ভাতিঝিকে খুন

আপডেট সময় : ০৪:৪০:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯

বি এম মনির হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার :-

সে যেন এক ‘নিষ্ঠুর’ ভাই! প্রথমে বড় ভাইকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ। অত:পর, কারাগার থেকে বের হয়ে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা! অবশেষে খুনি বোরহান উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।

বুধবার ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোঃ কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ খুনি বোরহান উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলার শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহানা আফরোজ রুনা, শোভনা বানু ও শামসুন্নাহার লাইজু। আর আসামি বোরহান উদ্দিনের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী রওশন আরা।

এ মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়: কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানার নামাসিদলা গ্রামের বোরহান উদ্দিন পারিবারিক কলহের প্রেক্ষাপটে ১৯৯৩ সালে তার আপন বড় ভাই সোহরাব উদ্দিকে হত্যা করেন। এ হত্যার দায়ে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। বোরহান কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মা-বাবা সকল সম্পত্তি লিখে দেন বোরহানের ছোট ভাই ওমর ফারুকের নামে। পরবর্তীকালে মারা যান বোরহান ও ওমর ফারুকের মা-বাবা।

একপর্যায়ে ২১ বছর জেল খেটে কারাগার থেকে বের হন বোরহান। এরপর তিনি পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ চান ছোট ভাই ওমর ফারুকের কাছে। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কলহ শুরু হয়। এ কলহের জের ধরে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করে বের হওয়ার মাত্র দেড় মাসের মাথায় ২০১৩ সালের ১ আগস্ট বোরহান লাঠি দিয়ে আঘাত করে একে একে খুন করে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নাজমা ও দুই শিশু পুত্রকে। এরপর তিন জনের নিথর দেহ ঘরের বারান্দার লাকড়ির মধ্যে লুকিয়ে রাখে বোরহান। এসময় নাজমার ছোট্ট দুই মেয়ে ফাতেমা ও পিংকি মাদ্রাসায় ছিল। তিন জনকে হত্যার নির্মম ঘটনার পরই বোরহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীকালে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বোরহান। এরপর এ হত্যা মামলার বিচার শেষে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বোরহানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন কিশোরগঞ্জের আদালত।

এরপর এ মামলার মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। অপরদিকে জেলা আপিল করে খালাস চান বোরহান। ওই ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানি শেষে বুধবার হাইকোর্ট নিষ্ঠুর খুনি বোরহান উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।

আলোচিত এ রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিক বি এম মনির হোসেনকে বলেন ‘নির্মম এ হত্যা মামলায় খুনি বোরহান উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় আমারা সন্তুষ্ট। নিষ্ঠুর এই খুনির ফাঁসি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত আইনি যে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তা নেয়া হবে।’