সংবাদ শিরোনাম ::
অগ্রিম সতর্কতা: শুরু হওয়ার আগেই ৭,০০০ রিংগিতের নতুন ‘ভিসা ফাঁদ’ পাকাচ্ছে সিন্ডিকেট বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সুইজগেট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনি – জয়নুল আবেদীন এমপি বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

যৌতুক জন্য স্ত্রীকে আটকে নির্মম ভাবে পিটিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর । আজকের ক্রাইম নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৯ ২৮৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া বিদেশে যাওয়ার তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি তুলে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে আটকে নির্মম ভাবে পিটিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে আহত গৃহবধূকে হাসপাতালে না নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে সালিসের কথা বলে তার পরিবারের লোকজনকে খবর দেয় গৃহবধূর শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে আহত গৃহবধূকে ইউনিয়নর পরিষদ থেকে উদ্ধার করে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। মঠবাড়িয়া উপজেলার সবুজনগর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে গৃহবধূ মিতু আক্তার(১৯) গত দুইদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
নির্যাতিত গৃহবধূ মিতুর মা পাখি বেগম অভিযোগ করেন, গত ছয়মাস আগে পারিবারিক সম্মতিতে পার্শ্ববর্তী বরগুনা উপজেলার কড়ইতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসি মো. জাহাঙ্গীর আকনের ছেলে মো. জাহিদ আকনের সাথে মিতুর আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষের সকল দাবি দাওয়া পূরণ করে কণে পক্ষ। সেই সাথে বিয়ের সময় স্বামী জাহিদ ঢাকায় চাকুরি করেন এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ বিয়ে করে। বিয়ের পর বেকার জাহিদ নানা ভাবে স্ত্রীকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। স্বামী জাহিদের পিতা সৌদি প্রবাসি। গত ১৫দিন আগে সে বাড়িতে আসলে মিতুর পরিবারকে দাওয়াত দিয়ে তাদের বাড়িতে নেন। এরপর দুই পরিবারের বৈঠকে মিতুর স্বামীকে বিদেশ পাঠানোর কথা ওঠে। সেখানে বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী জাহিদের পরিবার। মিতুর পরিবার এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর থেকেই স্বামী ও পরিরারের লোকজন গৃহবধূ মিতুর ওপর নির্দয় আচরণ শুরু করে। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) জাহিদ তার স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্দয়ভাবে পেটায়। গত মঙ্গলবার রাতে মিতুকে দড়িদিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্মম ভাবে মারপিট করেন জাহিদ। সাত দিনের মধ্যে টাকা না দিলে জানে মেরে ফেলবে এমন হুমকী দেয়। এ নির্যাতনে গৃহবধুর শ্বাশড়ি কনক বেগম ও ননদ শেফালি আক্তারও মারপিটে অংশ নেয়। গৃহবধূ গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে তার পরিবারের কাছে শালিসীর কথা বলে বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়ন পরিষদে আসতে খবর দেন। মিতুর পরিবারের স্বজনরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মিতু গুরুতর আহত অবস্থায় দেখেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিতুকে তার পরিবারের কাছে তুলে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি পরামর্শ দেন। পরে মঠবাড়িয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানের সহায়তায় মিতুকে মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ ছনিয়া আক্তার বলেন, মিতুর শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি মানুষিক ও শারীরিক ভাবে অনেক অসুস্থ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যৌতুক জন্য স্ত্রীকে আটকে নির্মম ভাবে পিটিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর । আজকের ক্রাইম নিউজ

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৯

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া বিদেশে যাওয়ার তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি তুলে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে আটকে নির্মম ভাবে পিটিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে আহত গৃহবধূকে হাসপাতালে না নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে সালিসের কথা বলে তার পরিবারের লোকজনকে খবর দেয় গৃহবধূর শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে আহত গৃহবধূকে ইউনিয়নর পরিষদ থেকে উদ্ধার করে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। মঠবাড়িয়া উপজেলার সবুজনগর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে গৃহবধূ মিতু আক্তার(১৯) গত দুইদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
নির্যাতিত গৃহবধূ মিতুর মা পাখি বেগম অভিযোগ করেন, গত ছয়মাস আগে পারিবারিক সম্মতিতে পার্শ্ববর্তী বরগুনা উপজেলার কড়ইতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসি মো. জাহাঙ্গীর আকনের ছেলে মো. জাহিদ আকনের সাথে মিতুর আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষের সকল দাবি দাওয়া পূরণ করে কণে পক্ষ। সেই সাথে বিয়ের সময় স্বামী জাহিদ ঢাকায় চাকুরি করেন এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ বিয়ে করে। বিয়ের পর বেকার জাহিদ নানা ভাবে স্ত্রীকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। স্বামী জাহিদের পিতা সৌদি প্রবাসি। গত ১৫দিন আগে সে বাড়িতে আসলে মিতুর পরিবারকে দাওয়াত দিয়ে তাদের বাড়িতে নেন। এরপর দুই পরিবারের বৈঠকে মিতুর স্বামীকে বিদেশ পাঠানোর কথা ওঠে। সেখানে বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী জাহিদের পরিবার। মিতুর পরিবার এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর থেকেই স্বামী ও পরিরারের লোকজন গৃহবধূ মিতুর ওপর নির্দয় আচরণ শুরু করে। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) জাহিদ তার স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্দয়ভাবে পেটায়। গত মঙ্গলবার রাতে মিতুকে দড়িদিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্মম ভাবে মারপিট করেন জাহিদ। সাত দিনের মধ্যে টাকা না দিলে জানে মেরে ফেলবে এমন হুমকী দেয়। এ নির্যাতনে গৃহবধুর শ্বাশড়ি কনক বেগম ও ননদ শেফালি আক্তারও মারপিটে অংশ নেয়। গৃহবধূ গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে তার পরিবারের কাছে শালিসীর কথা বলে বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়ন পরিষদে আসতে খবর দেন। মিতুর পরিবারের স্বজনরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মিতু গুরুতর আহত অবস্থায় দেখেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিতুকে তার পরিবারের কাছে তুলে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি পরামর্শ দেন। পরে মঠবাড়িয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমানের সহায়তায় মিতুকে মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঠবাড়িয়া উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ ছনিয়া আক্তার বলেন, মিতুর শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি মানুষিক ও শারীরিক ভাবে অনেক অসুস্থ।