সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সুইজগেট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনি – জয়নুল আবেদীন এমপি বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক কাঁঠালিয়ায় ৮ পিস ইয়াবাসহ কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আটক ও স্থায়ী বহিষ্কার

ফুঁসে উঠেছে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ইছাকাঠীর বাসিন্দারা। এ ঘটনার জন্য দায়ী বিমানবন্দর থানার উপ পরিদর্শক এনামুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ১৭২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেএসসি পরীক্ষার্থী মুহিম খন্দকারকে (১৪) ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো ও থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ইছাকাঠীর বাসিন্দারা। এ ঘটনার জন্য দায়ী বিমানবন্দর থানার উপ পরিদর্শক এনামুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সোমবার দুপুরে নগরীর কাশীপুর বাজার সংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেছেন। বিভিন্ন শ্রেণীর-পেশার মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ক্ষুব্দ মত প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে মানবধিকার কমিশন বিমান বন্দর থানা শাখার সভাপতি মুকুল মুখার্জী বলেন, মুহিম খন্দকার একটি নিরীহ কিশোর। এলাকার শতভাগ মানুষ এ সত্য স্বীকার করবেন। তাকে আটকের পর স্থানীয় নারী-পুরুষ উপস্থিত হয়ে এ কথা বলেছে। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও গণ্যমান্যগন থানায় গিয়েও একই কথা বলেছেন।

পুলিশ সবকিছু উপেক্ষা করে তাকে থানায় এনে অমানুষিক নির্যাতন করেছে এবং একটি মনগড়া এজাহার লিখে আদালতে পাঠিয়েছে। এটা শিশু নির্যাতনের শামিল। তিনি দায়ী এসআই এনামুল হকের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া দাবী জানিয়েছেন। মানববন্ধনে অংশ নেয়া এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, নিরিহ শিশু ছাত্র মুহিমকে এভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ায় এখন তারা আতংকে রয়েছেন সন্তান নিয়ে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাচ্চু বলেন, কারাবন্দী কিশোর মুহিমের জামিন চেয়ে সোমবার আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার শিশু আদালতে আবেদনের শুনানী হবে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম ইছাকাঠীতে বাড়ির সামনে থেকে মুহিম খন্দকারকে আটকের পর তার কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে অভিযোগ তুলে আটক করে নিয়ে যায় এবং ১৪ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করেছেন এসআই এনামুল হক। তবে ওই মামলার স্বাক্ষীসহ উপস্থিত অন্যান্যরা জানান, পুলিশ তাৎক্ষনিক তাদের ইয়াবা দেখাতে পারেনি।

তার মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে অন্য দুই পুলিশ সদস্য আসার তল্লাসীর নামে অন্ধকারের মধ্যে বাগান থেকে ইয়াবাসহ একটি সিগারেটের প্যাকেট উদ্ধার করেছে। যা পুরোটাই পুলিশের সাজানো বলে তাদের দাবী। মুহিম খন্দকারের বাবা সাইদুর রহমান হিরন জানান, জমিজমা নিয়ে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে তার বিরোধ করেছে। তাদের যোগাসাজসে পুলিশ কথিত ইয়াবা উদ্ধার নাটক সাজিয়েছে।

এদিকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো এবং এক কিশোরকে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করার ঘটনায় গনমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় এসআই এনামুল নিজেকে বাঁচাতে সমঝোতার প্রস্তাবসহ নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন।

এ ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) মোখতার হোসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফুঁসে উঠেছে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ইছাকাঠীর বাসিন্দারা। এ ঘটনার জন্য দায়ী বিমানবন্দর থানার উপ পরিদর্শক এনামুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি।

আপডেট সময় : ০২:৪৮:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

জেএসসি পরীক্ষার্থী মুহিম খন্দকারকে (১৪) ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো ও থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ইছাকাঠীর বাসিন্দারা। এ ঘটনার জন্য দায়ী বিমানবন্দর থানার উপ পরিদর্শক এনামুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সোমবার দুপুরে নগরীর কাশীপুর বাজার সংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেছেন। বিভিন্ন শ্রেণীর-পেশার মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ক্ষুব্দ মত প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে মানবধিকার কমিশন বিমান বন্দর থানা শাখার সভাপতি মুকুল মুখার্জী বলেন, মুহিম খন্দকার একটি নিরীহ কিশোর। এলাকার শতভাগ মানুষ এ সত্য স্বীকার করবেন। তাকে আটকের পর স্থানীয় নারী-পুরুষ উপস্থিত হয়ে এ কথা বলেছে। ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও গণ্যমান্যগন থানায় গিয়েও একই কথা বলেছেন।

পুলিশ সবকিছু উপেক্ষা করে তাকে থানায় এনে অমানুষিক নির্যাতন করেছে এবং একটি মনগড়া এজাহার লিখে আদালতে পাঠিয়েছে। এটা শিশু নির্যাতনের শামিল। তিনি দায়ী এসআই এনামুল হকের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া দাবী জানিয়েছেন। মানববন্ধনে অংশ নেয়া এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, নিরিহ শিশু ছাত্র মুহিমকে এভাবে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ায় এখন তারা আতংকে রয়েছেন সন্তান নিয়ে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাচ্চু বলেন, কারাবন্দী কিশোর মুহিমের জামিন চেয়ে সোমবার আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার শিশু আদালতে আবেদনের শুনানী হবে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম ইছাকাঠীতে বাড়ির সামনে থেকে মুহিম খন্দকারকে আটকের পর তার কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে অভিযোগ তুলে আটক করে নিয়ে যায় এবং ১৪ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করেছেন এসআই এনামুল হক। তবে ওই মামলার স্বাক্ষীসহ উপস্থিত অন্যান্যরা জানান, পুলিশ তাৎক্ষনিক তাদের ইয়াবা দেখাতে পারেনি।

তার মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে অন্য দুই পুলিশ সদস্য আসার তল্লাসীর নামে অন্ধকারের মধ্যে বাগান থেকে ইয়াবাসহ একটি সিগারেটের প্যাকেট উদ্ধার করেছে। যা পুরোটাই পুলিশের সাজানো বলে তাদের দাবী। মুহিম খন্দকারের বাবা সাইদুর রহমান হিরন জানান, জমিজমা নিয়ে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে তার বিরোধ করেছে। তাদের যোগাসাজসে পুলিশ কথিত ইয়াবা উদ্ধার নাটক সাজিয়েছে।

এদিকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো এবং এক কিশোরকে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করার ঘটনায় গনমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় এসআই এনামুল নিজেকে বাঁচাতে সমঝোতার প্রস্তাবসহ নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন।

এ ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) মোখতার হোসেন।