২২ Jun ২০২৪, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি, শনিবার, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
সর্বশেষ সংবাদ :
বাবুগঞ্জে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ফারজানা বিনতে ওহাব কে সংবর্ধনা বরগুনার আমতলীতে ব্রিজ ভেঙে মাইক্রোবাস খালে পড়ে ১০ বরযাত্রী নিহত দামুড়হুদায় সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু দর্শনায় ৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ সাগর গ্রেফতার সময় টেলিভিশনের পরিচয়ে প্রতারণা,র অভিযোগে প্রতারক রেজাউল সরদারকে ডিবি পুলিশ আটক করে বরিশালে বেকারীর গোডাউন থেকে সরকারি চাল উদ্ধার নলছিটির ফুয়াদ কাজী হত্যার কিলার মিজানুর রহমান গ্রেফতার হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার নলসিটি থানা অভ্যন্তরে সাংবাদিকে মারধর পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত বিরামপুরে পরকীয়ায় আসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর থানায় অভিযোগ বানারীপাড়ায় অগ্নিকান্ডে পুড়েছে বসতঘরসহ ৮টি দোকান
সিরাজউদ্দৌলাকে কারাগারে নেয়ার সময় উপস্থিত কয়েকশ জনতা ‘ধর, ধর’ বলে চিৎকার করতে থাকে।

সিরাজউদ্দৌলাকে কারাগারে নেয়ার সময় উপস্থিত কয়েকশ জনতা ‘ধর, ধর’ বলে চিৎকার করতে থাকে।

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ আসামিরই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

একইসঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই টাকা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের দিন আদালত চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। রায় শুনে তারা বলেছেন, উচিত রায় হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর পুলিশ আদালতের তিনতলার এজলাস থেকে প্রধান আসামি সিরাজউদ্দৌলাকে কারাগারে নেয়ার জন্য প্রিজনভ্যানে ওঠায়। গাড়িতে ওঠানোর আগে উপস্থিত কয়েকশ জনতা ‘ধর, ধর’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় অনেকে সিরাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর চেয়ে স্লোগান দেন।

এছাড়া প্রিজনভ্যানে তোলার পর অন্যান্য আসামি সিরাজকে হঠাৎ করেই পেটাতে থাকেন। সে সময় তাকে বুকে-মুখে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করেন।

অধ্যক্ষ সিরাজকে মারতে মারতে এ সময় আসামিদের কেউ কেউ বলতে থাকেন, ‘তোর কারণে আমাদের ফাঁসি হয়েছে।’

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ফাঁসির আদেশ পাওয়া ১৬ জন হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আবদুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে যৌন হয়রানি করেন।

এ ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে রাফির পরিবারকে হুমকি দেয়া হয়।

৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদ্রাসার কেন্দ্রে যায় রাফি। এ সময় বোরকা পরিহিত কয়েকজন তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। রাজি না হলে রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় তারা।

এতে রাফির পুরো শরীর দগ্ধ হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

রাফি হত্যা মামলায় পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ২১ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে। পরে ২৯ মে ১৬ জনকে আসামি করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।

চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।

২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। এরপর ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন সাক্ষ্য দেন আদালতে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019