১৯ মে ২০২৪, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি, রবিবার, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
সর্বশেষ সংবাদ :
পটুয়াখালীতে ফোন চাওয়ায় মায়ের বকাঝকা, এসএসসি পাস শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা আগৈলঝাড়ায় শুক্রবার রাতে স্কুল ছাত্রী ও গৃহবধুর আত্মহত্যা বরিশাল নগরী বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ট্রাফিক পুলিশের সচেতনমূলক অভিযান বাবুগঞ্জে অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জনগনের ভালবাসায় এগিয়ে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী চায়না খানম ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি চেষ্টা মামলায় কারাগারে মাদরাসা সুপার চাঁদপাশায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফারজানা বিনতে ওহাব এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত রিকশাচালককে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়া সেই পুলিশ সদস্য ক্লোজড বরিশালে স্বামীর জমানো টাকা নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী তেঁতুলিয়া হাসপাতালে অকেজো মালামাল টেন্ডারে ঘাবলা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
স্ত্রীকে সাজিয়ে নিয়ে হত্যা, বাড়িতে এসে পোলাও মাংস রান্না করে উৎসব

স্ত্রীকে সাজিয়ে নিয়ে হত্যা, বাড়িতে এসে পোলাও মাংস রান্না করে উৎসব

অনলাইন ডেস্ক: পার্কে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ ডোবায় রেখে বাসায় ফিরে পোলাও মাংস রান্না করে উৎসব পালন করেছেন মিরপুরের শাহ আলী এলাকার এক কিশোর গ্যাং লিডার। নিহত স্ত্রীর নাম বন্যা (১৭) আর ওই গ্যাং লিডারের নাম রুবেল (১৮)।

হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে রুবেল ও তার সহযোগী তারিকুল (১৭) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে শাহ আলী থানা-পুলিশ শনিবার জানিয়েছে।

শাহ আলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, বেড়ানোর কথা বলে কিশোর গ্যাং লিডার রুবেল তার স্ত্রীকে বন্যাকে নিয়ে রাজধানীর বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে যায় গত ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার। সুযোগ বুঝে সহযোগী তারিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বন্যাকে খুন করে লাশ ডোবায় ডুবিয়ে রাখে। বন্যার বাবা জসিম উদ্দিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বোটানিক্যাল গার্ডেনের ডোবা থেকে বন্যার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এই হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে রুবেল ও তার সহযোগী তরিকুলকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালত জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

বন্যার বাবা জসিম উদ্দিন জানান, এক সময় রূপনগর আবাসিক এলাকায় পাশাপাশি বাসায় থাকতেন তিনি ও রুবেলের পরিবার। একপর্যায়ে রুবেল ও বন্যার মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের মধ্যে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। কিছুদিন আগে রুবেলের বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে বন্যার পরিবারের সবাইকে হত্যা করারও হুমকি দেন। ওই সময় তিনি বলেন, ‘যা করা লাগে আমি করব; তুই ব্যবস্থা কর। এরপরই রুবেল তার স্ত্রী বন্যাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

বন্যার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন বন্যাকে পাশেই একটি বিউটি পারলারে সাজগোজ করার জন্য নিয়ে যায় রুবেল। সেখান থেকে সাজগোজ শেষে রুবলে বোটানিক্যালয় গার্ডেনে বেড়ানোর কথা বলে বন্যাকে নিয়ে যায়। নির্জন এলাকায় আগে থেকে ঘাপটি মেরে থানা তরিকুল ও রুবেল মিলে বন্যার ওড়না দিয়ে তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর তার লাশ ডোবায় ডুবিয়ে রাখে। বন্যা হত্যার পর রুবেলের বাড়িতে উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেখানে তারা মাংস-পোলাও রান্না করে খাবার আয়োজন করে। এতে রুবেলের বন্ধু তরিকুলসহ আরও কয়েকজন অংশ নেয়।

এদিকে বন্যার খোঁজ না পেয়ে তার মা পপি আক্তার বাদী হয়ে রাজধানীর শাহ আলী থানায় মামলা করেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বোটানিক্যাল গার্ডেনের ডোবা থেকে বন্যার লাশ উদ্ধার করে শাহ আলী থানা-পুলিশ। লাশ খোঁজার অভিযানের রুবেল ও তরিকুলও পুলিশকে সহযোগিতা করে। পরে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রথমে রুবেলকে ও তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তরিকুলকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গ্রেফতারের পর শুক্রবার তারা বন্যাকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019