সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।

বিচারকের সন্তানকে আসন ছেড়ে না দেওয়ায় নারীর মাথা ফাটালেন দেহরক্ষী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৯২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

মাদারীপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দেহরক্ষীর রিভলবারের বাঁটের আঘাতে মাথা ফেটে সাদিয়া ইসলাম নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে মাথায় ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে। বিচারকের সন্তানকে ‘ভিআইপি যাত্রী’ দাবি করে তাকে আসন ছেড়ে দিতে বলেছিলেন ওই দেহরক্ষী। সাদিয়া তাতে রাজি না হওয়ায় এ নির্যাতন নেমে আসে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে মাদারীপুর শিল্প-সংস্কৃতি ও বাণিজ্য মেলায়। মেলায় শিশুদের চড়ার জন্য নৌকায় (বোটে) ওঠা নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন দেহরক্ষী।

জানা গেছে, ইউরোপ প্রবাসী স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসেন ডাসার উপজেলার পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের সাদিয়া। তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে আগে ওঠেন নৌকায়। এ সময় বিচারক মামুনুর রশীদের সন্তান সেখানে গিয়ে হাজির হয়। বিচারকের দেহরক্ষী মো. ইব্রাহিম ওই নারীকে তাঁর সন্তানদের নৌকা থেকে নামাতে বলেন। সাদিয়া তাতে রাজি হননি। তখন ইব্রাহিম বলেন, ‘এ বাচ্চা ভিআইপি যাত্রী। তাকে আগে উঠতেই দিতে হবে।’

এ নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে ইব্রাহিম তাঁর কোমরে থাকা রিভলবার বের করে বলেন, নারী না হলে আপনাকে অনেক কিছু করতাম। এর পরে দু’জনের হাতাহাতি শুরু হয়। পরে ইব্রাহিম রিভলবারের বাঁট দিয়ে সাদিয়াকে আঘাত করলে তাঁর মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। তখন তাঁর হাতে থাকা মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতলে নেওয়া হয়।

বিচারক মামুনুর রশীদ ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী আহত ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ ঘটনায় সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ভুক্তভোগীর স্বামী রফিকুল হাসান বিচারকের দেহরক্ষীসহ জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।

সাদিয়া বলেন, দেহরক্ষী ইব্রাহিম প্রথমে কিল-ঘুষি দেন এবং পরে বন্দুক বের করে মাথায় একাধিক আঘাত করেন।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ভুক্তভোগী অভিযোগ না দিলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করা হবে। অভিযুক্ত দোষী হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিচারকের সন্তানকে আসন ছেড়ে না দেওয়ায় নারীর মাথা ফাটালেন দেহরক্ষী

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

আজকের ক্রাইম ডেক্স

মাদারীপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দেহরক্ষীর রিভলবারের বাঁটের আঘাতে মাথা ফেটে সাদিয়া ইসলাম নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে মাথায় ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে। বিচারকের সন্তানকে ‘ভিআইপি যাত্রী’ দাবি করে তাকে আসন ছেড়ে দিতে বলেছিলেন ওই দেহরক্ষী। সাদিয়া তাতে রাজি না হওয়ায় এ নির্যাতন নেমে আসে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে মাদারীপুর শিল্প-সংস্কৃতি ও বাণিজ্য মেলায়। মেলায় শিশুদের চড়ার জন্য নৌকায় (বোটে) ওঠা নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন দেহরক্ষী।

জানা গেছে, ইউরোপ প্রবাসী স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসেন ডাসার উপজেলার পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের সাদিয়া। তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে আগে ওঠেন নৌকায়। এ সময় বিচারক মামুনুর রশীদের সন্তান সেখানে গিয়ে হাজির হয়। বিচারকের দেহরক্ষী মো. ইব্রাহিম ওই নারীকে তাঁর সন্তানদের নৌকা থেকে নামাতে বলেন। সাদিয়া তাতে রাজি হননি। তখন ইব্রাহিম বলেন, ‘এ বাচ্চা ভিআইপি যাত্রী। তাকে আগে উঠতেই দিতে হবে।’

এ নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে ইব্রাহিম তাঁর কোমরে থাকা রিভলবার বের করে বলেন, নারী না হলে আপনাকে অনেক কিছু করতাম। এর পরে দু’জনের হাতাহাতি শুরু হয়। পরে ইব্রাহিম রিভলবারের বাঁট দিয়ে সাদিয়াকে আঘাত করলে তাঁর মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। তখন তাঁর হাতে থাকা মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতলে নেওয়া হয়।

বিচারক মামুনুর রশীদ ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী আহত ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ ঘটনায় সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ভুক্তভোগীর স্বামী রফিকুল হাসান বিচারকের দেহরক্ষীসহ জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।

সাদিয়া বলেন, দেহরক্ষী ইব্রাহিম প্রথমে কিল-ঘুষি দেন এবং পরে বন্দুক বের করে মাথায় একাধিক আঘাত করেন।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ভুক্তভোগী অভিযোগ না দিলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করা হবে। অভিযুক্ত দোষী হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।