সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চুয়াডাঙ্গায় প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে এএসআই’র শিশু কন্যা নিখোঁজ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিকের মালিককে জরিমানা পরে ক্লিনিকে সিলগালা অগ্রিম সতর্কতা: শুরু হওয়ার আগেই ৭,০০০ রিংগিতের নতুন ‘ভিসা ফাঁদ’ পাকাচ্ছে সিন্ডিকেট বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ব্যবসায়ী কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন ইউএনও

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ৩৭৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক::মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ম্যাগাজিন প্রকাশের নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন বাহুবল ইউএনও আয়েশা হক। মোটা অংকের ওই চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে হয়রানিমূলক অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করেছে প্রশাসন।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন উপজেলার বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা হক বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করেন।

এর মধ্যে একজন বাহুবল উপজেলা ব্রিকস ফিল্ড সমিতির সভাপতি হাজী মো. দুলাল মিয়া। আয়েশা হক এই ব্যবসায়ীর কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

দুলাল মিয়ার অভিযোগ, বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা হক বিভিন্ন সময় এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। ১২/১৩ দিন আগে ব্যবসায়ী নেতা আছকর আলীর মোবাইল দিয়ে দুলাল মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও। এ সময় তিনি বিজয় দিবস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ম্যাগাজিন প্রকাশের জন্য তার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

জানা গেছে, টাকা না দেয়ায় গত দুদিন ধরে ইউএনও আয়েশা হক তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল ফোন দিয়ে দুলাল মিয়ার কাছে বারবার ফোন করেন। দুলাল মিয়া তার (ইউএনও) ফোন রিসিভ না করায় তিনি সিওকে দিয়েও একাধিকবার ফোন করিয়েছেন। কিন্তু এত টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকায় দুলাল মিয়া তাদের ফোন রিসিভ করেননি।

দুলাল মিয়া আরও অভিযোগ করেন, টাকা না দেয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন আয়েশা হক। গতকাল রোববার বিকালে বিভিন্ন ব্রিকস ফিল্ডে অভিযান চালান তিনি। এ সময় মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা হয়।

বাহুবল উপজেলা ব্রিকস ফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. দুলাল মিয়া বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু এত টাকা আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব না। তাই তিনি বারবার ফোন করলেও আমি ফোন রিসিভ করিনি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। যার ফলে তিনি আমার ইটভাটা ‘সামিম ব্রিকস’এ অভিযান চালান।

‘আমার প্রতিষ্ঠানের সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এছাড়াও আমার আত্মীয়-স্বজনদের ইটভাটায় মোটা অংকের টাকা জরিমানা করেন।’

এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও তিনি জানান।

দুলাল মিয়া বলেন, ইউএনও আয়েশা হক শুধু বিজয় দিবস উপলক্ষে চাঁদা দাবি করেননি। বিভিন্ন সময় তিনি উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অসহায় দরিদ্র শ্রমিকদের জেল-জরিমানা প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শ্রমিক নেতা আছকর আলী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার জন্য আমার মোবাইল দিয়ে ইউএনও দুলাল মিয়ার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা হক সাংবাদিকদের জানান , ‘হবিগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধোদের নিয়ে একটি বিশেষ ম্যাগাজিন প্রকাশ করার জন্য আমরা বিজ্ঞাপন বাবদ টাকা চেয়েছি। কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করা হয়নি। এছাড়া উন্মুক্ত সভার মাধ্যমে এই টাকা চাওয়া হয়েছিল।’

তবে গত দুদিন ব্যবসায়ী দুলালের কাছে একাধিক ফোন করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেয়ার জন্য ফোন করছিলাম। সব সময় টাকার জন্য ফোন করেছি সেটা ঠিক নয়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ব্যবসায়ী কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন ইউএনও

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক::মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ম্যাগাজিন প্রকাশের নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন বাহুবল ইউএনও আয়েশা হক। মোটা অংকের ওই চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে হয়রানিমূলক অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করেছে প্রশাসন।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন উপজেলার বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা হক বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করেন।

এর মধ্যে একজন বাহুবল উপজেলা ব্রিকস ফিল্ড সমিতির সভাপতি হাজী মো. দুলাল মিয়া। আয়েশা হক এই ব্যবসায়ীর কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

দুলাল মিয়ার অভিযোগ, বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা হক বিভিন্ন সময় এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। ১২/১৩ দিন আগে ব্যবসায়ী নেতা আছকর আলীর মোবাইল দিয়ে দুলাল মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও। এ সময় তিনি বিজয় দিবস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ম্যাগাজিন প্রকাশের জন্য তার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

জানা গেছে, টাকা না দেয়ায় গত দুদিন ধরে ইউএনও আয়েশা হক তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল ফোন দিয়ে দুলাল মিয়ার কাছে বারবার ফোন করেন। দুলাল মিয়া তার (ইউএনও) ফোন রিসিভ না করায় তিনি সিওকে দিয়েও একাধিকবার ফোন করিয়েছেন। কিন্তু এত টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকায় দুলাল মিয়া তাদের ফোন রিসিভ করেননি।

দুলাল মিয়া আরও অভিযোগ করেন, টাকা না দেয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন আয়েশা হক। গতকাল রোববার বিকালে বিভিন্ন ব্রিকস ফিল্ডে অভিযান চালান তিনি। এ সময় মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা হয়।

বাহুবল উপজেলা ব্রিকস ফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. দুলাল মিয়া বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু এত টাকা আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব না। তাই তিনি বারবার ফোন করলেও আমি ফোন রিসিভ করিনি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। যার ফলে তিনি আমার ইটভাটা ‘সামিম ব্রিকস’এ অভিযান চালান।

‘আমার প্রতিষ্ঠানের সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এছাড়াও আমার আত্মীয়-স্বজনদের ইটভাটায় মোটা অংকের টাকা জরিমানা করেন।’

এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও তিনি জানান।

দুলাল মিয়া বলেন, ইউএনও আয়েশা হক শুধু বিজয় দিবস উপলক্ষে চাঁদা দাবি করেননি। বিভিন্ন সময় তিনি উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অসহায় দরিদ্র শ্রমিকদের জেল-জরিমানা প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শ্রমিক নেতা আছকর আলী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার জন্য আমার মোবাইল দিয়ে ইউএনও দুলাল মিয়ার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা হক সাংবাদিকদের জানান , ‘হবিগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধোদের নিয়ে একটি বিশেষ ম্যাগাজিন প্রকাশ করার জন্য আমরা বিজ্ঞাপন বাবদ টাকা চেয়েছি। কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করা হয়নি। এছাড়া উন্মুক্ত সভার মাধ্যমে এই টাকা চাওয়া হয়েছিল।’

তবে গত দুদিন ব্যবসায়ী দুলালের কাছে একাধিক ফোন করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেয়ার জন্য ফোন করছিলাম। সব সময় টাকার জন্য ফোন করেছি সেটা ঠিক নয়।’