সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

ঘোড়াঘাটে মাদক ব্যবসায়ীদের পাতানো ফাঁদে ফেঁসে গেল নিজেরাই মাদক মাদক সম্্রাট হালিম কশাই গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ অগাস্ট ২০২২ ১৫০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ শহিদুল ইসলাম আকাশ,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)
দিনাজপুরে ঘোড়াঘাটে মাদক ব্যবসায়ীদের পাতানো ফাঁদে হোসনে আরা(২৫) নামের এক নারীকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলো আঃ হালিম কশাই (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসীসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীরা । শেষ পর্যন্ত পুলিশের বিচ¶ণতায় র¶া পেল তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী। আর নিজেদের পাতানো ফাঁদে ফেঁসে গিয়ে আসামী হলেন মাদক ব্যবসী আঃ হালিম,¯^ামী জাহাঙ্গীর আলম, ্অপর মাদক ব্যবসায়ী আঃ করিম ও স্ত্রী সালমা বেগম। দুই রাত একদিন অভিযান চালিয়ে রবিবার ভোরে পরিকল্পনা কারীর ম‚ল হোতা উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের বশির উদ্দিন বশুর পুত্র আঃ হালিমকে আটক করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।
স্ত্রীকে এক তরফা তালাক দিয়ে মিমাংসা করার কথা বলে বাড়িতে ডেকে এনে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন ¯^ামী ও তার মাদক কারবারিরা। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের মৃত, বশির উদ্দিন বশুর পুত্র আঃ হালিম (৫০) ঘোড়াঘাট উপজেলায় মাদকের পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে সে। তবে এই মাদক সম্রাট বেশ চতুর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নেই কোন মামলা। অবশেষে নিজের পাতানো ফাঁদে এক অসহায় নারীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসাতে গিয়ে নিজের আটকা পরেছেন পুলিশের জালে।
এজাহার থেকে জানা যায়, উপজেলার ভেলাইন গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৩৮)। তার সাথে গত ৮ বছর আগে পাশ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার হোসনে আরা (২৮) নামে এক নারীর বিবাহ হয় এবং ৩ বছর সংসার করার পর জাহাঙ্গীর একক ভাবে তাকে তালাক দেয়। তালাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে হোসনে আরা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দেয় এবং মামলা করার প্রস্তুতি নেয়।
এই মামলা থেকে বাঁচতে জাহাঙ্গীর এবং তার মাদক ব্যবসায়ী বন্ধু হালিম, করিম এবং করিমের স্ত্রী সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার জন্য মুঠোফোনে কল করে গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে হোসনে আরাকে ঘোড়াঘাটে নিয়ে আসে।
এ সময় প‚র্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার সন্ধায় উভয় প¶ মাদক ব্যবসায়ী করিমের বাড়িতে আলোচনায় বসে। এই ফাঁকে মাদক ব্যবসায়ী হালিম গ্রুপের সদস্যরা কৌশলে হোসনে আরার ভ্যানিটি ব্যাগে ৪০ পিচ ইয়াবা রাখে এবং হালিম থানায় ফোন করে পুলিশকে জানায় করিমের বাড়িতে ইয়াবা ব্যবসায়ী অবস্থাান করছে।
তথ্য অনুযায়ী গত শুক্রবার সন্ধায় পুলিশ হালিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থালে গিয়ে হোসনে আরাকে ইয়াবাসহ আটক করে। পরে হোসনে আরা নির্দোষ বলে পুলিশের কাছে কান্নাকাটি করে এবং পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়। ঘটনা শুনে পুলিশ অধিক তদন্ত শুরু করলে হোসনে আরাকে ফাঁসানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
পরে পুলিশ বাদী হয়ে জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামী করে হালিম, করিম ও করিমের স্ত্রী ছালমা বেগমের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একটি মামলা করে। তারা সকলে মাদক সম্রাট হালিমের ঘনিষ্ট সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছে।
অবশেষে গত শনিবার রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগীতা নিয়ে মাদক সম্রাট হালিমকে গ্রেফতার করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বলেন, মাদক সম্রাট হালিম এবং তার সহযোগীরা খুব কৌশলে ওই নারীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসাতে চেয়েছিল। তবে আমাদের তদন্ত কৌশলে সত্য ঘটনা উঠে এসেছে। গ্রেফতার হালিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা ¯^ীকার করেছে। তাকে আমরা রবিবার দুপুরে দিনাজপুরের আদালতে পাঠিয়েছি এবং অপর পলাতক আসামীদেরকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঘোড়াঘাটে মাদক ব্যবসায়ীদের পাতানো ফাঁদে ফেঁসে গেল নিজেরাই মাদক মাদক সম্্রাট হালিম কশাই গ্রেফতার

আপডেট সময় : ১২:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ অগাস্ট ২০২২

মোঃ শহিদুল ইসলাম আকাশ,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)
দিনাজপুরে ঘোড়াঘাটে মাদক ব্যবসায়ীদের পাতানো ফাঁদে হোসনে আরা(২৫) নামের এক নারীকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলো আঃ হালিম কশাই (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসীসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীরা । শেষ পর্যন্ত পুলিশের বিচ¶ণতায় র¶া পেল তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী। আর নিজেদের পাতানো ফাঁদে ফেঁসে গিয়ে আসামী হলেন মাদক ব্যবসী আঃ হালিম,¯^ামী জাহাঙ্গীর আলম, ্অপর মাদক ব্যবসায়ী আঃ করিম ও স্ত্রী সালমা বেগম। দুই রাত একদিন অভিযান চালিয়ে রবিবার ভোরে পরিকল্পনা কারীর ম‚ল হোতা উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের বশির উদ্দিন বশুর পুত্র আঃ হালিমকে আটক করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।
স্ত্রীকে এক তরফা তালাক দিয়ে মিমাংসা করার কথা বলে বাড়িতে ডেকে এনে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন ¯^ামী ও তার মাদক কারবারিরা। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের মৃত, বশির উদ্দিন বশুর পুত্র আঃ হালিম (৫০) ঘোড়াঘাট উপজেলায় মাদকের পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে সে। তবে এই মাদক সম্রাট বেশ চতুর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নেই কোন মামলা। অবশেষে নিজের পাতানো ফাঁদে এক অসহায় নারীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসাতে গিয়ে নিজের আটকা পরেছেন পুলিশের জালে।
এজাহার থেকে জানা যায়, উপজেলার ভেলাইন গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৩৮)। তার সাথে গত ৮ বছর আগে পাশ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার হোসনে আরা (২৮) নামে এক নারীর বিবাহ হয় এবং ৩ বছর সংসার করার পর জাহাঙ্গীর একক ভাবে তাকে তালাক দেয়। তালাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে হোসনে আরা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দেয় এবং মামলা করার প্রস্তুতি নেয়।
এই মামলা থেকে বাঁচতে জাহাঙ্গীর এবং তার মাদক ব্যবসায়ী বন্ধু হালিম, করিম এবং করিমের স্ত্রী সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার জন্য মুঠোফোনে কল করে গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে হোসনে আরাকে ঘোড়াঘাটে নিয়ে আসে।
এ সময় প‚র্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার সন্ধায় উভয় প¶ মাদক ব্যবসায়ী করিমের বাড়িতে আলোচনায় বসে। এই ফাঁকে মাদক ব্যবসায়ী হালিম গ্রুপের সদস্যরা কৌশলে হোসনে আরার ভ্যানিটি ব্যাগে ৪০ পিচ ইয়াবা রাখে এবং হালিম থানায় ফোন করে পুলিশকে জানায় করিমের বাড়িতে ইয়াবা ব্যবসায়ী অবস্থাান করছে।
তথ্য অনুযায়ী গত শুক্রবার সন্ধায় পুলিশ হালিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থালে গিয়ে হোসনে আরাকে ইয়াবাসহ আটক করে। পরে হোসনে আরা নির্দোষ বলে পুলিশের কাছে কান্নাকাটি করে এবং পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়। ঘটনা শুনে পুলিশ অধিক তদন্ত শুরু করলে হোসনে আরাকে ফাঁসানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
পরে পুলিশ বাদী হয়ে জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামী করে হালিম, করিম ও করিমের স্ত্রী ছালমা বেগমের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একটি মামলা করে। তারা সকলে মাদক সম্রাট হালিমের ঘনিষ্ট সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছে।
অবশেষে গত শনিবার রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগীতা নিয়ে মাদক সম্রাট হালিমকে গ্রেফতার করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বলেন, মাদক সম্রাট হালিম এবং তার সহযোগীরা খুব কৌশলে ওই নারীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসাতে চেয়েছিল। তবে আমাদের তদন্ত কৌশলে সত্য ঘটনা উঠে এসেছে। গ্রেফতার হালিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা ¯^ীকার করেছে। তাকে আমরা রবিবার দুপুরে দিনাজপুরের আদালতে পাঠিয়েছি এবং অপর পলাতক আসামীদেরকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান চলছে।