সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

১৬ শিক্ষার্থীকে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ, অধ্যক্ষ আটক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মে ২০২২ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

নরসিংদীর পলাশে ১৬ শিক্ষার্থীকে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে ‘পলাশ থানা সেন্ট্রাল কলেজের’ অধ্যক্ষ আমির হোসেন গাজীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার রাত ৮টার দিকে তাকে উপজেলার পণ্ডিতপাড়ার বাসা থেকে আটক করা হয়। এর আগে সোমবার বেলা ১১টায় কলেজের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাইপ দিয়ে পিটানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ছাত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ নানা অনিয়মের কারণে গতবছর কলেজটির উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফরমফিলাপ করার ক্ষমতা স্থগিত করে শিক্ষা বোর্ড।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ৬টি বিষয়ে পাঠদান হয়। রবিবার ষষ্ঠ ক্লাসের শিক্ষক পাঠদান করবেন না এমন খবরে ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে পড়েন। তবে শিক্ষক ক্লাসে এলে কয়েকজন এসে পাঠদানে যুক্ত হন।

আজ সোমবার যথারীতি সকল শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়ে পাঠগ্রহণ শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষ আমির হোসেন গাজী অ্যালুমিনিয়ামের পাইপ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে ষষ্ঠ ক্লাস না করা শিক্ষার্থীদের দাঁড় করান। এবং একে একে শাকিব, সিজান, আদনান, সোহেল, শিফাত, নয়ন, তাহসিন, আশরাফুল, আমিরুল, তাসফিকসহ ১৬ শিক্ষার্থীকে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আবার অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আহতের ছবি পোস্ট করে অধ্যক্ষের বিচার দাবি করেন, যা অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়।
অভিযোগের সম্পর্কে জানতে চাইলে নরসিংদীর পলাশ থানা সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যক্ষ আমির হোসেন গাজী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের শাসন করেছি। এখন কেউ কেউ এটাকে ইস্যু বানিয়ে পরিবেশ ঘোলা করার চেষ্টা করছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম মিত্র জানিয়ে বলেন, ছাত্র পিটানো কেন কোনো শিক্ষক ছাত্রকে তিরস্কার করে কথা বলার বিধানও আইনে নেই। ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মিলন কৃষ্ণ হালদারকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ্য আমির হোসেন গাজীকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১৬ শিক্ষার্থীকে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ, অধ্যক্ষ আটক

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মে ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স

নরসিংদীর পলাশে ১৬ শিক্ষার্থীকে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে ‘পলাশ থানা সেন্ট্রাল কলেজের’ অধ্যক্ষ আমির হোসেন গাজীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার রাত ৮টার দিকে তাকে উপজেলার পণ্ডিতপাড়ার বাসা থেকে আটক করা হয়। এর আগে সোমবার বেলা ১১টায় কলেজের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাইপ দিয়ে পিটানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ছাত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ নানা অনিয়মের কারণে গতবছর কলেজটির উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফরমফিলাপ করার ক্ষমতা স্থগিত করে শিক্ষা বোর্ড।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ৬টি বিষয়ে পাঠদান হয়। রবিবার ষষ্ঠ ক্লাসের শিক্ষক পাঠদান করবেন না এমন খবরে ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে পড়েন। তবে শিক্ষক ক্লাসে এলে কয়েকজন এসে পাঠদানে যুক্ত হন।

আজ সোমবার যথারীতি সকল শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হয়ে পাঠগ্রহণ শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষ আমির হোসেন গাজী অ্যালুমিনিয়ামের পাইপ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে ষষ্ঠ ক্লাস না করা শিক্ষার্থীদের দাঁড় করান। এবং একে একে শাকিব, সিজান, আদনান, সোহেল, শিফাত, নয়ন, তাহসিন, আশরাফুল, আমিরুল, তাসফিকসহ ১৬ শিক্ষার্থীকে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আবার অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আহতের ছবি পোস্ট করে অধ্যক্ষের বিচার দাবি করেন, যা অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়।
অভিযোগের সম্পর্কে জানতে চাইলে নরসিংদীর পলাশ থানা সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যক্ষ আমির হোসেন গাজী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের শাসন করেছি। এখন কেউ কেউ এটাকে ইস্যু বানিয়ে পরিবেশ ঘোলা করার চেষ্টা করছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম মিত্র জানিয়ে বলেন, ছাত্র পিটানো কেন কোনো শিক্ষক ছাত্রকে তিরস্কার করে কথা বলার বিধানও আইনে নেই। ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মিলন কৃষ্ণ হালদারকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ্য আমির হোসেন গাজীকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।