সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

ঘুষ দিতে রাজী না হওয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক কে প্রতিষ্ঠাতা মারধর। আজকের ক্রাইম নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ৩১০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরগুনা প্রতিনিধি::বরগুনার তালতলীতে ঘুষ টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় কচুপাত্রা নিজামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে প্রতিষ্ঠাতা মোঃ নাজিম উদ্দিনে ও তার ছেলে মাসুম হাওলাদারের বিরুদ্ধে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাসুম বিল্লাহকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধার দিকে।

জানাগেছে, উপজেলার কচুপাত্রা নিজামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় মাওলানা মোঃ মাসুম বিল্লাহ ২০১২ সালে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেয়। ওই সময় থেকে তিনি মাদ্রাসায় ক্লাস করে আসছেন। সম্প্রতি ওই মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দেন। মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির খবর পেয়ে নড়েচড়ে বলে প্রতিষ্ঠাতা মোঃ নাজিম উদ্দিন হাওলাদার। গত ১৫ দিন ধরে প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন হাওলাদার শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ’র কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করে আসছে। টাকা না দিলে মাদ্রাসা থেকে শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি দিতে চাপ দেয় প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন ও তার লোকজন এমন অভিযোগ শিক্ষক মাসুম বিল্লাহর। কিন্তু টাকা দিতে ও শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতিতে রাজি হয়নি শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ। এতে ক্ষিপ্ত্ হয় প্রতিষ্ঠাতা ও তার লোকজন। মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিষ্ঠাতা ও তার ছেলে মাসুম কচুপাত্রা বাজারে এসে শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে জোড় করে শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি দিতে চাপ দেয়। ঘুষ টাকা ও অব্যাহতিপত্র না দেয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও তার ছেলে মাসুম হাওলাদার শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে মারধর করে। স্থানীয়রা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনার ইমাম মাসুম বিল্লাহ তালতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। খবর পেয়ে ওসি (তদন্ত) আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সিদ্দিক হাওলাদার ও মজিবুর রহমানসহ কয়েকজনে বলেন, ইমাম মাসুম বিল্লাহকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন হাওলাদার ও তার ছেলে মাসুম হাওলাদার মারধর করেছে।

শিক্ষক ও ইমাম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২০১২ সালে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মোঃ নাজিম উদ্দিন হাওলাদার আমাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। ওই সময় থেকে আমি বিনা বেতনে মাদ্রাসায় ক্লাস করে আসছি। বর্তমানে মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি হওয়ার খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠাতা আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন। টাকা না দিলে আমাকে শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি পত্র দিয়ে চলে যেতে চাপ দেন প্রতিষ্ঠাতা। আমি এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে প্রতিষ্ঠাতা ও তার ছেলে মাসুম মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

কচুপাত্রা নিজামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মোঃ নাজিম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মাসুম হাওলাদারের মুঠোফোনে বলেন আমার বাবাকে লাঞ্চিত করেছে বিধায় আমি হাত ধরে টান দিয়েছি কিন্তু কোন মারধর করিনি।

তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঘুষ দিতে রাজী না হওয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক কে প্রতিষ্ঠাতা মারধর। আজকের ক্রাইম নিউজ

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৯

বরগুনা প্রতিনিধি::বরগুনার তালতলীতে ঘুষ টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় কচুপাত্রা নিজামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে প্রতিষ্ঠাতা মোঃ নাজিম উদ্দিনে ও তার ছেলে মাসুম হাওলাদারের বিরুদ্ধে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাসুম বিল্লাহকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধার দিকে।

জানাগেছে, উপজেলার কচুপাত্রা নিজামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় মাওলানা মোঃ মাসুম বিল্লাহ ২০১২ সালে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেয়। ওই সময় থেকে তিনি মাদ্রাসায় ক্লাস করে আসছেন। সম্প্রতি ওই মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দেন। মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির খবর পেয়ে নড়েচড়ে বলে প্রতিষ্ঠাতা মোঃ নাজিম উদ্দিন হাওলাদার। গত ১৫ দিন ধরে প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন হাওলাদার শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ’র কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করে আসছে। টাকা না দিলে মাদ্রাসা থেকে শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি দিতে চাপ দেয় প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন ও তার লোকজন এমন অভিযোগ শিক্ষক মাসুম বিল্লাহর। কিন্তু টাকা দিতে ও শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতিতে রাজি হয়নি শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ। এতে ক্ষিপ্ত্ হয় প্রতিষ্ঠাতা ও তার লোকজন। মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিষ্ঠাতা ও তার ছেলে মাসুম কচুপাত্রা বাজারে এসে শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে জোড় করে শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি দিতে চাপ দেয়। ঘুষ টাকা ও অব্যাহতিপত্র না দেয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও তার ছেলে মাসুম হাওলাদার শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে মারধর করে। স্থানীয়রা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনার ইমাম মাসুম বিল্লাহ তালতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। খবর পেয়ে ওসি (তদন্ত) আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সিদ্দিক হাওলাদার ও মজিবুর রহমানসহ কয়েকজনে বলেন, ইমাম মাসুম বিল্লাহকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা নাজিম উদ্দিন হাওলাদার ও তার ছেলে মাসুম হাওলাদার মারধর করেছে।

শিক্ষক ও ইমাম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২০১২ সালে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মোঃ নাজিম উদ্দিন হাওলাদার আমাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। ওই সময় থেকে আমি বিনা বেতনে মাদ্রাসায় ক্লাস করে আসছি। বর্তমানে মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি হওয়ার খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠাতা আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন। টাকা না দিলে আমাকে শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি পত্র দিয়ে চলে যেতে চাপ দেন প্রতিষ্ঠাতা। আমি এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে প্রতিষ্ঠাতা ও তার ছেলে মাসুম মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

কচুপাত্রা নিজামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মোঃ নাজিম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মাসুম হাওলাদারের মুঠোফোনে বলেন আমার বাবাকে লাঞ্চিত করেছে বিধায় আমি হাত ধরে টান দিয়েছি কিন্তু কোন মারধর করিনি।

তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।