ডিবি পরিচয়ে দুর্নীতি মামলার ভয় দেখিয়ে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০২:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১ ১৩২ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
রাজশাহী মহানগরীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হাইকোর্টে দুর্নীতি মামলার ভয় দেখিয়ে এক ডাক্তারের কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে রাজপাড়া থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষীপুর মিঠুর মোড় এলাকার একেএম মোতাহারুল ইসলামের ছেলে তাসফিন আহমেদ (৩৩) ও ফয়সাল আহমেদ (৩৮)।
মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, ডা. আজিজুল হক (আব্দুল্লাহ) এর স্ত্রীর বড় বোনের ছেলে আসামি তাসফিন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদ। আত্মীয়তার সূত্র ধরে তাসফিন ও ফয়সাল ডা. আজিজুল হকের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। আত্মীয়তা ও বিশ্বস্ততার সূত্র ধরে তাসফিন, ফয়সাল ও ফয়সালের ভায়রা আসামি রুবেল সরকার রাসেল (৩৩) যোগসাজস করে ডা. আজিজুল হককে হাইকোর্টে দুর্নীতি দমন মামলার কাগজ ও আয়করের ভুয়া কাগজ দেখান। আসামি রুবেল নিজেকে ডিবি পুলিশ ও ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয়ে দিয়ে গত ১৫ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
প্রতারক চক্রের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে টাকাগুলো নেওয়ার সময় ডা. আজিজুল হককে জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন, আয়কর বিভাগ এবং হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে কাগজ বের হতে সময় লাগবে। এ বিষয়ে কাউকে কিছু না জানাতে বলে তারা। অন্যকেউ জানলে তার ও তার পরিবারের যে কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে তারা ডা. আজিজুল হককে ভয় দেখায়।
পরবর্তীতে ডা. আজিজুল হক খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, হাইকোর্টে দুর্নীতি ও আয়করের মামলার বিষয়টি ভুয়া। আসামিরা যোগসাজসে প্রতারণা করে তার কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আসামি ফয়সালের কাছে জানতে চাইলে সে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে। এই ঘটনার পরে রাজপাড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেন ডা. আজিজুল।
মামলার পরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজিদ হোসেনের নির্দেশে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করেন।
ওসি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ১৮ অক্টোবর রাতে আসামি তাসফিন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


























