সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।

নকল সরবরাহে বাধা দেয়ায় পুলিশ সদস্যকে পেটালেন ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি । আজকের ক্রাইম নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৯ ৩০৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক;;ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় কেন্দ্রে নকল সরবরাহে বাধা দেয়ায় পুলিশ সদস্যকে পেটালেন ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক অপু।

এতে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব পারভীন আক্তার বাদী হয়ে মোজাম্মেল হক অপুকে প্রধান আসামি ও ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার গণিত বিষয়ে পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মির্জা মোজাম্মেল হক অপু তার ভাগিনাকে নকল সরবরাহ করতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম তাকে বাধা দেন।

এতে অপু ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা মেরে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ২০-৩০ জন লোক নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। এ সময় তিনটি খাতা ছিঁড়ে ফেলেন।

কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা এগিয়ে এসে ওই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন।

এ ঘটনার পর থেকে মোবাইল বন্ধ করে যুবলীগ সভাপতি অপু পলাতক রয়েছে।

পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, একজন ব্যক্তি কেন্দ্রে নকল নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে আমি বাধা দেই। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আমাকে ধাক্কা মেরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর সে ৬০-৭০ জন লোক নিয়ে এসে কেন্দ্রের ভিতরে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আমাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা আমাকে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে। পরে ওসি স্যার গিয়ে আমাকে নিয়ে আসে এবং হাসপাতালে চিকিৎসা করান। যে হামলা করেছিল তার নাম পরে জানতে পারি।

এ বিষয়ে ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব পারভীন আক্তার জানান, আমি স্কুলে আমার কক্ষে বসা ছিলাম। চেঁচামেচি শুনে বাইরে গিয়ে দেখি অনেক লোকজন কেন্দ্রের ভিতর প্রবেশ করেছে। এবং পুলিশ সদস্যকে মারধোর করছে ও তিনটি খাতা ছিঁড়ে ফেলেছে। আমি এ ঘটনায় থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছি।

ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, নকল সরবরাহ করতে বাধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে অপু নামের একজন পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। এরা সংখ্যায় ৩০-৪০ জন ছিল। তারা তিনটি খাতাও ছিড়েঁ ফেলে।

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নৌসাদ মাহমুদ বলেন, যুবলীগ নেতা অপুকে নকল সরবরাহে বাধা দেয়ায় তিনি দলবল নিয়ে এসে পুলিশকে মারধর করে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

এই বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ছলিমাবাদ কেন্দ্রে অপু নামের এক লোক কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করতে গেলে আমাদের পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম বাধা দেয়ায় তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করাই।

এ ঘটনায় কেন্দ্রে সচিব বাদী হয়ে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার জানান, আমি বর্তমানে ট্রেনিং-এ আছি। আজকে ছলিমাবাদ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রে পুলিশকে মারধরের ঘটনা আমি শুনেছি। কেন্দ্রে সচিব আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নকল সরবরাহে বাধা দেয়ায় পুলিশ সদস্যকে পেটালেন ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি । আজকের ক্রাইম নিউজ

আপডেট সময় : ০৮:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক;;ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় কেন্দ্রে নকল সরবরাহে বাধা দেয়ায় পুলিশ সদস্যকে পেটালেন ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক অপু।

এতে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব পারভীন আক্তার বাদী হয়ে মোজাম্মেল হক অপুকে প্রধান আসামি ও ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার গণিত বিষয়ে পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মির্জা মোজাম্মেল হক অপু তার ভাগিনাকে নকল সরবরাহ করতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম তাকে বাধা দেন।

এতে অপু ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা মেরে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ২০-৩০ জন লোক নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। এ সময় তিনটি খাতা ছিঁড়ে ফেলেন।

কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা এগিয়ে এসে ওই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন।

এ ঘটনার পর থেকে মোবাইল বন্ধ করে যুবলীগ সভাপতি অপু পলাতক রয়েছে।

পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, একজন ব্যক্তি কেন্দ্রে নকল নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে আমি বাধা দেই। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আমাকে ধাক্কা মেরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর সে ৬০-৭০ জন লোক নিয়ে এসে কেন্দ্রের ভিতরে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আমাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা আমাকে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে। পরে ওসি স্যার গিয়ে আমাকে নিয়ে আসে এবং হাসপাতালে চিকিৎসা করান। যে হামলা করেছিল তার নাম পরে জানতে পারি।

এ বিষয়ে ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব পারভীন আক্তার জানান, আমি স্কুলে আমার কক্ষে বসা ছিলাম। চেঁচামেচি শুনে বাইরে গিয়ে দেখি অনেক লোকজন কেন্দ্রের ভিতর প্রবেশ করেছে। এবং পুলিশ সদস্যকে মারধোর করছে ও তিনটি খাতা ছিঁড়ে ফেলেছে। আমি এ ঘটনায় থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছি।

ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, নকল সরবরাহ করতে বাধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে অপু নামের একজন পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। এরা সংখ্যায় ৩০-৪০ জন ছিল। তারা তিনটি খাতাও ছিড়েঁ ফেলে।

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নৌসাদ মাহমুদ বলেন, যুবলীগ নেতা অপুকে নকল সরবরাহে বাধা দেয়ায় তিনি দলবল নিয়ে এসে পুলিশকে মারধর করে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

এই বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ছলিমাবাদ কেন্দ্রে অপু নামের এক লোক কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করতে গেলে আমাদের পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম বাধা দেয়ায় তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করাই।

এ ঘটনায় কেন্দ্রে সচিব বাদী হয়ে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার জানান, আমি বর্তমানে ট্রেনিং-এ আছি। আজকে ছলিমাবাদ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রে পুলিশকে মারধরের ঘটনা আমি শুনেছি। কেন্দ্রে সচিব আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা।