সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

পদ্মার তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ, আলোকিত হবে ফরিদপুরের ৮৮ গ্রাম।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মে ২০২১ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
ফরিদপুর সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবারের অন্তত লক্ষাধিক মানুষের বসবাস পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে। এখানকার মানুষ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাকা সড়কতো দূরের কথা, কাঁচা রাস্তাঘাটও নেই।

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম ওই চরের মানুষের ঘরে সন্ধ্যা নেমে এলেই সেই আদিম যুগের মতো কেরোসিনের কুপি-বাতি আর হারিকেনের আলোই একমাত্র ভরসা।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত এই মানুষগুলো ভাবতেও পারেনি বিদ্যুতিক সুবিধার কথা। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে তাদের মাঝে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।

পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ফরিদপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে জেলার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। ইতোমধ্যেই দুই হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ দেয়া হয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যুতের সুবিধা পাবে ১০ হাজার পরিবার। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বিদ্যুৎ পেয়ে উচ্ছ্বসিত চরাঞ্চলের মানুষ। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সংযোগের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর।

ডিগ্রিরচরের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে খুশি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘কখনও ভাবিনি, পদ্মার এই চরে বিদ্যুৎ আসবে। আর সেই বিদ্যুৎ দিয়ে বাড়িতে টেলিভিশন, ফ্রিজ, ফ্যান চলবে। ছেলেমেয়েরা এখন বিদ্যুতের আলোতে পড়ালেখা করতে পারছে। এতো কাল হারিকেনের আলোয় পড়ত তারা।’

এই এলাকায় রাজ্জাকের মতো আরও অনেক পরিবারের এখন খুশির বন্যা বইছে। যেখানে কৃষক কখনও ভাবেনি বিদ্যুৎ দিয়ে সেচের ব্যবস্থা হবে। এখন সেটি বাস্তবে সম্ভব হচ্ছে।

ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রমতে, তিনটি উপজেলার মোট ১০টি ইউনিয়নে ৮৮টি গ্রামকে আলোকিত করতে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের কাজ করছে জেলার এই প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবুল হাসান জানান, ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৩৭ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণকাজের ইতোমধ্যে ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে পদ্মার ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রির চরের ২০১টি পরিবার, একটি বাণিজ্যিক ও তিনটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার চরাঞ্চলে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ সুবিধা। ১১ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে মোট দুই পরিবারের মাঝে সংযোগ দেয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার ডিগ্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিন্টু ফকির জানান, সম্প্রতি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ লাইন টেনে প্রথম পর্যায়ে ২০১টি পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হয়েছে। অন্যদেরও দেয়ার কাজ চলছে। গ্রামের মানুষ সরকারের প্রতি অনেক খুশি। এখন তাদের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে চরাঞ্চলে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পদ্মার তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ, আলোকিত হবে ফরিদপুরের ৮৮ গ্রাম।

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মে ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
ফরিদপুর সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবারের অন্তত লক্ষাধিক মানুষের বসবাস পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে। এখানকার মানুষ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাকা সড়কতো দূরের কথা, কাঁচা রাস্তাঘাটও নেই।

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম ওই চরের মানুষের ঘরে সন্ধ্যা নেমে এলেই সেই আদিম যুগের মতো কেরোসিনের কুপি-বাতি আর হারিকেনের আলোই একমাত্র ভরসা।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত এই মানুষগুলো ভাবতেও পারেনি বিদ্যুতিক সুবিধার কথা। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে তাদের মাঝে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।

পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ফরিদপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে জেলার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। ইতোমধ্যেই দুই হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ দেয়া হয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যুতের সুবিধা পাবে ১০ হাজার পরিবার। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বিদ্যুৎ পেয়ে উচ্ছ্বসিত চরাঞ্চলের মানুষ। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সংযোগের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর।

ডিগ্রিরচরের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে খুশি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘কখনও ভাবিনি, পদ্মার এই চরে বিদ্যুৎ আসবে। আর সেই বিদ্যুৎ দিয়ে বাড়িতে টেলিভিশন, ফ্রিজ, ফ্যান চলবে। ছেলেমেয়েরা এখন বিদ্যুতের আলোতে পড়ালেখা করতে পারছে। এতো কাল হারিকেনের আলোয় পড়ত তারা।’

এই এলাকায় রাজ্জাকের মতো আরও অনেক পরিবারের এখন খুশির বন্যা বইছে। যেখানে কৃষক কখনও ভাবেনি বিদ্যুৎ দিয়ে সেচের ব্যবস্থা হবে। এখন সেটি বাস্তবে সম্ভব হচ্ছে।

ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রমতে, তিনটি উপজেলার মোট ১০টি ইউনিয়নে ৮৮টি গ্রামকে আলোকিত করতে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের কাজ করছে জেলার এই প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবুল হাসান জানান, ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৩৭ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণকাজের ইতোমধ্যে ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে পদ্মার ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রির চরের ২০১টি পরিবার, একটি বাণিজ্যিক ও তিনটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার চরাঞ্চলে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ সুবিধা। ১১ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে মোট দুই পরিবারের মাঝে সংযোগ দেয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার ডিগ্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিন্টু ফকির জানান, সম্প্রতি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ লাইন টেনে প্রথম পর্যায়ে ২০১টি পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হয়েছে। অন্যদেরও দেয়ার কাজ চলছে। গ্রামের মানুষ সরকারের প্রতি অনেক খুশি। এখন তাদের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে চরাঞ্চলে।