সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চুয়াডাঙ্গায় প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে এএসআই’র শিশু কন্যা নিখোঁজ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিকের মালিককে জরিমানা পরে ক্লিনিকে সিলগালা অগ্রিম সতর্কতা: শুরু হওয়ার আগেই ৭,০০০ রিংগিতের নতুন ‘ভিসা ফাঁদ’ পাকাচ্ছে সিন্ডিকেট বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ঘোষণায় বিএনপি নেতারা স্বস্তিবোধ করছেন। সঙ্গে তাদের মধ্যে আতঙ্কও।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০ ১৬০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক:: বহুদিন পর হলেও দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ঘোষণায় বিএনপি নেতারা স্বস্তিবোধ করছেন। সঙ্গে তাদের মধ্যে আতঙ্কও বিরাজ করছে।
খালেদার মুক্তির সিদ্ধান্ত সরকার জানানোর পর মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। নেত্রীর মুক্তির সিদ্ধান্তে হাসি দেখা গেছে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মুখে। আবার এক ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথাও জানিয়েছেন তারা। বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের এই সময়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মূলত উদ্বিগ্ন বিএনপি।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আমরা কিছুটা আবেগ-আপ্লুত তো বটেই, কিছুটা স্বস্তিও বোধ করছি। আবার আমরা কিছুটা আতঙ্কিত বোধ করছি। এই ভয়ঙ্কর সময়ে তার এই মুক্তি, তার কোনো ক্ষতি না ঘটে।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মির্জা ফখরুলসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত হন তারেক রহমান।

মুক্তির পর কোথায় নেয়া হবে, তা নিয়ে নেতারা মতামত দেন। তবে এ বিষয়টি পুরোপুরি পরিবারের সদস্য ও চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেন তারা।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছি, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেছি। দেশনেত্রীর পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তার সাময়িক মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন।

‘কিন্তু তার মুক্তির ক্ষেত্রে দুটি শর্ত দেয়া হয়েছে। তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। এটি আমাদের কাছে ঠিক বোধগম্য নয়। কারণ পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য আবেদন করেছেন।’

তিনি বলেন, যাই হোক, দেশের মানুষ এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা আজকে স্বস্তিবোধ করছেন। দীর্ঘকাল পর আজ খালেদা জিয়া আইনগতভাবে, সাংবিধানিকভাবে তার যেটি প্রাপ্য, সেই মুক্তি তিনি পেয়েছেন। আমরা আশা করি, ঠিক সময়েই কারাগার থেকে বেরোতে পারবেন।

জনগণ ও নেতাকর্মীদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য। আজ মুক্তি পাচ্ছে- এ জন্য আপনারা আবেগাপ্লুত হবেন। তাকে একনজর দেখার জন্য কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু আজ সমগ্র বিশ্বে যে ভয়ঙ্কর মহামারী করোনাভাইরাস, যাতে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে।

‘লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। বেশিরভাগ দেশ লকডাউন করা হয়েছে। বিলম্বে হলেও বাংলাদেশে কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তবে লকডাউন করা হয়নি।’

তার মতে, এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া যদি বেরিয়ে আসেন, নেতাকর্মীরা আবেগের বশবর্তী না হয়ে সবার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শান্ত থাকতে হবে, দূরে থাকতে হবে। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনে ও ম্যাডামের বাসভবনের সামনে ভিড় করবেন না। আলাদাভাবে থাকার বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগে থেকেই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাকে দেখছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কীভাবে বাসায় চিকিৎসা শুরু করা যায়, সেটিও আমরা ব্যবস্থা রাখছি। তবে ম্যাডামের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে তিনি কি হাপাতালে চিকিৎসা নেবেন, না বাসায় চিকিৎসা নেবেন।

হাসপাতাল ও বাসভবনের সামনে জড়ো না হওয়ার নির্দেশ : এদিকে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল ও খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের জড়ো না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে রিজভী বলেন, বিএনপি এবং এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যেন বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনে ও গেটের ভেতরে জমায়েত না হন।

এই জমায়েতের কারণে চলমান করোনাভাইরাস মহামারীর ভয়াবহ বিপর্যয়ের সময়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা এবং জমায়েত হওয়া দলীয় নেতাকর্মীরা উচ্চ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ঘোষণায় বিএনপি নেতারা স্বস্তিবোধ করছেন। সঙ্গে তাদের মধ্যে আতঙ্কও।

আপডেট সময় : ০৮:০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

অনলাইন ডেস্ক:: বহুদিন পর হলেও দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ঘোষণায় বিএনপি নেতারা স্বস্তিবোধ করছেন। সঙ্গে তাদের মধ্যে আতঙ্কও বিরাজ করছে।
খালেদার মুক্তির সিদ্ধান্ত সরকার জানানোর পর মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। নেত্রীর মুক্তির সিদ্ধান্তে হাসি দেখা গেছে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মুখে। আবার এক ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথাও জানিয়েছেন তারা। বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের এই সময়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মূলত উদ্বিগ্ন বিএনপি।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আমরা কিছুটা আবেগ-আপ্লুত তো বটেই, কিছুটা স্বস্তিও বোধ করছি। আবার আমরা কিছুটা আতঙ্কিত বোধ করছি। এই ভয়ঙ্কর সময়ে তার এই মুক্তি, তার কোনো ক্ষতি না ঘটে।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মির্জা ফখরুলসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত হন তারেক রহমান।

মুক্তির পর কোথায় নেয়া হবে, তা নিয়ে নেতারা মতামত দেন। তবে এ বিষয়টি পুরোপুরি পরিবারের সদস্য ও চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেন তারা।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছি, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেছি। দেশনেত্রীর পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তার সাময়িক মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন।

‘কিন্তু তার মুক্তির ক্ষেত্রে দুটি শর্ত দেয়া হয়েছে। তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। এটি আমাদের কাছে ঠিক বোধগম্য নয়। কারণ পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য আবেদন করেছেন।’

তিনি বলেন, যাই হোক, দেশের মানুষ এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা আজকে স্বস্তিবোধ করছেন। দীর্ঘকাল পর আজ খালেদা জিয়া আইনগতভাবে, সাংবিধানিকভাবে তার যেটি প্রাপ্য, সেই মুক্তি তিনি পেয়েছেন। আমরা আশা করি, ঠিক সময়েই কারাগার থেকে বেরোতে পারবেন।

জনগণ ও নেতাকর্মীদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য। আজ মুক্তি পাচ্ছে- এ জন্য আপনারা আবেগাপ্লুত হবেন। তাকে একনজর দেখার জন্য কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু আজ সমগ্র বিশ্বে যে ভয়ঙ্কর মহামারী করোনাভাইরাস, যাতে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে।

‘লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। বেশিরভাগ দেশ লকডাউন করা হয়েছে। বিলম্বে হলেও বাংলাদেশে কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তবে লকডাউন করা হয়নি।’

তার মতে, এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া যদি বেরিয়ে আসেন, নেতাকর্মীরা আবেগের বশবর্তী না হয়ে সবার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শান্ত থাকতে হবে, দূরে থাকতে হবে। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনে ও ম্যাডামের বাসভবনের সামনে ভিড় করবেন না। আলাদাভাবে থাকার বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগে থেকেই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাকে দেখছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কীভাবে বাসায় চিকিৎসা শুরু করা যায়, সেটিও আমরা ব্যবস্থা রাখছি। তবে ম্যাডামের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে তিনি কি হাপাতালে চিকিৎসা নেবেন, না বাসায় চিকিৎসা নেবেন।

হাসপাতাল ও বাসভবনের সামনে জড়ো না হওয়ার নির্দেশ : এদিকে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল ও খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের জড়ো না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে রিজভী বলেন, বিএনপি এবং এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যেন বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সামনে ও গেটের ভেতরে জমায়েত না হন।

এই জমায়েতের কারণে চলমান করোনাভাইরাস মহামারীর ভয়াবহ বিপর্যয়ের সময়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা এবং জমায়েত হওয়া দলীয় নেতাকর্মীরা উচ্চ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।