প্রবাসীর ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে, বাড়ি থেকেও উচ্ছেদের হুমকি
প্রবাসীর ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে, বাড়ি থেকেও উচ্ছেদের হুমকি
- আপডেট সময় : ০১:২৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

প্রবাসে উপার্জিত প্রায় ৬৭ লাখ টাকা বোনের জামাইয়ের কাছে পাঠানোর দাবি করেছেন এক নারী। সেই অর্থে বাড়ি নির্মাণের কথা থাকলেও এখন টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার এবং বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসফেরত খাদিজা বেগম (৪০) বরিশালের এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বরিশালের এয়ারপোর্ট থানাধীন মেঘিয়া গ্রামের বাসিন্দা খাদিজা বেগম প্রায় ১৪ বছর প্রবাসে অবস্থানকালে নিজের উপার্জিত অর্থ বিভিন্ন সময়ে বোনের জামাই মো. মোশারফ সিকদার ও ভাগিনাদের কাছে পাঠাতেন। তাঁর দাবি, ওই অর্থ দিয়ে তাঁর জন্য বাড়িতে একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তাঁরা।
পরবর্তী সময়ে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর পাঠানো অর্থ দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট ২০২৬ দেশে ফিরে ওই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন খাদিজা। তবে পাঠানো অর্থের হিসাব চাইতে গেলে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর দাবি, একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন বাড়ি ছেড়ে চলে যান। প্রায় এক মাস পর ফিরে এসে তিনি টাকা পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং খাদিজাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় খাদিজাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বাড়িতে অবস্থান করলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
খাদিজা বেগমের দাবি, প্রবাসে থাকাকালে তিনি বোনের জামাই ও ভাগিনাদের কাছে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন। এসব অর্থ লেনদেনের তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে খাদিজার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁর বোনের জামাই মো. মোশারফ সিকদার। তিনি বলেন, আমার শ্যালিকা খাদিজা বেগম প্রবাসে থাকাকালে আমাকে কোনো টাকা-পয়সা দেননি। আমি মাছের ব্যবসা করি। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়েই বাড়ি নির্মাণ করেছি।
খাদিজা বেগমের ভাই মো. জলিল সিকদার বলেন, আমি মরিশাসে থাকার সুবাদে আমার বোনকে গার্মেন্টস ভিসায় সেখানে নিয়ে যাই। আমি বিদেশে থাকাকালে কয়েকবার আমার উপস্থিতিতে বোন খাদিজা তাঁর বোনের জামাই মোশারফ সিকদারকে টাকা পাঠিয়েছেন। আমি দেশে ফিরে আসার পরও ভাগিনা মো. হাসানের কাছে টাকা পাঠাতেন।
এখন মোশারফ সিকদার ও তাঁর ছেলে বিষয়টি অস্বীকার করছেন। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে এর একটি সুন্দর সমাধান হয়।
খাদিজার চাচা সিদ্দিক সিকদার বলেন, মোশারফ সিকদার ও তাঁর ছেলেরা খাদিজার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছেন। খাদিজা প্রবাসে থাকাকালে তাঁর উপার্জিত অর্থ মোশারফ ও তাঁর ছেলে হাসানের কাছে পাঠিয়েছেন। সেই টাকা দিয়েই বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এখন তাঁকে ওই বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানা সূত্রে জানা গেছে ঘটনার বিষয় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তদন্ত পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় প্রবাসে উপার্জিত অর্থের হিসাব, বাড়ির মালিকানা এবং হুমকির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন খাদিজা বেগম ও তাঁর স্বজনেরা।



















