১৫০ ভরি সোনা
বাস থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

পুলিশ পরিচয়ে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ ভরি সোনা ও নগদ ৬০ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনায় করা মামলায় মাগুরা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির পাঁচটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বাসিন্দা ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমান ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে ১৫০ ভরি সোনা সংগ্রহ করে ঝিনাইদহের এক ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দিতে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসে যাত্রা করছিলেন।
বাসটি রামনগর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়। পরে মজিবর রহমানকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় তারা।
এ সময় তাঁর কাছে থাকা সোনা বের করে দিতে চাপ দেয় ডাকাত দলের সদস্যরা। তিনি অস্বীকৃতি জানালে লোহার রড দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয়। এতে তাঁর ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। পরে তাঁকে মারধর করে বিশেষভাবে তৈরি পকেট থেকে ১৫০ ভরি সোনা ও নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী মজিবর রহমান। মামলায় দণ্ডবিধির ১৭০, ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, মারুফ হোসেনকে যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা শাকের হোসেন (৩৯)। ওই হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে রয়েছেন রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম, সোনা ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার, মো. জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ ও ফরিদ মণ্ডল—বিভিন্ন মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে ডাকাতির ঘটনা ও যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি সোনার টুকরা জব্দ করা হয়েছে। সেগুলোর ওজন নির্ধারণ করে আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। দুটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
























