সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়নগরে ১৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার,, গ্রেপ্তার ১ পদ্মা সেতুর দুই পাশের রেলিং ভেঙে উল্টে গেল বাস নয় ভাই, নয় গৌরবের পরিচয়—সবাই উচ্চশিক্ষিত মোরেলগঞ্জের কামলায় শিক্ষায় আলোকিত এক পরিবার ঝালকাঠিতে নানা আয়োজনে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিদেশ থেকে শূন্য হাতে ফেরত আসা মানেই স্বপ্ন শেষ নয়, বরং নতুন স্বপ্নের শুরু”—বরিশালে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বাবুগঞ্জে স্কুলের ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৭ ল্যাপটপ চুরি, ১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি। সন্দেহের তীর নৈশ প্রহরীর দিকে সোনারগাঁও টেক্সটাইল শাখা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন খুলনায় ডেঙ্গু-হামের ভয়াবহ থাবা ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ২ ও হামে ১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ১৭৮ রোগী মানবিক সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নাম—রাহাদ সুমন

বাবুগঞ্জে স্কুলের ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৭ ল্যাপটপ চুরি, ১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি। সন্দেহের তীর নৈশ প্রহরীর দিকে

বাবুগঞ্জে স্কুলের ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৭ ল্যাপটপ চুরি, ১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি। সন্দেহের তীর নৈশ প্রহরীর দিকে

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:৩৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১০২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল ল্যাব থেকে চুরি যাওয়া ১৭টি ল্যাপটপ ১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের পূর্ব চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি ল্যাব থেকে গত ২১ আগস্ট রাতে ১৭টি ল্যাপটপ চুরি হয়। ওই ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ করেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আব্দুর রহিম রাত ১১টার কিছু আগে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে চলে যান। এরপর রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ডিজিটাল ল্যাবের গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৭টি ল্যাপটপ নিয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, খালি গায়ে প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ডিজিটাল ল্যাবে যায়। পরে টেবিলে রাখা ল্যাপটপগুলো একে একে নিয়ে তাকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। তবে ফুটেজে থাকা ব্যক্তিকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

নৈশপ্রহরী আব্দুর রহিম বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি রাত ১১টার কিছু আগে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। পরে রাত ২টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে এসে ভেতরে কয়েকজনের কথাবার্তার শব্দ শুনতে পান। দূর থেকে তাদের স্থানীয় তিন যুবক আরিফুর রহমান, নেসার উদ্দিন ও রাহাত হোসেন বলে পরিচয় দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি আবার বাড়িতে চলে যান। ভোরে বিদ্যালয়ে এসে ল্যাপটপ চুরির বিষয়টি দেখতে পান এবং প্রধান শিক্ষককে জানান।

এদিকে নৈশপ্রহরীর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় আরিফুর রহমান, নেসার উদ্দিন ও রাহাত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের পরিবারের দাবি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের নাম জড়ানোয় তারা সামাজিকভাবে বিব্রত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আরিফুর রহমানের বাবা আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, চুরির ঘটনায় তার ছেলের নাম জড়ানোর কারণে তারা সামাজিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্তের দাবি জানান।

নেছার উদ্দিন বলেন, তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নৈশপ্রহরীর বক্তব্যের কারণে তিনি ও অন্যরা সামাজিকভাবে বিব্রত হয়েছেন। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণেই চোরেরা সুযোগ পেয়েছে। কেউ কেউ নৈশপ্রহরীর ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী আসমা উল হুসনা বলেন, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ চুরির বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চুরি যাওয়া ১৭টি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাবুগঞ্জে স্কুলের ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৭ ল্যাপটপ চুরি, ১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি। সন্দেহের তীর নৈশ প্রহরীর দিকে

বাবুগঞ্জে স্কুলের ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৭ ল্যাপটপ চুরি, ১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি। সন্দেহের তীর নৈশ প্রহরীর দিকে

আপডেট সময় : ০১:৩৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল ল্যাব থেকে চুরি যাওয়া ১৭টি ল্যাপটপ ১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের পূর্ব চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি ল্যাব থেকে গত ২১ আগস্ট রাতে ১৭টি ল্যাপটপ চুরি হয়। ওই ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ করেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আব্দুর রহিম রাত ১১টার কিছু আগে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে চলে যান। এরপর রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ডিজিটাল ল্যাবের গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৭টি ল্যাপটপ নিয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, খালি গায়ে প্যান্ট পরা এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ডিজিটাল ল্যাবে যায়। পরে টেবিলে রাখা ল্যাপটপগুলো একে একে নিয়ে তাকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। তবে ফুটেজে থাকা ব্যক্তিকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

নৈশপ্রহরী আব্দুর রহিম বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি রাত ১১টার কিছু আগে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। পরে রাত ২টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে এসে ভেতরে কয়েকজনের কথাবার্তার শব্দ শুনতে পান। দূর থেকে তাদের স্থানীয় তিন যুবক আরিফুর রহমান, নেসার উদ্দিন ও রাহাত হোসেন বলে পরিচয় দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি আবার বাড়িতে চলে যান। ভোরে বিদ্যালয়ে এসে ল্যাপটপ চুরির বিষয়টি দেখতে পান এবং প্রধান শিক্ষককে জানান।

এদিকে নৈশপ্রহরীর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় আরিফুর রহমান, নেসার উদ্দিন ও রাহাত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের পরিবারের দাবি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের নাম জড়ানোয় তারা সামাজিকভাবে বিব্রত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আরিফুর রহমানের বাবা আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, চুরির ঘটনায় তার ছেলের নাম জড়ানোর কারণে তারা সামাজিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্তের দাবি জানান।

নেছার উদ্দিন বলেন, তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নৈশপ্রহরীর বক্তব্যের কারণে তিনি ও অন্যরা সামাজিকভাবে বিব্রত হয়েছেন। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণেই চোরেরা সুযোগ পেয়েছে। কেউ কেউ নৈশপ্রহরীর ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী আসমা উল হুসনা বলেন, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ চুরির বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চুরি যাওয়া ১৭টি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।