সংবাদ শিরোনাম ::
কেডিসিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আবু নাসের রহমাতুল্লাহ দামুড়হুদায় ১৫শ বস্তা সার জব্দ, অবৈধ পন্থায় মজুদ, গোডাউন সিলগালা পিরোজপুরে মন্দিরের ভূমিতে জামায়াত নেতার ধান চাষ! দখলের অভিযোগ মিথ্যা ডায়েরির প্রতিবাদ: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী গ্রামবাসীর ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ নেই ৩ মাসে ১৮৮ কি স্বাভাবিক প্রসব বন্ধ সিজারিয়ান রাজনীতি ও সমাজসেবায় দীর্ঘ পথচলা, জনসেবার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভেজ মৃধা। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা উজিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৯ জন গ্রেপ্তার বিরামপুরের বিনাইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা সাবদার হোসেনের, চাইলেন দোয়া ও সমর্থন দর্শনা ইমিগ্রেশনে ভারতে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ নেতা আটক

বানারীপাড়ার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন: রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি

বানারীপাড়ার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন: রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি

তথ্য ও চিত্রে বানারীপাড়া পাড়া থেকে নাঈম মোঘল:
  • আপডেট সময় : ০৬:১৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৫২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সরকারি ও আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কোনো রকম ডিগ্রিধারী অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ (অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট) ছাড়াই নিয়মিত জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা অমান্য করে এসব প্রতিষ্ঠানে রোগীদের অজ্ঞান বা অবশ করার সংবেদনশীল কাজটি করছেন পরিপূর্ণ ডিগ্রি ছাড়া চিকিৎসক, অনভিজ্ঞ ওটি বয়, নার্স কিংবা হাতুড়ে টেকনিশিয়ানরা। ফলে যে কোনো মুহূর্তে প্রসূতি মা ও সাধারণ রোগীদের প্রাণহানির মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বাস্তব চিত্রঅনুসন্ধানে জানা যায়, বানারীপাড়া পৌর শহর ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে, নিয়মিত সিজারিয়ান ডেলিভারি,অ্যাপেনডিসাইটিসহার্নিয়াসহ বিভিন্ন সার্জারি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে সিজার বা অস্ত্রোপচারের জন্যে খরচ বাঁচাতে কোনো নিবন্ধিত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট রাখা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে সার্জন নিজেই দায়সারাভাবে অ্যানেস্থেসিয়ার ইনজেকশন পুশ করেন অথবা ওটি বয়দের দিয়ে এই বিপজ্জনক কাজটি করানো হয়।
আইন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কড়া নির্দেশনা- আছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) বিধিমালার পাশাপাশি দি মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর নির্দেশনা অনুযায়ী:
*** বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) স্বীকৃত নিবন্ধিত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছাড়া কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার বা ইন্টারভেনশনাল প্রসিডিউর পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
*** নিরাপদ অ্যানেস্থেটিক গ্যাস: ক্ষতিকর ‘হ্যালোথেন’ গ্যাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নিরাপদ ‘আইসোф্লুরেন’ বা ‘সেভোফ্লুরেন’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে.
*** সহকারী চিকিৎসক: অপারেশনের সময় মূল সার্জনের পাশাপাশি ওটিতে একজন নিবন্ধিত সহকারী চিকিৎসক উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীদের উদ্বেগ:
মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানেস্থেসিয়া কেবল একটি ইনজেকশন নয়; এটি রোগীর ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃৎপিণ্ডের অবস্থার ওপর নির্ভর করে সুনির্দিষ্ট মাত্রায় দেওয়া হয়। অপ্রশিক্ষিত ও পরিপূর্ণ ডিগ্রিবিহীন চিকিৎসক দিয়ে, অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হলে রোগীর স্থায়ী ব্রেন ড্যামেজ (মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হওয়া), কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা অপারেশন টেবিলেই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বানারীপাড়ার একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, “ক্লিনিকগুলো নামকরা ডাক্তারের নাম ভাঙিয়ে রোগী ভর্তি করায়। কিন্তু অপারেশনের ভেতরে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার জন্য কোনো স্বীকৃত ডাক্তার থাকে না। অনেক সময় ওটি বয়দের দিয়েই রোগীদের অবশ করানো হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ব্যক্তিবর্গ
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:
সরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ সংকটের সুযোগ নিয়ে, একশ্রেণীর ক্লিনিক মালিক এই ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, বানারীপাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা সকল বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স, ওটি ব্যবস্থা এবং অ্যানেস্থেসিয়া প্রদানকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বানারীপাড়ার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন: রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি

বানারীপাড়ার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন: রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি

আপডেট সময় : ০৬:১৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সরকারি ও আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কোনো রকম ডিগ্রিধারী অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ (অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট) ছাড়াই নিয়মিত জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা অমান্য করে এসব প্রতিষ্ঠানে রোগীদের অজ্ঞান বা অবশ করার সংবেদনশীল কাজটি করছেন পরিপূর্ণ ডিগ্রি ছাড়া চিকিৎসক, অনভিজ্ঞ ওটি বয়, নার্স কিংবা হাতুড়ে টেকনিশিয়ানরা। ফলে যে কোনো মুহূর্তে প্রসূতি মা ও সাধারণ রোগীদের প্রাণহানির মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বাস্তব চিত্রঅনুসন্ধানে জানা যায়, বানারীপাড়া পৌর শহর ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে, নিয়মিত সিজারিয়ান ডেলিভারি,অ্যাপেনডিসাইটিসহার্নিয়াসহ বিভিন্ন সার্জারি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে সিজার বা অস্ত্রোপচারের জন্যে খরচ বাঁচাতে কোনো নিবন্ধিত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট রাখা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে সার্জন নিজেই দায়সারাভাবে অ্যানেস্থেসিয়ার ইনজেকশন পুশ করেন অথবা ওটি বয়দের দিয়ে এই বিপজ্জনক কাজটি করানো হয়।
আইন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কড়া নির্দেশনা- আছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) বিধিমালার পাশাপাশি দি মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর নির্দেশনা অনুযায়ী:
*** বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) স্বীকৃত নিবন্ধিত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছাড়া কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার বা ইন্টারভেনশনাল প্রসিডিউর পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
*** নিরাপদ অ্যানেস্থেটিক গ্যাস: ক্ষতিকর ‘হ্যালোথেন’ গ্যাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নিরাপদ ‘আইসোф্লুরেন’ বা ‘সেভোফ্লুরেন’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে.
*** সহকারী চিকিৎসক: অপারেশনের সময় মূল সার্জনের পাশাপাশি ওটিতে একজন নিবন্ধিত সহকারী চিকিৎসক উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীদের উদ্বেগ:
মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানেস্থেসিয়া কেবল একটি ইনজেকশন নয়; এটি রোগীর ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃৎপিণ্ডের অবস্থার ওপর নির্ভর করে সুনির্দিষ্ট মাত্রায় দেওয়া হয়। অপ্রশিক্ষিত ও পরিপূর্ণ ডিগ্রিবিহীন চিকিৎসক দিয়ে, অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হলে রোগীর স্থায়ী ব্রেন ড্যামেজ (মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হওয়া), কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা অপারেশন টেবিলেই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বানারীপাড়ার একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, “ক্লিনিকগুলো নামকরা ডাক্তারের নাম ভাঙিয়ে রোগী ভর্তি করায়। কিন্তু অপারেশনের ভেতরে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার জন্য কোনো স্বীকৃত ডাক্তার থাকে না। অনেক সময় ওটি বয়দের দিয়েই রোগীদের অবশ করানো হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ব্যক্তিবর্গ
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:
সরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ সংকটের সুযোগ নিয়ে, একশ্রেণীর ক্লিনিক মালিক এই ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, বানারীপাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা সকল বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স, ওটি ব্যবস্থা এবং অ্যানেস্থেসিয়া প্রদানকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।