বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সরকারি ও আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কোনো রকম ডিগ্রিধারী অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ (অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট) ছাড়াই নিয়মিত জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা অমান্য করে এসব প্রতিষ্ঠানে রোগীদের অজ্ঞান বা অবশ করার সংবেদনশীল কাজটি করছেন পরিপূর্ণ ডিগ্রি ছাড়া চিকিৎসক, অনভিজ্ঞ ওটি বয়, নার্স কিংবা হাতুড়ে টেকনিশিয়ানরা। ফলে যে কোনো মুহূর্তে প্রসূতি মা ও সাধারণ রোগীদের প্রাণহানির মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বাস্তব চিত্রঅনুসন্ধানে জানা যায়, বানারীপাড়া পৌর শহর ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে, নিয়মিত সিজারিয়ান ডেলিভারি,অ্যাপেনডিসাইটিসহার্নিয়াসহ বিভিন্ন সার্জারি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে সিজার বা অস্ত্রোপচারের জন্যে খরচ বাঁচাতে কোনো নিবন্ধিত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট রাখা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে সার্জন নিজেই দায়সারাভাবে অ্যানেস্থেসিয়ার ইনজেকশন পুশ করেন অথবা ওটি বয়দের দিয়ে এই বিপজ্জনক কাজটি করানো হয়।
আইন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কড়া নির্দেশনা- আছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) বিধিমালার পাশাপাশি দি মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর নির্দেশনা অনুযায়ী:
*** বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) স্বীকৃত নিবন্ধিত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছাড়া কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার বা ইন্টারভেনশনাল প্রসিডিউর পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
*** নিরাপদ অ্যানেস্থেটিক গ্যাস: ক্ষতিকর 'হ্যালোথেন' গ্যাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নিরাপদ 'আইসোф্লুরেন' বা 'সেভোফ্লুরেন' ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে.
*** সহকারী চিকিৎসক: অপারেশনের সময় মূল সার্জনের পাশাপাশি ওটিতে একজন নিবন্ধিত সহকারী চিকিৎসক উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগীদের উদ্বেগ:
মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানেস্থেসিয়া কেবল একটি ইনজেকশন নয়; এটি রোগীর ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃৎপিণ্ডের অবস্থার ওপর নির্ভর করে সুনির্দিষ্ট মাত্রায় দেওয়া হয়। অপ্রশিক্ষিত ও পরিপূর্ণ ডিগ্রিবিহীন চিকিৎসক দিয়ে, অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হলে রোগীর স্থায়ী ব্রেন ড্যামেজ (মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হওয়া), কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা অপারেশন টেবিলেই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বানারীপাড়ার একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, "ক্লিনিকগুলো নামকরা ডাক্তারের নাম ভাঙিয়ে রোগী ভর্তি করায়। কিন্তু অপারেশনের ভেতরে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার জন্য কোনো স্বীকৃত ডাক্তার থাকে না। অনেক সময় ওটি বয়দের দিয়েই রোগীদের অবশ করানো হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ব্যক্তিবর্গ
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:
সরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ সংকটের সুযোগ নিয়ে, একশ্রেণীর ক্লিনিক মালিক এই ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, বানারীপাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা সকল বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স, ওটি ব্যবস্থা এবং অ্যানেস্থেসিয়া প্রদানকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ে বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ বেল্লাল তালুকদার
প্রধান কার্যালয় ফ্লাট#এ ৫ ট্রফিকাল হোম ৫৫/৫৬ শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন রোড মগবাজার রমনা ঢাকা-১২১৭
মোবাইল নং- 01712573978
ই-মেইল:- ajkercrimenews@gmail.com
Copyright © 2026 আজকের ক্রাইম নিউজ. All rights reserved.