সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

বিরামপুরে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব জোতবানি ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, চরম মানবিক বিপর্যয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে আকস্মিক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ২৩ মে ২০২৬ দিবাগত গভীর রাতে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাসে পুরো এলাকা মুহূর্তেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
ঝড়ের তাণ্ডবে শতাধিক পরিবারের বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়, অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
জোতবানি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জোতবানি ইউনিয়ন এর জোতবিষু, কোচপাড়া ও জোতবানি গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব এলাকায় প্রায় ১০০টির বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ঝড়ের আকস্মিকতায় অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
রাতের অন্ধকারে আতঙ্কের মুহূর্ত
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ প্রবল ঝড় শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘরের টিন উড়ে যায়, গাছ উপড়ে পড়ে এবং চারদিকে ভাঙচুরের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
দিওড় ইউনিয়নেও ক্ষয়ক্ষতি
উপজেলার দিওড় ইউনিয়ন এর ধানঘরা ও কুছা মোড় এলাকায়ও কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন বিরামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ শফিকুর রহমান দুলাল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগীদের দুর্দশা
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানান, বছরের পর বছর কষ্ট করে গড়ে তোলা বসতঘর কয়েক মিনিটের ঝড়েই ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
এক ভুক্তভোগী বলেন,
“সবকিছু চোখের সামনে শেষ হয়ে গেছে। ঘর নেই, থাকার জায়গা নেই।”
সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত
ঝড়ের পর বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা পরিষ্কার ও আংশিক পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি খাদ্য, টিন, শুকনো খাবার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই ঘর নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি।

এলাকাবাসী আহ্বান জানিয়েছেন, এই সংকটময় সময়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলো যেন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় এবং পুনর্বাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিরামপুরে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব জোতবানি ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, চরম মানবিক বিপর্যয়

আপডেট সময় : ০৬:৪১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে আকস্মিক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ২৩ মে ২০২৬ দিবাগত গভীর রাতে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাসে পুরো এলাকা মুহূর্তেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
ঝড়ের তাণ্ডবে শতাধিক পরিবারের বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়, অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
জোতবানি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জোতবানি ইউনিয়ন এর জোতবিষু, কোচপাড়া ও জোতবানি গ্রাম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব এলাকায় প্রায় ১০০টির বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ঝড়ের আকস্মিকতায় অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
রাতের অন্ধকারে আতঙ্কের মুহূর্ত
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ প্রবল ঝড় শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘরের টিন উড়ে যায়, গাছ উপড়ে পড়ে এবং চারদিকে ভাঙচুরের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
দিওড় ইউনিয়নেও ক্ষয়ক্ষতি
উপজেলার দিওড় ইউনিয়ন এর ধানঘরা ও কুছা মোড় এলাকায়ও কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন বিরামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ শফিকুর রহমান দুলাল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগীদের দুর্দশা
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানান, বছরের পর বছর কষ্ট করে গড়ে তোলা বসতঘর কয়েক মিনিটের ঝড়েই ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
এক ভুক্তভোগী বলেন,
“সবকিছু চোখের সামনে শেষ হয়ে গেছে। ঘর নেই, থাকার জায়গা নেই।”
সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত
ঝড়ের পর বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা পরিষ্কার ও আংশিক পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি খাদ্য, টিন, শুকনো খাবার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই ঘর নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি।

এলাকাবাসী আহ্বান জানিয়েছেন, এই সংকটময় সময়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলো যেন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় এবং পুনর্বাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।