ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ব্যবসায়িকে জিম্মি মানববন্ধন থেকে বিচার দাবি
- আপডেট সময় : ০৫:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
আজকের ক্রাইম নিউজ,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ব্যবসায়িকে জিম্মি করার ঘটনায় মঙ্গলবার মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমতলী বাজারে হওয়া এ মানববন্ধন থেকে জড়িতদের বিচার দাবি করা হয়।
চান্দুরা ইউনিয়নের লোকজন ও আমতলী বাজারের ব্যবসায়িরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। তিন শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এ সময় বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
গত রবিবার ‘৯৯৯’ এ কল দিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অপহরণকারিদের জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার হন রুপক রায় নামে এক ব্যবসায়ি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই দুই ভাইকে আটক করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা গোপাল রায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে সোমবার সকালে নথিভুক্ত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার আলাদাউদপুর গ্রামের লাভলুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪০) ও তার ভাই শাহনূর রহমান। মঙ্গলবার আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। মামলায় লাভলুর রহমানকেও আসামী করা হয়েছে। আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও একই অভিযোগে মামলা হয়েছে। জিম্মি দশায় থাকা অবস্থায় মারধরে আহত ব্যবসায়ি রুপক রায় স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রবিবার সকালে আলাদাউপুর গ্রামের সাহা পাড়ার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ি রূপক রায় আমতলী বাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিকাশে টাকা পাঠানোর কথা বলে কৌশলে আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রূপক সাহাকে বেধে মারধর করা হয়। তার কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তাকে অপহরণ করার জন্য প্রস্ততি নেওয়া হয়। রূপকের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনের ম্যাসেজে জানানো হয় সে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আছে ও তার ফোন হারিয়ে গেছে। তবে রূপককে আটকে রাখার বিষয়টি দুপুরের দিকে জানাজনি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে ‘৯৯৯’ এ ফোন করা হয়। পাশাপাশি থানায়ও জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি গ্রামের লোকজন ছুটে গিয়ে রূপককে উদ্ধার করেন। এ সময় বাবা লাভলুর রহমান ও দুই ছেলেকে আটক করে পুলিশ। পরে লাভলুর রহমানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
রূপক জানান, তাকে আটক করে একাধিক খালি স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেওয়া হয়। তাকে বেদম পিটিয়ে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। পুলিশের খবর দেওয়া হলো এ কথা বলে আরো বেশি মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার সারা শরীরে পুচিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।
রূপকের বাবা গোপাল রায় জানান, পুলিশ ও এলাকাবাসী গিয়ে উদ্ধার না করলে হয়তো ছেলেকে ফিরে পেতেন না। এ ঘটনায় রবিবার রাতেই তিনি থানায় মামলা দিয়েছেন।
রূপকের স্বজনরা জানান, বাড়ি থেকে সামান্য দূরত্বের দোকানে না যাওয়ায় তারা চিন্তার মধ্যে পড়েন। রূপককে উদ্ধারের পর স্বস্থি ফিরে আসে। তবে আনোয়ার, তার বাবা ও ভাইয়ের হুমকিতে তারা তটস্থ। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পরও তারা উচ্চবাচ্য করে হুমকি দিতে থাকে। একদিনেই জামিনে বের হয়ে এসে পরিবারের যে কাউকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় শাহনূর।
এ নিয়ে মঙ্গলবার হওয়া মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, আমতলী বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক আফজাল হোসেন মোল্লা, চান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রফিক মাস্টার, চান্দুরা ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি সোহাগ খন্দকার, খেলাফত মজলিস বিজয়নগরের সভাপতি তানভীর খান, বাছির সরদার, রিপন মিয়া, প্রসেনজিৎ মালাকার প্রমুখ।এ সময় বক্তারা বলেন, ‘এই পরিবারের লোকজন মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায়কে পেশা হিসেবে নিয়েছে। এর আগেও তারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশকে ধন্যবাদ যে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বাকি এক আসামীকে গ্রেপ্তার ও জড়িতদের বিচার দাবি করছি।’

























