সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালে দু’সপ্তাহ ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সাপ্লাই বন্ধ, ফার্মেসিতেও একই চিত্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাহমুদ হাসান রনি চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গায় ১০০ শয্যার শয্যার হাসপাতালে ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। ফার্মেসিগুলোতেও মিলছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, অক্টোবরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের যে পরিমাণ চাহিদা ছিল নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তার চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। ১৫ ডিসেম্বরের পর জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ আছে।যতদিন ছিল, ততদিন দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন না পেয়ে কুকুর ও বিড়ালের আক্রান্ত রোগীরা ভোগান্তির পাশাপাশি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। জানা গেছে, সম্প্রতি কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের চাহিদাও বেড়েছে।চিকিৎসকরা আক্রমণের তারিখ উল্লেখ করে বিভিন্ন কোম্পানির ভ্যাকসিনের নাম লিখে ফার্মেসি থেকে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। রোগীরা জীবন রক্ষায় ভ্যাকসিনের জন্য ছোটাছুটি করছেন। দুই-একটি ফার্মেসিতে পাওয়া গেলেও তারা দাম বেশি নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বরের ভ্যাকসিন এখনো হাসপাতালে পৌঁছেনি। গত ২১ ডিসেম্বর হাসপাতালের র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের মজুত সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ আসেনি। কবে নাগাত আসবে সেটারও নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এতে জেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের জরুরি জলাতঙ্ক প্রতিরোধ চিকিৎসা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত র‌্যাবিস ভ্যাকসিন বিতরণ কক্ষে প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী রোগী ও তাদের স্বজনরা ভিড় করছেন। তবে ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসা না নিয়েই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী টিকা নিতে এসেছেন। কিন্তু হাসপাতাল ও ফার্মেসি—কোথাও ভ্যাকসিন না পেয়ে সবাইকে ফিরে যেতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই বলে জানা গেছে। জেলার সিভিল সার্জন জানান,হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুত নেই। প্রতিটি উপজেলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র দিয়ে রাখা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন, আরও বলেন কুকুর, বিড়াল, বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো টিকা না দিলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিশ্চিতভাবেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকেন। বর্তমানে যারা কামড়ের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেই এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, র‌্যাবিস বা জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত মরণঘাতী রোগ, যা কুকুর, বিড়াল, শেয়াল ও বেজির মতো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এ রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, দেশজুড়ে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সরকারিভাবে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সদর হাসপাতালে গত ২১ ডিসেম্বর ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। নিয়মিত চাহিদা পাঠানো হলেও আপাতত ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালে দু’সপ্তাহ ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের সাপ্লাই বন্ধ, ফার্মেসিতেও একই চিত্র

আপডেট সময় : ১২:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

মাহমুদ হাসান রনি চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গায় ১০০ শয্যার শয্যার হাসপাতালে ১৫ ডিসেম্বরের পর থেকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। ফার্মেসিগুলোতেও মিলছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, অক্টোবরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের যে পরিমাণ চাহিদা ছিল নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তার চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। ১৫ ডিসেম্বরের পর জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ আছে।যতদিন ছিল, ততদিন দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন না পেয়ে কুকুর ও বিড়ালের আক্রান্ত রোগীরা ভোগান্তির পাশাপাশি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। জানা গেছে, সম্প্রতি কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের চাহিদাও বেড়েছে।চিকিৎসকরা আক্রমণের তারিখ উল্লেখ করে বিভিন্ন কোম্পানির ভ্যাকসিনের নাম লিখে ফার্মেসি থেকে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। রোগীরা জীবন রক্ষায় ভ্যাকসিনের জন্য ছোটাছুটি করছেন। দুই-একটি ফার্মেসিতে পাওয়া গেলেও তারা দাম বেশি নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বরের ভ্যাকসিন এখনো হাসপাতালে পৌঁছেনি। গত ২১ ডিসেম্বর হাসপাতালের র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের মজুত সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ আসেনি। কবে নাগাত আসবে সেটারও নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এতে জেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের জরুরি জলাতঙ্ক প্রতিরোধ চিকিৎসা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত র‌্যাবিস ভ্যাকসিন বিতরণ কক্ষে প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী রোগী ও তাদের স্বজনরা ভিড় করছেন। তবে ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসা না নিয়েই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী টিকা নিতে এসেছেন। কিন্তু হাসপাতাল ও ফার্মেসি—কোথাও ভ্যাকসিন না পেয়ে সবাইকে ফিরে যেতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই বলে জানা গেছে। জেলার সিভিল সার্জন জানান,হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুত নেই। প্রতিটি উপজেলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র দিয়ে রাখা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন, আরও বলেন কুকুর, বিড়াল, বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো টিকা না দিলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিশ্চিতভাবেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকেন। বর্তমানে যারা কামড়ের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেই এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, র‌্যাবিস বা জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত মরণঘাতী রোগ, যা কুকুর, বিড়াল, শেয়াল ও বেজির মতো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এ রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, দেশজুড়ে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সরকারিভাবে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সদর হাসপাতালে গত ২১ ডিসেম্বর ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। নিয়মিত চাহিদা পাঠানো হলেও আপাতত ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।