১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন, ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, বুধবার, ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মাহমুদ হাসান রনি চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত দিয়ে সত্তর বছরেরও বেশী ভারতের উড়িষ্যায় বসবাসকারী মুসলমান পরিবারের ১৪ জনকে বিএসএফ বাংলাদেশে জোরপূর্বক গোপনে পুশইন করেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দর্শনা বাসস্ট্যান্ডের পাশে কয়েকজন হিন্দিভাষাভাষি কে দেখতে পেয়ে এলাকাবাসি পুলিশকে খবর দেয়।পরে পুলিশ ও বিজিবি এসে একই পরিবারের ৬ জন নারী, ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন শিশুসহ ১৪ জনকে আটক করে।দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে রয়েছেন জব্বার শেখ, হাকিম শেখ, শেখ উকিল, শেখ বান্টি, শেখ রাজা, আলকুনি বিবি, সাগেরা বিবি, শাকিলা, মেহরুন বিবি, নাসরিন, রোহিত, তৈহিদ, শমশেরি বিবি ও গুলশান বিবি। আটককৃতরা জানায়, সীমান্তের কাঁটাতার গলিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের ঠেলে পাঠিয়েছে বিএসএফ।তারা জানায়, তাদের বাড়ি ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের জগসিং জেলার সাতকুড়া ধনিপুর গ্রামে। তারা বলেন, আমরা ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা। বিএসএফ তাদেরকে ধরে নিয়ে আসে। ভারতের নাগরিক হিসেবে যেসব কাগজপত্র তাদের কাছে ছিল তা কেড়ে নেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গার কোন সীমান্ত দিয়ে এদেরকে ঠেলে দেয়া হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।আটককৃত জব্বার শেখ বলেন,মাসখানেক আগে এক গভীর রাতে স্থানীয় থানা পুলিশ পরিবারের ১৪ সদস্যকে ধরে নিয়ে যায়। আটগড় জেলখানায় ১ মাস ৫ দিন হাজত বাস শেষে বৃহস্পতিবার তারা সবাই মুক্তি পান। ওই দিন রাত ৩টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ১৪ জনকে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়ে দেয়। ভারতীয় পুলিশ তাদের ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ দিয়ে ধরে জেলে পাঠায়। এসময় তাদের আধার কার্ড, রেশন কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। সীমান্তে এনে কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে মধ্য রাতের পর তাদের ঠেলে ঢুকিয়ে দেয়। অনুপ্রবেশকারীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী তাদের চুয়াডাঙ্গার দর্শনা নীমতলা সীমান্ত গলিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের অনেকেই অসুস্থ।তাদেরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হবে। তারপর জেলা প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।