সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

চুয়াডাঙ্গায় ঠান্ডার শুরুতেই ডায়রিয়া শুরু, হাসপাতালে ভর্তির বেশীর ভাগই শিশু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।তবে এ আক্রান্ত বেশী অসুস্থ হচ্ছে শিশুরা। গত দু সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেই শিশুসহ প্রায় এক হাজার জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের আউটডোরে আরও ১০০/২০০ রোগী চিকিৎসা নিতে তো আসছেই।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অভিভাবকদের সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। শীতের শুরুতে আবহাওয়া পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যবিধি অবহেলা করাই ডায়রিয়া বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডগুলোর ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ককে ঠান্ডা মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৭০ জন। ১৪ ডিসেম্বরই ১০৯ জন ভর্তি হয়েছে। ওয়ার্ডগুলো তিল পরিমাণ জায়গা ছাড়া ভর্তি রোগী নিয়ে ভরা। শীতের এই সময়ে মেঝেতে বসে অসুস্থ শিশুদের সঙ্গে থাকা মায়েদের জন্য চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুদের মায়েরা বলেন, দ২/৩ বছরের ছেলে মেয়েরা হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন কোনো বেড খালি নেই, ঠান্ডা মেঝেতেই শিশুকে নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। এক অভিভাবক মরিয়ম খাতুন জানান, রাতে শীত বেশি থাকায় মেঝেতে শিশুকে রাখা খুব কষ্টের, তবে কোনো উপায় নেই।চিকিৎসক ও নার্সদেরও রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন জানান, রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি।
ডা. খোকন বলেন, এখনই সচেতন না হলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সামান্য অবহেলাও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চুয়াডাঙ্গায় ঠান্ডার শুরুতেই ডায়রিয়া শুরু, হাসপাতালে ভর্তির বেশীর ভাগই শিশু

আপডেট সময় : ১১:১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

মাহমুদ হাসান রনি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।তবে এ আক্রান্ত বেশী অসুস্থ হচ্ছে শিশুরা। গত দু সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেই শিশুসহ প্রায় এক হাজার জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের আউটডোরে আরও ১০০/২০০ রোগী চিকিৎসা নিতে তো আসছেই।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অভিভাবকদের সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। শীতের শুরুতে আবহাওয়া পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যবিধি অবহেলা করাই ডায়রিয়া বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডগুলোর ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। পর্যাপ্ত বেড না থাকায় অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ককে ঠান্ডা মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৭০ জন। ১৪ ডিসেম্বরই ১০৯ জন ভর্তি হয়েছে। ওয়ার্ডগুলো তিল পরিমাণ জায়গা ছাড়া ভর্তি রোগী নিয়ে ভরা। শীতের এই সময়ে মেঝেতে বসে অসুস্থ শিশুদের সঙ্গে থাকা মায়েদের জন্য চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুদের মায়েরা বলেন, দ২/৩ বছরের ছেলে মেয়েরা হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন কোনো বেড খালি নেই, ঠান্ডা মেঝেতেই শিশুকে নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। এক অভিভাবক মরিয়ম খাতুন জানান, রাতে শীত বেশি থাকায় মেঝেতে শিশুকে রাখা খুব কষ্টের, তবে কোনো উপায় নেই।চিকিৎসক ও নার্সদেরও রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন জানান, রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি।
ডা. খোকন বলেন, এখনই সচেতন না হলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সামান্য অবহেলাও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।