সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ ​রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ​ ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় দুই অভিযোগ ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ,

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ: দক্ষিণে ভয়াবহ লোডশেডিং

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পটুয়াখালীর পায়রা। আর সেই পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট তিন দিন ধরে বন্ধ। ফলে দক্ষিণাঞ্চলসহ গোটা দেশে দেখা দিয়েছে চরম লোডশেডিং। গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। তবে বেশি বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকা এবং প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ায় মানসিক চাপে আছেন শিক্ষার্থীরা। শিডিউল মেইনটেনেন্সের জন্য সাময়িকভাবে এক ইউনিট বন্ধ রয়েছে বলে জানায় বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তত্বাবাধায়ক প্রকৌশলী শাহ আব্দুল হাসিব জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রে নিয়মিত যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় এক ইউনিটের উৎপাদন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়। তবে ৪ জুলাই ইউনিটটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে ফের উৎপাদন শুরু হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২৪ জুন বিকেলে বন্ধ হয় পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট। ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুই ইউনিটের একটি বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় লোডশেডিং। দৈনিক ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না। ফলে গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, কয়েক দিন ধরে দিনে-রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকা এবং প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ায় মানসিক চাপে আছেন শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় গ্রিডে কর্মরত একজন সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পটুয়াখালী জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট। সেখানে বুধবার থেকে তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় বেশি মাত্রায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে ন্যাশনাল ক্রাইসিসের কারণে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেশি হচ্ছে। তার ওপর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না হওয়ায় পটুয়াখালী জেলায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে। এই ‘ন্যাশনাল ক্রাইসিস’ থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মুহিম জানান, এ জেলায় মোট ৩২ হাজার গ্রাহকের জন্য ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে ১০-১২ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পৌর এলাকায়ও মাঝে মধ্যে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সহকারী ব্যবস্থাপক (তদন্ত) শাহ মণি জিকো গণমাধ্যমকে বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একটি বড় প্রকল্প। এই প্ল্যান্টের উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ দরকার। এ জন্য গতকাল থেকে এই প্ল্যান্টের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ করে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৫ মে প্রথম কেন্দ্রটি পুরোপুরি উৎপাদনে আসে দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পায়রা। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চীন ও বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত হয়েছে। এরপর ২০২৩ সালের ২৫ মে ডলার সংকটে কয়লার দাম পরিশোধ করতে না পারায় গত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে ৫ জুন দুপুরে কেন্দ্রটির ইউনিটটিও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ: দক্ষিণে ভয়াবহ লোডশেডিং

আপডেট সময় : ০৮:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪

আজকের ক্রাইম ডেক্স

দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পটুয়াখালীর পায়রা। আর সেই পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট তিন দিন ধরে বন্ধ। ফলে দক্ষিণাঞ্চলসহ গোটা দেশে দেখা দিয়েছে চরম লোডশেডিং। গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। তবে বেশি বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকা এবং প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ায় মানসিক চাপে আছেন শিক্ষার্থীরা। শিডিউল মেইনটেনেন্সের জন্য সাময়িকভাবে এক ইউনিট বন্ধ রয়েছে বলে জানায় বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তত্বাবাধায়ক প্রকৌশলী শাহ আব্দুল হাসিব জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রে নিয়মিত যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় এক ইউনিটের উৎপাদন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়। তবে ৪ জুলাই ইউনিটটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে ফের উৎপাদন শুরু হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২৪ জুন বিকেলে বন্ধ হয় পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট। ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুই ইউনিটের একটি বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় লোডশেডিং। দৈনিক ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না। ফলে গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, কয়েক দিন ধরে দিনে-রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকা এবং প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ায় মানসিক চাপে আছেন শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় গ্রিডে কর্মরত একজন সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পটুয়াখালী জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট। সেখানে বুধবার থেকে তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় বেশি মাত্রায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে ন্যাশনাল ক্রাইসিসের কারণে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেশি হচ্ছে। তার ওপর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না হওয়ায় পটুয়াখালী জেলায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে। এই ‘ন্যাশনাল ক্রাইসিস’ থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মুহিম জানান, এ জেলায় মোট ৩২ হাজার গ্রাহকের জন্য ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে ১০-১২ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পৌর এলাকায়ও মাঝে মধ্যে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সহকারী ব্যবস্থাপক (তদন্ত) শাহ মণি জিকো গণমাধ্যমকে বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একটি বড় প্রকল্প। এই প্ল্যান্টের উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ দরকার। এ জন্য গতকাল থেকে এই প্ল্যান্টের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ করে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৫ মে প্রথম কেন্দ্রটি পুরোপুরি উৎপাদনে আসে দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পায়রা। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চীন ও বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত হয়েছে। এরপর ২০২৩ সালের ২৫ মে ডলার সংকটে কয়লার দাম পরিশোধ করতে না পারায় গত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে ৫ জুন দুপুরে কেন্দ্রটির ইউনিটটিও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।