২৩ Jul ২০২৪, ০৬:৪২ অপরাহ্ন, ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি, মঙ্গলবার, ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রতীক পেয়ে ভোটের মাঠে প্রার্থীরা

ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রতীক পেয়ে ভোটের মাঠে প্রার্থীরা

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮ মে ১ম ধাপে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়রম্যান ভাইস চেয়ারম্যান প্রর্থীরা প্রতীক পেয়ে এখন ভোটের মাঠে। প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
চেয়ারম্যান ও ভাইস,চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪ জন চেয়ারম্যান ৮ জন ভাইস,চেয়ারম্যান ও ৮ জন নারী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
(২৩ এপ্রিল) মঙ্গলবার দিনাজপুর সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পেয়েই প্রার্থীরা প্রচারে মাঠে নামে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ৪টি ইউনিয়ন ৪৪টি ভোট কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৮২ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৫৩ হাজার ২১৫ জন ও মহিলা ভোটার ৫৩ হাজার ৮ শত ৬৭ জন।
এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে চার জন প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন, কাজী শুভ রহমান চৌধুরী (আনারস), মোঃ তৌহিদুল ইসলাম সরকার (টেলিফোন), মোঃ রবিউল ইসলাম ( কাপ-পিরিচ) ও মোঃ সারওয়ার হোসেন (মোটরসাইকেল)। এছাড়া ৮ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কৌশলী বিএনপির একাংশ ভোটের মাঠে। একাধিক প্রার্থী আ.লীগের। একই পদে তিন প্রার্থীকে নিয়ে টালমাটাল আওয়ামলীগ। প্রথম ধাপে আগামী ৮ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দুজনসহ মনোনয়ন উত্তোলন করেছিলেন ৫ জন প্রার্থী।
তবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে শেষ পর্যন্ত নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মাদ শামীম হোসেন চৌধুরী। এদিকে ২২ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে এসেও চেয়ারম্যান পদে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সারোয়ার হোসেন। দলটি থেকে তারা দুজন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন।
শুরু থেকেই দলটির স্থানীয় সূত্র থেকে শোনা যাচ্ছিল কৌশলগত কারণেই চেয়ারম্যান পদে দুজন নেতা মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন। যদি দলীয় সিদ্ধান্ত কিংবা অন্য কোন কারণে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামীম চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করেন, তবে মাঠে আওয়ামী লীগকে অস্বস্তিতে ফেলতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আরেক নেতা সারোয়ার হোসেন। শেষ পর্যন্ত সেটিই বাস্তবে রূপ নিলো।
তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এসে কেউ নির্বাচন করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহম্মেদ কচি।
অপরদিকে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাখে খন্দকার শাহানশা এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না এ জন্য তিনি মনোনয়ন উত্তোলন করেননি। এতে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের সমর্থন পাবেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাজী শুভ রহমান চৌধুরী।
জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনি প্রচারণায় উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেছিলেন দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক। তবুও বেশ অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ! চেয়ারম্যান পদে শুভ রহমান চৌধুরী ছাড়াও মনোনয়ন উত্তোলন করেিছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আইনজীবী রবিউল ইসলাম এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম। এতে একই পদে তিন প্রার্থীকে নিয়ে টালমাটাল দলটি।ঘোড়াঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সদের আলী খন্দকার বলেন, এবারে প্রতীক ছাড়াই নির্বাচন হচ্ছে। সুতরাং যে কেউ প্রার্থী হতে পারে। একাধিক প্রার্থী নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যথা নেই।
এদিকে মুঠোফোনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহম্মেদ কচি বলেন, প্রহসনের কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ করেননি। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করেছি। দলের নির্দেশনার বাইরে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
একই অবস্থা ভাইস চেয়ারম্যান পদে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির আলমগীর। এতে একই পদে মনোনয়ন উত্তোলন করা আরো ৮ প্রার্থীর কাছে পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই জামায়াত নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আলমগীর হোসেন। তাতে বেশ স্বস্তি ফিরেছে এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্য প্রার্থীদের মাঝে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে শিবু কিস্কু নামে স্কুল শিক্ষকের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইফতেখার আহম্মেদ বাবু, শহিদুল ইসলাম আকাশ, মাহফুজার রহমান, জাহাঙ্গীর আলম সেলিম রেজা, মুক্তার হোসেন ও আতিকুর রহমান টুকু। এছাড়াও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শেষ পর্যন্ত মাঠে রয়েছেন ৯ জন প্রার্থী।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শাহানুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019