সংবাদ শিরোনাম ::
কেডিসিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আবু নাসের রহমাতুল্লাহ দামুড়হুদায় ১৫শ বস্তা সার জব্দ, অবৈধ পন্থায় মজুদ, গোডাউন সিলগালা পিরোজপুরে মন্দিরের ভূমিতে জামায়াত নেতার ধান চাষ! দখলের অভিযোগ মিথ্যা ডায়েরির প্রতিবাদ: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী গ্রামবাসীর ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ নেই ৩ মাসে ১৮৮ কি স্বাভাবিক প্রসব বন্ধ সিজারিয়ান রাজনীতি ও সমাজসেবায় দীর্ঘ পথচলা, জনসেবার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভেজ মৃধা। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা উজিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৯ জন গ্রেপ্তার বিরামপুরের বিনাইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা সাবদার হোসেনের, চাইলেন দোয়া ও সমর্থন দর্শনা ইমিগ্রেশনে ভারতে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ নেতা আটক

খুলনা জেলা ও কেএমপি পুলিশের সমন্বয়ে সক্রিয় চোর সদস্য গ্রেপ্তার,চুরি করা নগদ অর্থ উদ্ধার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ইমরান জামান কাজল।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেষ্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজী ডিসিপ্লিন বিভাগের অধ্যাপক ড.এস.এম. ফিরোজ গত ১২ মার্চ ২০২৪ খ্রিঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা হতে দুপুর ১২.৩০ ঘটিকায় পাঁচটি এ্যাকাউন্ট হতে সর্বমোট ৮,৯৫,০০০/-(আট লক্ষ পচানব্বই হাজার টাকা) উত্তোলন করেন।

পরবর্তীতে তিনি দুপুর ০১.১০ ঘটিকায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং একাডেমি ভবনে রুম নং-২২৬০ তে তার নিজস্ব রুমে গিয়ে উত্তোলনকৃত ৮,৯৫,০০০/-(আট লক্ষ পচানব্বই হাজার টাকা) ব্যাগসহ চেয়ারের উপরে রেখে রুমের বাহিরে করিডরে ওজু করতে যান।

অতঃপর আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ব্যাগের কাছে এসে ব্যাগের চেন খোলা অবস্থায় পান। ব্যাগের ভিতর উঁকি দেখেন ব্যাগে রক্ষিত সমুদয় টাকা গায়েব হয়ে গেছে। তার বুঝতে বাকী থাকে না, ঘটনাটি কি ঘটেছে। অতঃপর তিনি দ্রুততার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখতে যান।

সেখানে তিনি সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখতে পান যে অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি কিছু একটা নিয়ে দৌড়ে মেইন গেট দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি দিশেহারা অবস্থায় আশেপাশে খোঁজ করতে থাকেন। অতঃপর কোন কূল কিনারা না পেয়ে উক্ত ঘটনার সিসি ফুটেজের প্রেক্ষিতে হরিণটানা থানার মামলা নং-১০, তারিখ-১৩/০৩/২০২৪ খ্রিঃ ধারা-৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোড সংক্রান্তে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে কেএমপি’র হরিণটানা থানা পুলিশ একটি চৌকস টিম গঠন করে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে থাকে। পরবর্তীতে হরিণটানা থানা পুলিশ সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে পর্যালোচনা করে।

এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভ্যাসগত ও পেশাদার চোর চক্রের তথ্য সংগ্রহ করে সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজের সাথে একজন ব্যক্তির মিল পেয়ে দিঘলিয়া থানাধীন পানিগাতী গ্রামে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য ০১) মোঃ টিটন খান (৩৫), পিতা-মোঃ হারুন খান, সাং-পানিগাতী, পশ্চিমপাড়া, থানা-দিঘলিয়া, জেলা-খুলনা’কে চোরাই নগদ অর্থ ৮,৯৫,০০০/-(আট লক্ষ পচানব্বই হাজার) টাকাসহ ৩০/০৩/২০২৪ খ্রি. বিকালবেলা গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে আসামি এবং নগদ অর্থ উদ্ধারের স্থান হতে স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবির আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদককে জানাই, যে উক্ত টিটন খান ওরফে টিটু একজন পেশাগত ভাবে চোর, তার যন্ত্রণা এলাকাবাসী অত্যন্ত অতিষ্ঠ।চুরি করা তার পেশা, বিভিন্ন স্থান হতে টাকা পয়সা এবং অন্যান্য দামি জিনিসপত্র যেমন মোবাইল ফোন স্বর্ণালংকার ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র চুরি করে থাকে।

পরবর্তীতে উক্ত আসামিকে দিঘলিয়া থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদের শেষে আসামিকে হরিনটানা থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী জানায় যে সে অভ্যাসগত চোর। সে মূলত রেগুলার বিভিন্ন ব্যাংক কম্পাউন্ডে ঘোরাফেরা করে। একাউন্ট থেকে কেউ টাকা উত্তোলন করলেই সে তাকে নিবিড়ভাবে অনুসরণ করতে থাকে। পরবর্তীতে আসামিকে ৩১-৩-২০২৪ ইংরেজি তারিখে দুপুর ৩ ঘটিকায় খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটর ৩নং আদালতে উপস্থিত করা হয়। এবং সেখানে আসামি ১৬৪ ধারা জবানবন্দীদের নিজের দোষ স্বীকার করে।

টাকা উত্তোলনকারীর অসাবধনতার সুযোগ নিয়ে সে চুরি সম্পাদন করে। এটাই তার পেশা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চুরিটিও সে নিজেই করেছে। চুরি করার পরের দিন টাকাগুলো সে তার নিজের ব্যাংক একাউন্টে জমা রেখেছিল। পরবর্তীতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে টাকাগুলো উত্তোলন করলে পুলিশ টের পেয়ে যায়।

টাকাগুলো খরচ করার পূর্বেই সে নগদ অর্থসহ পুলিশের গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে যথানিয়মে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উক্ত গ্রেফতারকৃত আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্যর বিরুদ্ধে ১) খুলনা এর দিঘলিয়া থানার মামলা নং-১১, তারিখ-২৬/০১/২০২৪ খ্রিঃ, ধারা-৪৬১/৩৮০ পেনাল কোড; ২) খুলনা এর দিঘলিয়া থানার মামলা নং-০৭, তারিখ-১৫/১০/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৩৮০/৪৫৭ পেনাল কোড; ৩) খুলনা এর পাইকগাছা থানার মামলা নং-১৩, তারিখ-১২/০১/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোড এবং ৪) বাগেরহাট এর রামপাল থানার মামলা নং-৪, তারিখ-০৫/০৫/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোডে মামলা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

খুলনা জেলা ও কেএমপি পুলিশের সমন্বয়ে সক্রিয় চোর সদস্য গ্রেপ্তার,চুরি করা নগদ অর্থ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪

খুলনা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ইমরান জামান কাজল।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেষ্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজী ডিসিপ্লিন বিভাগের অধ্যাপক ড.এস.এম. ফিরোজ গত ১২ মার্চ ২০২৪ খ্রিঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা হতে দুপুর ১২.৩০ ঘটিকায় পাঁচটি এ্যাকাউন্ট হতে সর্বমোট ৮,৯৫,০০০/-(আট লক্ষ পচানব্বই হাজার টাকা) উত্তোলন করেন।

পরবর্তীতে তিনি দুপুর ০১.১০ ঘটিকায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং একাডেমি ভবনে রুম নং-২২৬০ তে তার নিজস্ব রুমে গিয়ে উত্তোলনকৃত ৮,৯৫,০০০/-(আট লক্ষ পচানব্বই হাজার টাকা) ব্যাগসহ চেয়ারের উপরে রেখে রুমের বাহিরে করিডরে ওজু করতে যান।

অতঃপর আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ব্যাগের কাছে এসে ব্যাগের চেন খোলা অবস্থায় পান। ব্যাগের ভিতর উঁকি দেখেন ব্যাগে রক্ষিত সমুদয় টাকা গায়েব হয়ে গেছে। তার বুঝতে বাকী থাকে না, ঘটনাটি কি ঘটেছে। অতঃপর তিনি দ্রুততার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখতে যান।

সেখানে তিনি সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখতে পান যে অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি কিছু একটা নিয়ে দৌড়ে মেইন গেট দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি দিশেহারা অবস্থায় আশেপাশে খোঁজ করতে থাকেন। অতঃপর কোন কূল কিনারা না পেয়ে উক্ত ঘটনার সিসি ফুটেজের প্রেক্ষিতে হরিণটানা থানার মামলা নং-১০, তারিখ-১৩/০৩/২০২৪ খ্রিঃ ধারা-৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোড সংক্রান্তে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে কেএমপি’র হরিণটানা থানা পুলিশ একটি চৌকস টিম গঠন করে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে থাকে। পরবর্তীতে হরিণটানা থানা পুলিশ সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে পর্যালোচনা করে।

এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভ্যাসগত ও পেশাদার চোর চক্রের তথ্য সংগ্রহ করে সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজের সাথে একজন ব্যক্তির মিল পেয়ে দিঘলিয়া থানাধীন পানিগাতী গ্রামে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য ০১) মোঃ টিটন খান (৩৫), পিতা-মোঃ হারুন খান, সাং-পানিগাতী, পশ্চিমপাড়া, থানা-দিঘলিয়া, জেলা-খুলনা’কে চোরাই নগদ অর্থ ৮,৯৫,০০০/-(আট লক্ষ পচানব্বই হাজার) টাকাসহ ৩০/০৩/২০২৪ খ্রি. বিকালবেলা গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে আসামি এবং নগদ অর্থ উদ্ধারের স্থান হতে স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবির আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদককে জানাই, যে উক্ত টিটন খান ওরফে টিটু একজন পেশাগত ভাবে চোর, তার যন্ত্রণা এলাকাবাসী অত্যন্ত অতিষ্ঠ।চুরি করা তার পেশা, বিভিন্ন স্থান হতে টাকা পয়সা এবং অন্যান্য দামি জিনিসপত্র যেমন মোবাইল ফোন স্বর্ণালংকার ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র চুরি করে থাকে।

পরবর্তীতে উক্ত আসামিকে দিঘলিয়া থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদের শেষে আসামিকে হরিনটানা থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী জানায় যে সে অভ্যাসগত চোর। সে মূলত রেগুলার বিভিন্ন ব্যাংক কম্পাউন্ডে ঘোরাফেরা করে। একাউন্ট থেকে কেউ টাকা উত্তোলন করলেই সে তাকে নিবিড়ভাবে অনুসরণ করতে থাকে। পরবর্তীতে আসামিকে ৩১-৩-২০২৪ ইংরেজি তারিখে দুপুর ৩ ঘটিকায় খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটর ৩নং আদালতে উপস্থিত করা হয়। এবং সেখানে আসামি ১৬৪ ধারা জবানবন্দীদের নিজের দোষ স্বীকার করে।

টাকা উত্তোলনকারীর অসাবধনতার সুযোগ নিয়ে সে চুরি সম্পাদন করে। এটাই তার পেশা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চুরিটিও সে নিজেই করেছে। চুরি করার পরের দিন টাকাগুলো সে তার নিজের ব্যাংক একাউন্টে জমা রেখেছিল। পরবর্তীতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে টাকাগুলো উত্তোলন করলে পুলিশ টের পেয়ে যায়।

টাকাগুলো খরচ করার পূর্বেই সে নগদ অর্থসহ পুলিশের গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে যথানিয়মে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উক্ত গ্রেফতারকৃত আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্যর বিরুদ্ধে ১) খুলনা এর দিঘলিয়া থানার মামলা নং-১১, তারিখ-২৬/০১/২০২৪ খ্রিঃ, ধারা-৪৬১/৩৮০ পেনাল কোড; ২) খুলনা এর দিঘলিয়া থানার মামলা নং-০৭, তারিখ-১৫/১০/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৩৮০/৪৫৭ পেনাল কোড; ৩) খুলনা এর পাইকগাছা থানার মামলা নং-১৩, তারিখ-১২/০১/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোড এবং ৪) বাগেরহাট এর রামপাল থানার মামলা নং-৪, তারিখ-০৫/০৫/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোডে মামলা রয়েছে।