সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

২০ কোটি টাকায় মনোনয়ন’, ডিবির জালে ধরা ‘প্রতারকচক্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৩ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে সক্রিয় হতে শুরু করেছে প্রতারকচক্র। তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এক ভুক্তভোগী প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালী থেকে বাবা-মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরা বিভাগ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. ইয়াসিন (৪৬) ও তার মেয়ে সুরাইয়া ইয়াসমিন (২২)।

শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

অতিরিক্ত কমিশনার হারুন বলেন, সম্প্রতি একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে ফোন করে প্রতারকরা বলেন, আপনার মনোনয়নের বিষয় বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। আপনি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবেন। এ জন্য দলের ফান্ডে আপনাকে ২০ কোটি টাকা দিতে হবে। আপনি এই টাকা রেডি রাখবেন। যখন জমা দিতে বলা হবে তখন দেবেন। আর অল্প সময়ের মধ্যে আপনি দেখা করবেন। ২০ কোটি টাকা বলায় এই মনোনয়ন প্রার্থী বিষয়টি দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে অবহিত করেন। পরে বিষয়টি তিনি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন যে, একটি প্রতারক চক্র গণভবনের নাম ব্যবহার করে এমন একটি প্রতারণার চেষ্টা হচ্ছে। সেই ফোনকল করা ব্যক্তিকে নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার করার পর গোয়েন্দা পুলিশ দেখতে পায়, চক্রটি বাবা ও মেয়ে মিলে গড়ে তুলেছে। মেয়ে ও বাবা দুজনে মিলে বিভিন্ন জনকে ফোন করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করছেন। গ্রেপ্তার শেষে উদ্ধার হওয়া মোবাইলে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড পাওয়া গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা প্রধান বলেন, একেক সময়ে প্রতারণার একেকটি মৌসুম থাকে। আগে চাকরি, পোস্টিং, বিদেশে লোক পাঠানোসহ বিভিন্ন ভাবে প্রতারণা করে অনেককে সর্ব শান্ত করেছে। বর্তমানে চলছে মনোনয়ন প্রতারণা। নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণার পরেই নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যেহেতু অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন কিনেছে। তারা এটাকে ঘিরে প্রার্থীদের ফোন করে নমিনেশন পাবেন জানিয়ে ফান্ডে টাকা দিতে বলা হয়। অনেকেই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে কিছু টাকাও দিয়েছে। আবার কেউ কেউ টাকা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যারা টাকা না দিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন আমরা প্রতারকদের গ্রেপ্তার করছি। তাদের রিমান্ডে এনে এই চক্রের অন্য কারা জড়িত সেটা জানার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি আমরা তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা করার কৌশল পেয়েছি। এছাড়া তারা রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।

তিনি বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নামে নাম্বার ট্রু কলারে সেভ করে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। কিন্তু যারা টাকা দিচ্ছেন তাদের আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ একজন প্রার্থীকে নমিনেশন দেওয়ার আগে কয়েকটি ধাপে যাচাই-বাছাই করা হয়। ট্রু কলারে নাম সেভ করা দেখে কল পেলেই টাকা দিয়ে নমিনেশন পাবেন এটা এতো সহজ না। তাদের সাবধান হওয়া উচিত। বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের প্রতারকরা সক্রিয়। অনেক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেউ প্রতারণার শিকার হলে আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার বাবা-মে মনোনয়ন বাণিজ্যে মৌসুম হিসেবে প্রতারণা শুরু করে। অনেক কে প্রতারণার টার্গেট করেছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

২০ কোটি টাকায় মনোনয়ন’, ডিবির জালে ধরা ‘প্রতারকচক্র

আপডেট সময় : ১০:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে সক্রিয় হতে শুরু করেছে প্রতারকচক্র। তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এক ভুক্তভোগী প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালী থেকে বাবা-মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরা বিভাগ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. ইয়াসিন (৪৬) ও তার মেয়ে সুরাইয়া ইয়াসমিন (২২)।

শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

অতিরিক্ত কমিশনার হারুন বলেন, সম্প্রতি একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে ফোন করে প্রতারকরা বলেন, আপনার মনোনয়নের বিষয় বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। আপনি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবেন। এ জন্য দলের ফান্ডে আপনাকে ২০ কোটি টাকা দিতে হবে। আপনি এই টাকা রেডি রাখবেন। যখন জমা দিতে বলা হবে তখন দেবেন। আর অল্প সময়ের মধ্যে আপনি দেখা করবেন। ২০ কোটি টাকা বলায় এই মনোনয়ন প্রার্থী বিষয়টি দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে অবহিত করেন। পরে বিষয়টি তিনি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন যে, একটি প্রতারক চক্র গণভবনের নাম ব্যবহার করে এমন একটি প্রতারণার চেষ্টা হচ্ছে। সেই ফোনকল করা ব্যক্তিকে নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার করার পর গোয়েন্দা পুলিশ দেখতে পায়, চক্রটি বাবা ও মেয়ে মিলে গড়ে তুলেছে। মেয়ে ও বাবা দুজনে মিলে বিভিন্ন জনকে ফোন করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করছেন। গ্রেপ্তার শেষে উদ্ধার হওয়া মোবাইলে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড পাওয়া গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা প্রধান বলেন, একেক সময়ে প্রতারণার একেকটি মৌসুম থাকে। আগে চাকরি, পোস্টিং, বিদেশে লোক পাঠানোসহ বিভিন্ন ভাবে প্রতারণা করে অনেককে সর্ব শান্ত করেছে। বর্তমানে চলছে মনোনয়ন প্রতারণা। নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণার পরেই নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যেহেতু অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন কিনেছে। তারা এটাকে ঘিরে প্রার্থীদের ফোন করে নমিনেশন পাবেন জানিয়ে ফান্ডে টাকা দিতে বলা হয়। অনেকেই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে কিছু টাকাও দিয়েছে। আবার কেউ কেউ টাকা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যারা টাকা না দিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন আমরা প্রতারকদের গ্রেপ্তার করছি। তাদের রিমান্ডে এনে এই চক্রের অন্য কারা জড়িত সেটা জানার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি আমরা তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা করার কৌশল পেয়েছি। এছাড়া তারা রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।

তিনি বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নামে নাম্বার ট্রু কলারে সেভ করে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। কিন্তু যারা টাকা দিচ্ছেন তাদের আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ একজন প্রার্থীকে নমিনেশন দেওয়ার আগে কয়েকটি ধাপে যাচাই-বাছাই করা হয়। ট্রু কলারে নাম সেভ করা দেখে কল পেলেই টাকা দিয়ে নমিনেশন পাবেন এটা এতো সহজ না। তাদের সাবধান হওয়া উচিত। বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের প্রতারকরা সক্রিয়। অনেক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেউ প্রতারণার শিকার হলে আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার বাবা-মে মনোনয়ন বাণিজ্যে মৌসুম হিসেবে প্রতারণা শুরু করে। অনেক কে প্রতারণার টার্গেট করেছিল।