সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সুইজগেট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনি – জয়নুল আবেদীন এমপি বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক কাঁঠালিয়ায় ৮ পিস ইয়াবাসহ কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আটক ও স্থায়ী বহিষ্কার

স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৩ ৭৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক :: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সহিদ হোসেনকে (৪৫) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্ত্রী আমেনা বেগমকে (৩৮) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আমেনা বেগম রায়পুরের বামনী ইউনিয়নের বামনী গ্রামের মৃত মমিনুল হকের মেয়ে। তার স্বামী ভিকটিম সহিদ হোসেন একই এলাকার আবদুল করিম হাজী বাড়ির মৃত চান মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, সহিদ জীবিত থাকা অবস্থায় তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। তার মৃত্যুর সময় স্ত্রী আমেনা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে আমেনা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। রায় ঘোষণার পর ১৬ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার মারিয়াকে নিয়েই আদালতের লকারে যেতে হয়েছে দণ্ডপ্রাপ্ত আমেনাকে। রায় ঘোষণার সময় তিনি শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জামিনে বাইরে ছিলেন তিনি।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে সহিদ জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে ছিলেন। অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রবাস জীবন ছেড়ে তিনি দেশে চলে আসেন। এর পর থেকে আমেনার সঙ্গে তার পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হয়। ২০২১ সালের ২২ মার্চ রাতের খাবার শেষে তারা ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে আমেনার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘরে ঢুকে সহিদকে মৃত দেখতে পান। পরে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গোসল করানোর সময় শরীরে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। খবর পেয়ে পরদিন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল প্রাপ্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সহিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। পারিবারিক কলহের জেরে মুখ চেপে ধরে আমেনা সহিদকে হত্যা করে।

এ ঘটনায় ২৯ এপ্রিল নিহতের ভাই আবদুল আলী খোকন (৫১) বাদী হয়ে রায়পুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে তার ভাবি আমেনা বেগমকে আসামি করা হয়। পরে ২৩ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াছির আরাফাত আমেনা বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আমেনার বিরুদ্ধে রায় দেন।

জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৮:৫১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক :: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সহিদ হোসেনকে (৪৫) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্ত্রী আমেনা বেগমকে (৩৮) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আমেনা বেগম রায়পুরের বামনী ইউনিয়নের বামনী গ্রামের মৃত মমিনুল হকের মেয়ে। তার স্বামী ভিকটিম সহিদ হোসেন একই এলাকার আবদুল করিম হাজী বাড়ির মৃত চান মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, সহিদ জীবিত থাকা অবস্থায় তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। তার মৃত্যুর সময় স্ত্রী আমেনা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরে আমেনা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। রায় ঘোষণার পর ১৬ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার মারিয়াকে নিয়েই আদালতের লকারে যেতে হয়েছে দণ্ডপ্রাপ্ত আমেনাকে। রায় ঘোষণার সময় তিনি শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জামিনে বাইরে ছিলেন তিনি।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে সহিদ জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে ছিলেন। অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রবাস জীবন ছেড়ে তিনি দেশে চলে আসেন। এর পর থেকে আমেনার সঙ্গে তার পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হয়। ২০২১ সালের ২২ মার্চ রাতের খাবার শেষে তারা ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে আমেনার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘরে ঢুকে সহিদকে মৃত দেখতে পান। পরে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গোসল করানোর সময় শরীরে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। খবর পেয়ে পরদিন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল প্রাপ্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে সহিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। পারিবারিক কলহের জেরে মুখ চেপে ধরে আমেনা সহিদকে হত্যা করে।

এ ঘটনায় ২৯ এপ্রিল নিহতের ভাই আবদুল আলী খোকন (৫১) বাদী হয়ে রায়পুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে তার ভাবি আমেনা বেগমকে আসামি করা হয়। পরে ২৩ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াছির আরাফাত আমেনা বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আমেনার বিরুদ্ধে রায় দেন।

জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।