সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়নগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ১ আহত ৫ ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভাড়া ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর দায়ে অভিযান দর্শনায় বিজিবির অভিযানে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, বাবুগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা সহ শতশত হেক্টর ফসলি জমি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জ ( বরিশাল) ঃ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় নদী ভাঙ্গনে গ্রামের পর গ্রাম, পাকা রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্টসহ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে শতশত হেক্টর ফসলি জমি। ১৬৪.৮৮ বর্গ কি: মি: আয়তনের বাবুগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দিয়ে সন্ধা,সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ এ তিনটি খরস্রোতা নদী প্রবাহিত হয়েছে। আর এ তিনটি নদীই কেদারপুর ইউনিয়নের চারপাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

নদী বেষ্টিত দ্বীপাঞ্চল খ্যাত কেদারপুর ইউনিয়নের মানুষের জীবন ভাঙা-গড়ার খেলায় চলছে।

সন্ধা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে কেদারপুর ইউনিয়নের ছানি কেদারপুর, দক্ষিণ ভূতেরদিয়া, কেদারপুর, ভূতেরদিয়া, পূর্ব ভূতেরদিয়া, মোল্লার হাট, এমপির হাট, রহমতপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রকাঠী, বাবুগঞ্জ বাজার, সিংহেরকাঠী, লোহালিয়া গ্রাম, চাঁদপাশা ইউনিয়নের রফিয়াদী গ্রাম ও দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর দেহেরগতি গ্রামের ঘোষকাঠী এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে এক সময় বাবুগঞ্জ উপজেলা শুধু কাগজে-কলমে থাকবে কিন্তু বাস্তবে তা নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।

শনিবার সকালে হটাৎ করে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর দেহেরগতি গ্রামের

আব্বাস ঘরামি ও আলাউদ্দিন প্যাদাসহ বেশ কয়েকটি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

দেহেরগতি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মহিবুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর বাহেরচর ঘোষকাঠী গ্রামের কয়েকজনের ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের বাড়ি যে কোন সময় ভেঙে যেতে পারে। এছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে আমাদের এলাকার মসজিদ ও ২৬ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাই ভাঙন রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

মাসুদুর রহমান রানা জানান, কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতের দিয়া গ্রামটি নদী ভাঙ্গনে বেশি ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়াও তিনি বলেন, আমাদের গ্রাম অনেক আগেই ভাঙনে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। আমাদের বাড়ি থেকে নদী ছিল কয়েক কিলোমিটার দূরে। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই নদীতে আমাদের বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও নদীর তীর থেকে ইটের ভাটায় মাটি কেটে নেওয়ায় সন্ধা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন তীব্রতর হচ্ছে।

এ ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ফসলি জমি। এ ছাড়া বিগত দিনের নদীভাঙনের কারণে প্রায় কয়েকশ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ মুজাফফার প্যাদাসহ বেশ কয়েকজন জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও ইট ভাটায় মাটি কেটে নেওয়ার কারণে তাদের ঘরবাড়ি, জায়গাজমি সব গেছে নদীতে। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধ না করলে নদী ভাঙন রোধ করা যাবে না। যা বাকি আছে সব নদীতে চলে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, ‘নদী পাড়ের মানুষ, ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে দিয়েই আমাদের জীবন চলে। নদীতে জায়গা জমি নিয়ে গেছে। এখন কোন রকম ছোট একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করছি।’

কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নূরে আলম বেপারী জানান, কেদারপুর ইউনিয়ন একটি নদী বেষ্টিত ইউনিয়ন। ইউনিয়নের চারদিকে নদী থাকায় প্রতিবছর বর্ষায় তীব্র ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে কেদারপুর ইউনিয়নের মানচিত্র। নদী ভাঙ্গন রোধে পরিকল্পিত নদীশাষন ও নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে বাবুগঞ্জ – মুলাদী আসেন সাংসদ মোঃ গোলাম কিবরিয়া টিপু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের বিষয়টি জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানা গেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বকুলতা এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে নদী ভাঙন রোধে ১০০মিটারের অনুকূলে ৫০ লক্ষ টাকা, চাঁদপাশা ইউনিয়নের আরজিকালিকা পুরে ২২০ মিটারের অনুকূলে ৮৪ লক্ষ টাকা ও বরিশাল এয়ারপোর্ট রক্ষার্থে ৫০০ মিটারের অনুকূলে সাড়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার কাজ চলমান রয়েছে। আর যেসব এলাকায় নদী ভাঙন রোধে এখনো বরাদ্দ হয়নি সেসব এলাকার তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা সহ শতশত হেক্টর ফসলি জমি

আপডেট সময় : ০৩:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জ ( বরিশাল) ঃ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় নদী ভাঙ্গনে গ্রামের পর গ্রাম, পাকা রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্টসহ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে শতশত হেক্টর ফসলি জমি। ১৬৪.৮৮ বর্গ কি: মি: আয়তনের বাবুগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দিয়ে সন্ধা,সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ এ তিনটি খরস্রোতা নদী প্রবাহিত হয়েছে। আর এ তিনটি নদীই কেদারপুর ইউনিয়নের চারপাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

নদী বেষ্টিত দ্বীপাঞ্চল খ্যাত কেদারপুর ইউনিয়নের মানুষের জীবন ভাঙা-গড়ার খেলায় চলছে।

সন্ধা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে কেদারপুর ইউনিয়নের ছানি কেদারপুর, দক্ষিণ ভূতেরদিয়া, কেদারপুর, ভূতেরদিয়া, পূর্ব ভূতেরদিয়া, মোল্লার হাট, এমপির হাট, রহমতপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রকাঠী, বাবুগঞ্জ বাজার, সিংহেরকাঠী, লোহালিয়া গ্রাম, চাঁদপাশা ইউনিয়নের রফিয়াদী গ্রাম ও দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর দেহেরগতি গ্রামের ঘোষকাঠী এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে এক সময় বাবুগঞ্জ উপজেলা শুধু কাগজে-কলমে থাকবে কিন্তু বাস্তবে তা নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।

শনিবার সকালে হটাৎ করে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর দেহেরগতি গ্রামের

আব্বাস ঘরামি ও আলাউদ্দিন প্যাদাসহ বেশ কয়েকটি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

দেহেরগতি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মহিবুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর বাহেরচর ঘোষকাঠী গ্রামের কয়েকজনের ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের বাড়ি যে কোন সময় ভেঙে যেতে পারে। এছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে আমাদের এলাকার মসজিদ ও ২৬ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাই ভাঙন রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

মাসুদুর রহমান রানা জানান, কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতের দিয়া গ্রামটি নদী ভাঙ্গনে বেশি ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়াও তিনি বলেন, আমাদের গ্রাম অনেক আগেই ভাঙনে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। আমাদের বাড়ি থেকে নদী ছিল কয়েক কিলোমিটার দূরে। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই নদীতে আমাদের বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও নদীর তীর থেকে ইটের ভাটায় মাটি কেটে নেওয়ায় সন্ধা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন তীব্রতর হচ্ছে।

এ ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ফসলি জমি। এ ছাড়া বিগত দিনের নদীভাঙনের কারণে প্রায় কয়েকশ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ মুজাফফার প্যাদাসহ বেশ কয়েকজন জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও ইট ভাটায় মাটি কেটে নেওয়ার কারণে তাদের ঘরবাড়ি, জায়গাজমি সব গেছে নদীতে। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধ না করলে নদী ভাঙন রোধ করা যাবে না। যা বাকি আছে সব নদীতে চলে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, ‘নদী পাড়ের মানুষ, ভাঙ্গা গড়ার মধ্যে দিয়েই আমাদের জীবন চলে। নদীতে জায়গা জমি নিয়ে গেছে। এখন কোন রকম ছোট একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করছি।’

কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নূরে আলম বেপারী জানান, কেদারপুর ইউনিয়ন একটি নদী বেষ্টিত ইউনিয়ন। ইউনিয়নের চারদিকে নদী থাকায় প্রতিবছর বর্ষায় তীব্র ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে কেদারপুর ইউনিয়নের মানচিত্র। নদী ভাঙ্গন রোধে পরিকল্পিত নদীশাষন ও নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে বাবুগঞ্জ – মুলাদী আসেন সাংসদ মোঃ গোলাম কিবরিয়া টিপু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের বিষয়টি জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানা গেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বকুলতা এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে নদী ভাঙন রোধে ১০০মিটারের অনুকূলে ৫০ লক্ষ টাকা, চাঁদপাশা ইউনিয়নের আরজিকালিকা পুরে ২২০ মিটারের অনুকূলে ৮৪ লক্ষ টাকা ও বরিশাল এয়ারপোর্ট রক্ষার্থে ৫০০ মিটারের অনুকূলে সাড়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার কাজ চলমান রয়েছে। আর যেসব এলাকায় নদী ভাঙন রোধে এখনো বরাদ্দ হয়নি সেসব এলাকার তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হবে।