সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে জুয়া-নেশার আড্ডা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২ ৯২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি ঘর এখন অসামাজিক কার্যকলাপের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে প্রতিবেশীদের মাঝে অস্বস্তি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ওই ঘরটি বরাদ্দ পেয়েছেন মো. ফারুক শেখ নামে এক ব্যক্তি। তার বাবা পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর গ্রাম নিবাসী মো. জিন্নাহ শেখ একজন প্রতিষ্ঠিত কৃষক। তিনি ২৫/৩০ বিঘা কৃষি জমির মালিক। বাড়িতে তিন তলা ভিতের ওপর একটি একতলা বিল্ডিং রয়েছে। এই সচ্ছল পরিবারের সন্তান ফারুকের দরিদ্রের ঘর পাওয়া নিয়ে এলাকায় বিতর্ক থাকলেও নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এর অপব্যবহার নিয়ে।

প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ঘরটি সারাদিন তালাবদ্ধ থাকে। সন্ধ্যায় ফারুক আসেন জলসার আসর বসাতে। এটি যেন তার বাংলো বাড়ি! প্রায়শই ঘরটিতে বহিরাগত নারী-পুরুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। দরজা বন্ধ করে ভেতরে তাস, জুয়া, নেশার আড্ডা চলে। সম্প্রতি এক রাতে ঘরটি থেকে এক নারীসহ ফারুক ও তার সহযোগীদের আটক করেন এলাকাবাসী। পরে ওই নারীকে তার অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও কৌশলে লাপাত্তা হয়ে যান ফারুক ও তার সহযোগীরা।

প্রতিবেশী রিনা বেগম বলেন, আশ্রায়ণ প্রকল্পের এ ইউনিটে মোট চারটি ঘর রয়েছে। এর একটিতে ফারুক অপর তিনটিতে আমিসহ অন্যরা বসবাস করছি। কিন্তু ফারুকের কারণে বর্তমানে আমাদের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। বহিরাগত নারী-পুরুষের আনাগোনায় লজ্জাজনক অবস্থার মধ্যে থাকতে হয়। ঘরের ভেতর থেকে নেশাজাতীয় দ্রব্যের গন্ধ ভেসে আসে। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই এখানে থাকতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে ফারুক শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও তিনি এলাকায় না থাকায় এ ব্যাপারে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. সেলিম মোল্লা ওই ঘর থেকে বহিরাগত নারী উদ্ধারের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘ফারুকের কিছু ভুলত্রুটি আছে। এনিয়ে আপনাদের কিছু করার দরকার নেই। নম্বর দিয়ে যান, ফারুককে যোগাযোগ করতে বলব। ’

আর ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন নবাব বলেন, আমার এলাকা, কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে এলাকার কেউ ফারুককে ভালো বলে না। আপনারা আশপাশে খোঁজ নেন, সব জানতে পারবেন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘কিছু অভিযোগের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভূমিকে (এসিল্যান্ড) তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে জুয়া-নেশার আড্ডা

আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি ঘর এখন অসামাজিক কার্যকলাপের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে প্রতিবেশীদের মাঝে অস্বস্তি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ওই ঘরটি বরাদ্দ পেয়েছেন মো. ফারুক শেখ নামে এক ব্যক্তি। তার বাবা পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর গ্রাম নিবাসী মো. জিন্নাহ শেখ একজন প্রতিষ্ঠিত কৃষক। তিনি ২৫/৩০ বিঘা কৃষি জমির মালিক। বাড়িতে তিন তলা ভিতের ওপর একটি একতলা বিল্ডিং রয়েছে। এই সচ্ছল পরিবারের সন্তান ফারুকের দরিদ্রের ঘর পাওয়া নিয়ে এলাকায় বিতর্ক থাকলেও নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এর অপব্যবহার নিয়ে।

প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ঘরটি সারাদিন তালাবদ্ধ থাকে। সন্ধ্যায় ফারুক আসেন জলসার আসর বসাতে। এটি যেন তার বাংলো বাড়ি! প্রায়শই ঘরটিতে বহিরাগত নারী-পুরুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। দরজা বন্ধ করে ভেতরে তাস, জুয়া, নেশার আড্ডা চলে। সম্প্রতি এক রাতে ঘরটি থেকে এক নারীসহ ফারুক ও তার সহযোগীদের আটক করেন এলাকাবাসী। পরে ওই নারীকে তার অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও কৌশলে লাপাত্তা হয়ে যান ফারুক ও তার সহযোগীরা।

প্রতিবেশী রিনা বেগম বলেন, আশ্রায়ণ প্রকল্পের এ ইউনিটে মোট চারটি ঘর রয়েছে। এর একটিতে ফারুক অপর তিনটিতে আমিসহ অন্যরা বসবাস করছি। কিন্তু ফারুকের কারণে বর্তমানে আমাদের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। বহিরাগত নারী-পুরুষের আনাগোনায় লজ্জাজনক অবস্থার মধ্যে থাকতে হয়। ঘরের ভেতর থেকে নেশাজাতীয় দ্রব্যের গন্ধ ভেসে আসে। বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই এখানে থাকতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে ফারুক শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও তিনি এলাকায় না থাকায় এ ব্যাপারে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. সেলিম মোল্লা ওই ঘর থেকে বহিরাগত নারী উদ্ধারের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘ফারুকের কিছু ভুলত্রুটি আছে। এনিয়ে আপনাদের কিছু করার দরকার নেই। নম্বর দিয়ে যান, ফারুককে যোগাযোগ করতে বলব। ’

আর ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন নবাব বলেন, আমার এলাকা, কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে এলাকার কেউ ফারুককে ভালো বলে না। আপনারা আশপাশে খোঁজ নেন, সব জানতে পারবেন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘কিছু অভিযোগের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভূমিকে (এসিল্যান্ড) তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’