সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

পুঠিয়ায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চালিত হচ্ছে একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুন ২০২২ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আর এসব সেন্টারে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে। ঘটছে মৃত্যু।

জানা যায়, কাগজপত্রে এ উপজেলায় কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা দ্বিগুণ। এর মধ্যে অধিকাংশই নিবন্ধনহীন। আবার নিবন্ধন থাকলেও নবায়ন করা হয়নি অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের। নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবসা করছে অনেক ক্লিনিক।

আর এসব চলছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক অবকাঠামো ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে নোংরা পরিবেশ, অদক্ষ নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে মনগড়া চিকিৎসা ব্যবস্থা। এতে চরম ভোগান্তি, অর্থনৈতিকভাবে প্রতারিত ও স্বাস্থ্য শঙ্কায় পড়েছে এই উপজেলার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুঠিয়া উপজেলায় অবস্থিত পুঠিয়া ডায়াবেটিক সেন্টার এন্ড প্যাথলজি সেন্টারের যেসব নিয়মকানুন মেনে চলা দরকার, তা যেন শুধু কাগজ-কলমেই। এই ডায়াবেটিক সেন্টারের মালিক ডা. মিলন।

অনুমোদনবিহীন এই ডায়াগনস্টিক সেন্টার দালাল নিযুক্ত করে কমিশনের মাধ্যমে রোগী হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতিনিয়তই। ভালো-মন্দ বিচার না করেই যত্রতত্র গড়ে ওঠা এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠাচ্ছেন দালাল চক্র। ভুল রিপোর্টের কারণে সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না রোগী। এতে লোকজন হয়রানির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসির অভিযোগ, এই ক্লিনিকে প্রতিনিয়তই চলে মাদক সেবন। প্রতিবাদ করলে মামলা ও হামলার ভয় দেখায় ক্লিনিকের মালিক ডা. মিলন।

এবিষয়ে জানতে ডা. মিলনকে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিকের সাথে অসদচারণ ও বিভিন্নভাবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এছাড়াও নিউজ প্রকাশ করলে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকিও দেন তিনি।

পুঠিয়া-দূর্গাপুর-বাঘা-চারঘাট উপজেলা প্রাইভেট ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি এস.এম আ. রহমান জানান, তার ডায়াগনস্টিক সেন্টার আমাদের মালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত না। আর এই ক্লিনিকের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মতিনকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিভিল সার্জন ডাঃ আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, আমরা ইতোমধ্যে অনুমোদনহীন বিভিন্ন অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অনেক ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছি। ধারাবাহিকভাবে সব অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হবে। অবৈধ ক্লিনিকে নানা অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুঠিয়া উপজেলার উক্ত ক্লিনিকের বিষয়টি আমরা দেখছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পুঠিয়ায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চালিত হচ্ছে একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

আপডেট সময় : ০৩:১৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুন ২০২২

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আর এসব সেন্টারে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে। ঘটছে মৃত্যু।

জানা যায়, কাগজপত্রে এ উপজেলায় কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা দ্বিগুণ। এর মধ্যে অধিকাংশই নিবন্ধনহীন। আবার নিবন্ধন থাকলেও নবায়ন করা হয়নি অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের। নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবসা করছে অনেক ক্লিনিক।

আর এসব চলছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক অবকাঠামো ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে নোংরা পরিবেশ, অদক্ষ নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে মনগড়া চিকিৎসা ব্যবস্থা। এতে চরম ভোগান্তি, অর্থনৈতিকভাবে প্রতারিত ও স্বাস্থ্য শঙ্কায় পড়েছে এই উপজেলার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুঠিয়া উপজেলায় অবস্থিত পুঠিয়া ডায়াবেটিক সেন্টার এন্ড প্যাথলজি সেন্টারের যেসব নিয়মকানুন মেনে চলা দরকার, তা যেন শুধু কাগজ-কলমেই। এই ডায়াবেটিক সেন্টারের মালিক ডা. মিলন।

অনুমোদনবিহীন এই ডায়াগনস্টিক সেন্টার দালাল নিযুক্ত করে কমিশনের মাধ্যমে রোগী হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতিনিয়তই। ভালো-মন্দ বিচার না করেই যত্রতত্র গড়ে ওঠা এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠাচ্ছেন দালাল চক্র। ভুল রিপোর্টের কারণে সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না রোগী। এতে লোকজন হয়রানির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসির অভিযোগ, এই ক্লিনিকে প্রতিনিয়তই চলে মাদক সেবন। প্রতিবাদ করলে মামলা ও হামলার ভয় দেখায় ক্লিনিকের মালিক ডা. মিলন।

এবিষয়ে জানতে ডা. মিলনকে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিকের সাথে অসদচারণ ও বিভিন্নভাবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এছাড়াও নিউজ প্রকাশ করলে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকিও দেন তিনি।

পুঠিয়া-দূর্গাপুর-বাঘা-চারঘাট উপজেলা প্রাইভেট ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি এস.এম আ. রহমান জানান, তার ডায়াগনস্টিক সেন্টার আমাদের মালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত না। আর এই ক্লিনিকের কোন বৈধ কাগজপত্র নেই বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মতিনকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিভিল সার্জন ডাঃ আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, আমরা ইতোমধ্যে অনুমোদনহীন বিভিন্ন অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অনেক ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছি। ধারাবাহিকভাবে সব অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হবে। অবৈধ ক্লিনিকে নানা অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুঠিয়া উপজেলার উক্ত ক্লিনিকের বিষয়টি আমরা দেখছি।