ঘোড়াঘাটের বাজারে আগাম লাল টসটসে লিচু দাম হাতের নাগালে
- আপডেট সময় : ০৯:০০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মে ২০২২ ১৩২ বার পড়া হয়েছে

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ,ঘোড়াঘাট(দিনাজপুর)
বাংলা নব বর্ষের প্রথম মাস বৈশাখ বিদায়ের পালা। আসছে মধু মাস জ্যৈষ্ঠ্য। তবে মধু মাস আসার পূর্বেই লিচুর রাজ্য দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বাজারে দেখা মিলেছে লাল টসটসে লিচু। স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও, সৌন্দর্য্য নজর কেড়েছে ক্রেতাদের।
১০ মে বুধবার উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজার, ওসমানপুর বাজার,ডুগডুগী বাজার,বলোগাড়ী বাজার ও ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড, আজাদমোড়,পুরাতন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মোড়ে লিচুর পসরা সাজিয়ে বসে আছেন খুচরা বিক্রেতারা। অপর দিকে বাজারে আগাম লিচু দেখে ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ক্রেতা সাধারণ মানুষ। চলছে দরদাম ও লিচুর স্বাদ নিয়ে নানা মতামত।
এসব বাজারে মাদ্রাজি,বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু উঠেছে বাজারে। প্রতি ১০০টি লিচু ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগাম এ সব লিচুর স্বাদ ও মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, বছরের নতুন ফল হিসেবে অনেকেই এ সব লিচু কিনছেন। অনেকে আবার না কিনে ফিরেও যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৬৩ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়। ছোট-বড় মিলিয়ে লিচুর বাগান রয়েছে প্রায় ১৬০টি। এ সব বাগান থেকে বছরে লিচু উৎপাদন হয় প্রায় ৪৫২ মেট্রিক টন।
অপর দিকে পুরো উপজেলায় লিচু চাষে জড়িত আছেন প্রায় ৬৬০ জন চাষী। তার মধ্যে
ঘোড়াঘাট বাসস্ট্যান্ড থেকে ১২০ টাকায় ৫০টি লিচু কিনেছেন রিক্সা চালক যুবক আরিফ হোসেন,রাণীগঞ্জ বাজার থেকে শিক্ষক মতিয়ার রহমান। তারা বলেন, “স্বাদ খুব একটা ভালো হবে না। তবে বছরের নতুন ফল হিসেবে পরিবার ও বা”চা শিশুদেও জন্য কিছু লিচু কিনলাম। মানুষকে বলতে তো পারব যে, বছরের নতুন ফলের স্বাদ আমি অন্য সবার আগে গ্রহণ করেছি।
পুরাতন বাজারে একটি দোকানে লিচুর দরদাম করছিলেন স্কুল শিক্ষক মতিউর রহমান। কিন্তু তিনি লিচু না কিনেই ফিরে যাবার সময় বলেন, এ সব লিচু অপরিপক্ক। লিচুর ভিতরে মাংস নেই বললেই চলে। শুধু বড় বড় বিচি আছে। টাকা দিয়ে এ সব লিচু কেনা মানে লোকসান করা।
বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কে.সি পাইলট স্কুলের একটি লিচুর বাগান ৩ বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন রোকনুজ্জামান রোকনু নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, এ বছর লিচুর ফলন নেই বললেই চলে। আমরা যারা লিচুর চাষ করেছি, তাদের নিঃশ^ হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।
তিনি আরো বলেন, অগ্রিম লিচু পাকানোর জন্য আমি কোন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করিনি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রাকিৃতিক নিয়মে কিছু কিছু গাছের লিচু লাল হয়েছে। চাহিদা থাকায় সেগুলোই আমি খোলা বাজারে বিক্রি করছি।
এদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আর কয়েক দিন পরেই প্রায় সব জাতের লিচু পাকা শুরু হবে। মাটি ও আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন জাতের লিচু ইতিমধ্যে পুর্ণ পরিপক্ক হয়েছে। তবে কিছু চাষী অধিক মুনাফার আশায় রাসায়নিক প্রয়োগ করে অপরিপক্ক লিচুর রং পরিবর্তন করে বাজারে বিক্রি করছে।

























