সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

স্ত্রী-সন্তান খুনের পর আত্মহত্যা করতে যাওয়া চিকিৎসক আটক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মে ২০২২ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

মানিকগঞ্জের ঘিওরে আঙ্গারপাড়া গ্রামে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় দন্ত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান রুবেলকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বিপ্লব আজ রোববার বেলা ১২টায় আটকের তথ্য সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রুবেল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাচুরিয়া এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা তখন তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে পুলিশে খবর দিয়ে সোপর্দ করে। বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে রুবেল পায়ে সামান্য ব্যথা পেয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

আঙ্গারপাড়া গ্রামে আজ ভোরে রুবেলের ঘর থেকে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা দা উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের শিকার রুবেলের স্ত্রীর নাম লাভলী আক্তার (৩৫)। অপর দুজন হলেন তার বড় মেয়ে বানিয়াজুরী সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোঁয়া আক্তার (১৬) ও ছোট মেয়ে বানিয়াজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কথা আক্তার (১২)।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব জানান, আসাদুর রহমান রুবেল উপজেলার আঙ্গারপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে। তিনি বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন।

ফলো করুন-
ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন সমকাল ইউটিউব
লাভলীর মা হালিমা বেগম জানান, সকালে তিনি মেয়ের বাড়িতে যান। এ সময় ডাকাডাকি করে কারো সাড়া না পেয়ে ঘরের বাইরের ছিকল খুলে দেখা যায় রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের শুয়ে আছেন তার মেয়ে লাভলী ও দুই নাতনি। কাছে গেলে দেখা যায় তাদের গলা কাটা।

রুবেলের প্রতিবেশী সোহেল হোসেন জানান, ২০ বছর আগে রুবেল ও লাভলী ভালোবেসে ঘর বাঁধেন। দীর্ঘদিন তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করে আসছিলেন। পনের বছর ধরে রুবেল আঙ্গারপাড়া গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া জমিতে একটি ছাপড়া ঘরে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ বাড়তে থাকে। শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

নিহত লাভলীর ভাতিজা সাইফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি একটি ভুল চিকিৎসা করার দায়ে রুবেলকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই জরিমানার টাকা আজ রোববার দেওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যা করে তিনি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাচুরিয়া এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় পাচুরিয়া থেকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

স্থানীয় বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল খান সমকালকে বলেন, রুবেল অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত ছিলেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। হতাশা থেকে এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরজাহান লাবণী আক্তার সমকালকে জানান, যে দা দিয়ে জবাই করা হয়েছে সেটি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্ত্রী-সন্তান খুনের পর আত্মহত্যা করতে যাওয়া চিকিৎসক আটক

আপডেট সময় : ০৭:২৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মে ২০২২

অনলাইন ডেস্ক

মানিকগঞ্জের ঘিওরে আঙ্গারপাড়া গ্রামে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় দন্ত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান রুবেলকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বিপ্লব আজ রোববার বেলা ১২টায় আটকের তথ্য সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রুবেল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাচুরিয়া এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা তখন তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে পুলিশে খবর দিয়ে সোপর্দ করে। বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে রুবেল পায়ে সামান্য ব্যথা পেয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

আঙ্গারপাড়া গ্রামে আজ ভোরে রুবেলের ঘর থেকে তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা দা উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের শিকার রুবেলের স্ত্রীর নাম লাভলী আক্তার (৩৫)। অপর দুজন হলেন তার বড় মেয়ে বানিয়াজুরী সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোঁয়া আক্তার (১৬) ও ছোট মেয়ে বানিয়াজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কথা আক্তার (১২)।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব জানান, আসাদুর রহমান রুবেল উপজেলার আঙ্গারপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে। তিনি বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন।

ফলো করুন-
ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন সমকাল ইউটিউব
লাভলীর মা হালিমা বেগম জানান, সকালে তিনি মেয়ের বাড়িতে যান। এ সময় ডাকাডাকি করে কারো সাড়া না পেয়ে ঘরের বাইরের ছিকল খুলে দেখা যায় রক্তাক্ত অবস্থায় খাটের শুয়ে আছেন তার মেয়ে লাভলী ও দুই নাতনি। কাছে গেলে দেখা যায় তাদের গলা কাটা।

রুবেলের প্রতিবেশী সোহেল হোসেন জানান, ২০ বছর আগে রুবেল ও লাভলী ভালোবেসে ঘর বাঁধেন। দীর্ঘদিন তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করে আসছিলেন। পনের বছর ধরে রুবেল আঙ্গারপাড়া গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া জমিতে একটি ছাপড়া ঘরে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ বাড়তে থাকে। শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

নিহত লাভলীর ভাতিজা সাইফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি একটি ভুল চিকিৎসা করার দায়ে রুবেলকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই জরিমানার টাকা আজ রোববার দেওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যা করে তিনি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাচুরিয়া এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় পাচুরিয়া থেকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

স্থানীয় বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল খান সমকালকে বলেন, রুবেল অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত ছিলেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। হতাশা থেকে এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরজাহান লাবণী আক্তার সমকালকে জানান, যে দা দিয়ে জবাই করা হয়েছে সেটি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।