সংবাদ শিরোনাম ::
সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

বাড়িতেই পশু চিকিৎসকের সিজারে, নবজাতকসহ প্রসূতির মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মে ২০২২ ১৬৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
নেত্রকোনার বারহাট্টায় পশু ডাক্তারের করা সিজারের পর নবজাতকসহ শরীফা আক্তার (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। শরীফা একই গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী হাইছ উদ্দিনের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবনপুর গ্রামের পশু চিকিৎসক আবুল কাশেম পশুর পাশাপাশি মানুষেরও চিকিৎসা করেন। তিনি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন করে হেরে যান।

গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরীফা বারহাট্টা সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাস করেন। গত বছর সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর এলাকায় বিয়ে হয় শরীফার। তার স্বামীর নাম মহসিন মিয়া। সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে গত সপ্তাহে চন্দ্রপুর বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাকে। বুধবার তার সন্তান প্রসবকালে ওই চিকিৎসক সিজার করেন। এরপর একটি ছেলে সন্তান জন্ম নিলেও মা-সন্তান দুজনই মারা যায়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ডাক্তারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

ভুক্তভোগীর মা মাফিয়া আক্তার বলেন, সকালে শরীফার প্রসব ব্যথা শুরু হলে কাশেম ডাক্তারকে খবর দেওয়া হয়। তিনি দেখে বললেন, সবকিছু স্বাভাবিক আছে কোনো সমস্যা নেই। আমরা নেত্রকোনা নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার কথায় ভরসা পেয়ে আর নেইনি। আমরা সাধারণ মানুষ। ডাক্তারের কথা মতোই সব করেছি। পরে এক পর্যায়ে আমাদের বাসায় এসে তিনি সিজার করেন। ওষুধ স্যালাইন না থাকায় এগুলো আনতে একজনকে মোহনগঞ্জ পাঠানো হয়। তবে ওষুধ নিয়ে আসার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীফার মৃত্যু হয়।

শরীফার চাচা গিয়াস উদ্দিন ও আবুল কালাম বলেন, আবুল কাশেম একজন পশু চিকিৎসক। তবে মাঝে মধ্যে মানুষের চিকিৎসাও করেন। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ছাড়াই শরীফার সিজার করে ফেলেন। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে একজনকে ওষুধ আনতে পাঠানো হয় মোহনগঞ্জে। অনেক দূরের পথ ওষুধ নিয়ে আসতে আসতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীফার মৃত্যু হয়। এদিকে টানাহেঁচড়া করতে গিয়ে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া ছেলে সন্তানেরও মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লালন বখত মজুমদার বলেন, কাশেম একজন পশুর ডাক্তার। শুনেছি পশুর পাশাপাশি এখন মানুষের চিকিৎসাও করেন। তার এসব অনিয়ম বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই। না হলে আরও অনেকেই এভাবে ভুক্তভোগী হবে।

সিংধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসিম তালুকদার বলেন, কাশেম একজন পশুর চিকিৎসক। মানুষের চিকিৎসা বিশেষ করে সিজার করা তো তার একেবারেই উচিত হয়নি।

অভিযুক্ত পশু চিকিৎসক আবুল কাশেম সিজারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সিজারের পর ওষুধ আনতে পাঠানো হয়েছিল। দূরের পথ হওয়ায় ওষুধ ও স্যালাইন আনতে দেরি হয়ে যায়। এতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুধু পশু নয়, মানুষের চিকিৎসার সনদও আছে আমার। দীর্ঘদিন থেকে মানুষের চিকিৎসা করছি।

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসর (আরএমও) ডা. শাহরিয়ার জাহান ওসমানি বলেন, সিজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার। এটি এমবিবিএস ছাড়া কারো করার নিয়ম নেই।

বারহাট্টা থানার ওসি লুৎফুল হক বলেন, এ বিষয়ে কেউ কিছুই জানায়নি। প্রথম শুনলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাড়িতেই পশু চিকিৎসকের সিজারে, নবজাতকসহ প্রসূতির মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মে ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স
নেত্রকোনার বারহাট্টায় পশু ডাক্তারের করা সিজারের পর নবজাতকসহ শরীফা আক্তার (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। শরীফা একই গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী হাইছ উদ্দিনের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবনপুর গ্রামের পশু চিকিৎসক আবুল কাশেম পশুর পাশাপাশি মানুষেরও চিকিৎসা করেন। তিনি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন করে হেরে যান।

গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরীফা বারহাট্টা সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাস করেন। গত বছর সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর এলাকায় বিয়ে হয় শরীফার। তার স্বামীর নাম মহসিন মিয়া। সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে গত সপ্তাহে চন্দ্রপুর বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাকে। বুধবার তার সন্তান প্রসবকালে ওই চিকিৎসক সিজার করেন। এরপর একটি ছেলে সন্তান জন্ম নিলেও মা-সন্তান দুজনই মারা যায়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ডাক্তারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

ভুক্তভোগীর মা মাফিয়া আক্তার বলেন, সকালে শরীফার প্রসব ব্যথা শুরু হলে কাশেম ডাক্তারকে খবর দেওয়া হয়। তিনি দেখে বললেন, সবকিছু স্বাভাবিক আছে কোনো সমস্যা নেই। আমরা নেত্রকোনা নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার কথায় ভরসা পেয়ে আর নেইনি। আমরা সাধারণ মানুষ। ডাক্তারের কথা মতোই সব করেছি। পরে এক পর্যায়ে আমাদের বাসায় এসে তিনি সিজার করেন। ওষুধ স্যালাইন না থাকায় এগুলো আনতে একজনকে মোহনগঞ্জ পাঠানো হয়। তবে ওষুধ নিয়ে আসার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীফার মৃত্যু হয়।

শরীফার চাচা গিয়াস উদ্দিন ও আবুল কালাম বলেন, আবুল কাশেম একজন পশু চিকিৎসক। তবে মাঝে মধ্যে মানুষের চিকিৎসাও করেন। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ছাড়াই শরীফার সিজার করে ফেলেন। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে একজনকে ওষুধ আনতে পাঠানো হয় মোহনগঞ্জে। অনেক দূরের পথ ওষুধ নিয়ে আসতে আসতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শরীফার মৃত্যু হয়। এদিকে টানাহেঁচড়া করতে গিয়ে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া ছেলে সন্তানেরও মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লালন বখত মজুমদার বলেন, কাশেম একজন পশুর ডাক্তার। শুনেছি পশুর পাশাপাশি এখন মানুষের চিকিৎসাও করেন। তার এসব অনিয়ম বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই। না হলে আরও অনেকেই এভাবে ভুক্তভোগী হবে।

সিংধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসিম তালুকদার বলেন, কাশেম একজন পশুর চিকিৎসক। মানুষের চিকিৎসা বিশেষ করে সিজার করা তো তার একেবারেই উচিত হয়নি।

অভিযুক্ত পশু চিকিৎসক আবুল কাশেম সিজারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সিজারের পর ওষুধ আনতে পাঠানো হয়েছিল। দূরের পথ হওয়ায় ওষুধ ও স্যালাইন আনতে দেরি হয়ে যায়। এতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুধু পশু নয়, মানুষের চিকিৎসার সনদও আছে আমার। দীর্ঘদিন থেকে মানুষের চিকিৎসা করছি।

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসর (আরএমও) ডা. শাহরিয়ার জাহান ওসমানি বলেন, সিজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার। এটি এমবিবিএস ছাড়া কারো করার নিয়ম নেই।

বারহাট্টা থানার ওসি লুৎফুল হক বলেন, এ বিষয়ে কেউ কিছুই জানায়নি। প্রথম শুনলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।