সংবাদ শিরোনাম ::
সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প

বাবুগঞ্জে ৮০ বছরের বৃদ্ধার মানবেতর জীবনযাপন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মে ২০২২ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে ৮০ বছরের বৃদ্ধা কাঞ্চন মালার মানবেতর জীবনযাপন। প্রায় ২০ বছর ধরে অন্যের জমিতে দোচালা টিন শেড ঘর তৈরি করে কোন রকম বসবাস শুরু করেন কাঞ্চনমালা ও তার স্বামী আব্দুল অহেদ বয়াতী। তার স্বামী আব্দুল অহেদ বয়াতী প্রায় ১২ বছর আগে মারা যায়। তারপর থেকে বৃদ্ধা তার মেয়ে শেফালী বেগম কে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু হটাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে তার নড়বড়ে ঘরটিও ভেঙে যায়। এখন তিনি খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছেন। এমনকি তিন বেলার খাবারও জুটে প্রতিবেশীদের দেয়া সাহায্য- সহযোগিতায়।

বৃদ্ধার এক ছেলে আর এক মেয়ে। ছেলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকায় তেমন খোজ খরব নিতে পারেননা।গত তিনদিন আগে বৃদ্ধার খুপরি ঘরটিও কালবৈশাখী ঝরে ভেঙে পড়ে যায়। ঘরটি হারিয়ে এখন তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এ ঘটনাটি বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামে।

বৃদ্ধা কাঞ্চনমালা জানান, স্বামী থাকা অবস্থায়ও অনেক কষ্টে চলতো তাদের সংসার। দিন মজুরের কাজ করে তার স্বামী আব্দুল অহেদ বয়াতী উপার্জন করে সংসার চালাতেন। তাদের নিজস্ব জমি না থাকার কারণে রাস্তার পাশে অন্যের জমিতে তারা বসবাস শুরু করেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে কষ্টের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন মানুষ যদি সহযোগিতা করে তাহলে খেতে পারেন। আর না দিলে না খেয়ে থাকেন। এভাবেই পার হয় তাদের দিনগুলো।

তিনি আরো জানান, কোন জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজ খবর নেয় না। আজ পর্যন্ত বয়স্ক ভাতা ছাড়া সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নূরে আলম বেপারী জানান, তার এ ব্যাপারে জানা নেই। তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া এবং সরকারি সহায়তায় প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বৃদ্ধা কাঞ্চন মালার খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমীনুল ইসলাম জানান, ঈদের পরেই বৃদ্ধা কাঞ্চন মালার খোঁজ খবর নেয়া হবে এবং যদি কাঞ্চনমালা প্রকৃত ভূমিহীন হন তাহলে উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে আলাপ করে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাবুগঞ্জে ৮০ বছরের বৃদ্ধার মানবেতর জীবনযাপন

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মে ২০২২

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে ৮০ বছরের বৃদ্ধা কাঞ্চন মালার মানবেতর জীবনযাপন। প্রায় ২০ বছর ধরে অন্যের জমিতে দোচালা টিন শেড ঘর তৈরি করে কোন রকম বসবাস শুরু করেন কাঞ্চনমালা ও তার স্বামী আব্দুল অহেদ বয়াতী। তার স্বামী আব্দুল অহেদ বয়াতী প্রায় ১২ বছর আগে মারা যায়। তারপর থেকে বৃদ্ধা তার মেয়ে শেফালী বেগম কে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু হটাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে তার নড়বড়ে ঘরটিও ভেঙে যায়। এখন তিনি খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছেন। এমনকি তিন বেলার খাবারও জুটে প্রতিবেশীদের দেয়া সাহায্য- সহযোগিতায়।

বৃদ্ধার এক ছেলে আর এক মেয়ে। ছেলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকায় তেমন খোজ খরব নিতে পারেননা।গত তিনদিন আগে বৃদ্ধার খুপরি ঘরটিও কালবৈশাখী ঝরে ভেঙে পড়ে যায়। ঘরটি হারিয়ে এখন তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এ ঘটনাটি বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামে।

বৃদ্ধা কাঞ্চনমালা জানান, স্বামী থাকা অবস্থায়ও অনেক কষ্টে চলতো তাদের সংসার। দিন মজুরের কাজ করে তার স্বামী আব্দুল অহেদ বয়াতী উপার্জন করে সংসার চালাতেন। তাদের নিজস্ব জমি না থাকার কারণে রাস্তার পাশে অন্যের জমিতে তারা বসবাস শুরু করেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে কষ্টের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন মানুষ যদি সহযোগিতা করে তাহলে খেতে পারেন। আর না দিলে না খেয়ে থাকেন। এভাবেই পার হয় তাদের দিনগুলো।

তিনি আরো জানান, কোন জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজ খবর নেয় না। আজ পর্যন্ত বয়স্ক ভাতা ছাড়া সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাননি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন।

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নূরে আলম বেপারী জানান, তার এ ব্যাপারে জানা নেই। তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া এবং সরকারি সহায়তায় প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন বৃদ্ধা কাঞ্চন মালার খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমীনুল ইসলাম জানান, ঈদের পরেই বৃদ্ধা কাঞ্চন মালার খোঁজ খবর নেয়া হবে এবং যদি কাঞ্চনমালা প্রকৃত ভূমিহীন হন তাহলে উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে আলাপ করে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।