মহাসড়কে হঠাৎ কুয়াকাটা পৌরসভার টোল আদায়
- আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২২ ১২০ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স
পর্যটন শহর কুয়াকাটার প্রবেশমুখে মহাসড়কে পৌরসভার রশিদে টোল আদায় করা হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে হঠাৎ করেই পৌর কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপথের রাস্তায় যাতায়াতকারী পর্যটক, যাত্রীবাহী বাসসহ সব ধরনের যানবাহন থেকে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। বাসস্ট্যান্ডের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি, এমনকি উদ্বোধনও হয়নি। তবুও ওই বাসস্ট্যান্ডের নামে মহাসড়কে শুরু হয়েছে এ টোল আদায়। কুয়াকাটা পৌরসভা গঠনের পর থেকে এমন ব্যবস্থা চালু না থাকায় বিব্রত হচ্ছেন আগত পর্যটকসহ দর্শনার্থীরা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বলছে, সওজের সড়কে পৌরসভা টোল আদায় করতে পারে না।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীসহ ট্রাক, ট্রলি, পিকআপ, ভ্যান মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের অভিযোগ, কুয়াকাটা পৌরসভা বেআইনিভাবে মহসড়কে এ টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করছে। এ ঘটনায় কয়েক দিন ধরে নির্মাণসামগ্রী বহনকারী দুই শতাধিক ট্রলি বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রলি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল মল্লিক।
সরেজমিন বুধবার বিকেলে দেখা গেছে, কুয়াকাটা পৌরসভার নির্মাণাধীন বাস টার্মিনালের পাশে মহাসড়কে তেলের ব্যারেল, বাঁশ ও লাল কাপড় দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড করে রাখা। মঙ্গলবার থেকে তিন-চার যুবক চেয়ার-টেবিল বসিয়ে গাড়ি থামিয়ে পৌরসভার স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে টাকা আদায় করছেন। যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভানসহ ভারী যানবাহন থেকে ১০০ টাকা, মাইক্রোবাস, মিনিবাসসহ মাঝারি যান থেকে ৫০-৭০ টাকা, ভ্যান-রিকশাসহ হালকা যানবাহন থেকে ২০ টাকা করে রাতদিন আদায় করা হচ্ছে। আদায় করা রশিদ বইতে পৌরসভার স্মারক নম্বরসহ পৌর কর্তৃপক্ষের ইজারা আদায়ের অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। টোল আদায়কারী কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সুপারভাইজার ইউনুছ হাওলাদার বলেন, বাসস্ট্যান্ডের খাস আদায়ের জন্য পৌরসভা দায়িত্ব পালন করছে।
ট্রলিচালক হাবিব খান জানান, দৈনিক ৮-১০ বার কুয়াকাটা পৌরসভার অভ্যন্তরে মাল পরিবহন করতে হয়। প্রতিবার মাল পরিবহনে ১০০ টাকা দিলে লাভের সবটুকুই দিতে হবে। ট্রলি মালিক সমিতির সভাপতি কামাল গাজী সমকালকে বলেন, মহসড়কে আটকে এ টাকা আদায় পৌরসভার নিছক চাঁদাবাজি ছাড়া অন্য কিছুই হতে পারে না। সুবিধাভোগীদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না পৌরসভা।==
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্যলাল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তিনবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েও মাছ মহাল, বাঁশসামগ্রী ও বাসস্ট্যান্ডের জন্য ইজারাদার পাওয়া যায়নি। পৌরসভার ইজারা বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনক্রমে খাস আদায় চলছে।
বাসস্ট্যান্ডের কাজ চলমান রয়েছে। এমনকি উদ্বোধন হয়নি, সে ক্ষেত্রে মহাসড়কে টোল আদায়ের যৌক্তিতা জানতে চাইলে কাব্যলাল চক্রবর্তী বিষয়টি এড়িয়ে যায়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, সওজের সড়কে টোল আদায়ের সুযোগ নেই পৌরসভার।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, বাসস্ট্যান্ডের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়। বৈশাখ মাসে পৌরসভার হাটবাজারসহ রাজস্ব আদায়ের আর্থিক বছর শুরু হওয়া দরপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কাম্যসংখ্যক দরদাতা ও ইজারার ন্যায্যতা না পাওয়ায় ইজারা বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্তে খাস আদায় চলছে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ মোতালেব শরীফ জানিয়েছেন, মহাসড়কে টোল আদায় কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, মহসড়কে পৌরসভার খাস আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। দরপত্রে কাঙ্ক্ষিত ইজাদারদার না পাওয়ায় খাস আদায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণাধীন, পুরোপুরি চালু হলেই টোল আদায়ের বিষয়টি বলবৎ থাকবে।

























