সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক কাঁঠালিয়ায় ৮ পিস ইয়াবাসহ কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আটক ও স্থায়ী বহিষ্কার ​নলছিটির সাবেক পিআইও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর ৫ মাসের কারাদণ্ড ১২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কাঁঠালিয়ায় ৬৩ কেজি পলিথিন জব্দ, ১০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোড়াঘাটের সীমানার ৫০০ মিটার ভিতরে পলাশবাড়ী সীমানা পলক স্থাপনের চেষ্টা এলাকায় ক্ষোভ উপজেলা প্রশাসনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় পরিবেশ ও শব্দ দূষণবিরোধী মোবাইল কোর্ট: ১২ হাজার টাকা জরিমানা দর্শনা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে পালানোর সময় এক যুবক আটক বোর্ড চ্যালেঞ্জে পাস চার ছাত্রী: তেঁতুলিয়ার বোয়ালমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, গোলাপগঞ্জে স্কুলশিক্ষক আত্মগোপনে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আসার পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।

ওই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গত ১৫ মার্চ অভিযোগ করেন, কলেজ অধ্যক্ষ সুনীল দাস ক্লাসে অক্সিজেনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য এক ছাত্রীর নেকাব খুলতে বলেন। ওই ঘটনা ছাত্রী বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে জানালে তারা ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনেন।

এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালে ওই শিক্ষক ছাত্রীর বাড়িতে যান। ছাত্রীর বাবার কাছে দুঃখপ্রকাশ করলে ঘটনাটি মিটমাট হয়। ছাত্রীর বাবা তখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ‘মেয়ের হিজাব খোলার বিষয় আদৌ সত্য নয়।’

কিন্তু ওই ক্লাসের আরেক ছাত্রী ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে অধ্যক্ষ সুনীল দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

ফলো করুন-
এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত রোববার ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গর্ভনিং বডি গঠিত তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দেয়। একই দিন উপজেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটিও কাজ শুরু করে।

গত ২০ মার্চ এলাকাবাসীকে নিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে সভা ডাকেন স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম আহমদ। সভায় কিছু লোক অধ্যক্ষের শাস্তি দাবি করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আতঙ্কে পরিবার নিয়ে সুনীল দাস এলাকা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

তবে প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বলছেন, ঘটনাটি নিয়ে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। অধ্যক্ষের সঙ্গে ছাত্রীর বাসায় যাওয়া একজন শিক্ষক বলেন, এখানে রাজনীতি হচ্ছে।

এদিকে গভর্নিং বডি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম আহমদ বলেন, ‘ফেসবুকে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে ঘটনাকে বড় করা হয়েছে। এখন বিষয়টি তদন্ত করা হবে।’

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অভিযোগ ছিল না উল্লেখ করে গভর্নিং বডির সভাপতি মাসুম চৌধুরী জানান, ঢাকায় থাকায় তিনি তদন্ত রিপোর্ট দেখেননি। ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন। উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করায় তাদের রিপোর্টের জন্যও অপেক্ষা করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, গোলাপগঞ্জে স্কুলশিক্ষক আত্মগোপনে

আপডেট সময় : ০৬:০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২

অনলাইন ডেস্ক

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আসার পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।

ওই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গত ১৫ মার্চ অভিযোগ করেন, কলেজ অধ্যক্ষ সুনীল দাস ক্লাসে অক্সিজেনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য এক ছাত্রীর নেকাব খুলতে বলেন। ওই ঘটনা ছাত্রী বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে জানালে তারা ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনেন।

এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালে ওই শিক্ষক ছাত্রীর বাড়িতে যান। ছাত্রীর বাবার কাছে দুঃখপ্রকাশ করলে ঘটনাটি মিটমাট হয়। ছাত্রীর বাবা তখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ‘মেয়ের হিজাব খোলার বিষয় আদৌ সত্য নয়।’

কিন্তু ওই ক্লাসের আরেক ছাত্রী ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে অধ্যক্ষ সুনীল দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

ফলো করুন-
এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত রোববার ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গর্ভনিং বডি গঠিত তদন্ত কমিটি এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দেয়। একই দিন উপজেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটিও কাজ শুরু করে।

গত ২০ মার্চ এলাকাবাসীকে নিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে সভা ডাকেন স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম আহমদ। সভায় কিছু লোক অধ্যক্ষের শাস্তি দাবি করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আতঙ্কে পরিবার নিয়ে সুনীল দাস এলাকা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

তবে প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বলছেন, ঘটনাটি নিয়ে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। অধ্যক্ষের সঙ্গে ছাত্রীর বাসায় যাওয়া একজন শিক্ষক বলেন, এখানে রাজনীতি হচ্ছে।

এদিকে গভর্নিং বডি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামীম আহমদ বলেন, ‘ফেসবুকে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে ঘটনাকে বড় করা হয়েছে। এখন বিষয়টি তদন্ত করা হবে।’

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অভিযোগ ছিল না উল্লেখ করে গভর্নিং বডির সভাপতি মাসুম চৌধুরী জানান, ঢাকায় থাকায় তিনি তদন্ত রিপোর্ট দেখেননি। ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন। উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করায় তাদের রিপোর্টের জন্যও অপেক্ষা করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।