সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

বাবা আমার ছেলে সন্তান নাই ছোট মেয়ের সামান্য আয়ে চলে না আমাদের সংসার এক মা বাবার আকুতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ এপ্রিল ২০২২ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি :উপার্জনের কেউ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতির শফিজ উদ্দিন (৬৩) ও রিজিয়া বেগম (৫০) দম্পত্তির পাঁচ মেয়ে। চার মেয়ের বিয়ে হওয়ায় ছোট মেয়ে নিয়ে কোন রকম জীবনযাপন করছেন ।ছোট মেয়ে বরিশাল অপসোনিন ফার্মা লিমিটেডে সপ্তাহে ১৮শত টাকায় চাকরি করেন।ঘরটি জরাজীর্ণ হওয়ায় ঋণ নিয়ে মেরামত করায় সপ্তাহে যা আয় হয় তা ঋণের টাকা শোধ করতে হয়। তাই এ বৃদ্ধ বয়সে প্রায় দিনই চুলা জ্বলে না তাদের। সেখানে আশপাশের লোকজন কিছু খাবার দিয়ে যান, তা খেয়েই জীবন বাঁচাচ্ছেন তারা। এভাবেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। এমন ঘটনা ঘটেছে ঝালকাঠির জেলার নলছিটি পৌরসভার ৮ ওয়ার্ডের ভাংগাদেউলা গ্রামে।

শফিজ উদ্দিন ছিলেন একজন শ্রমিক। একসময় সুখে শান্তিতে কাটছিল তাদের জীবন। পরে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দিন পার করছেন তিনি।তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম তিনিও বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। হাঠাৎ করে অসহায় হয়ে পড়ে বৃদ্ধ এই দম্পতি। মেয়েদের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় বা মাকে সাহায্য করতে পারছেন না। তাই বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।

বৃদ্ধ এই দম্পতি কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাবা আমাগো ছেলে সন্তান নাই। চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে ছোট মেয়ে যা আয় করে তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। আমরা বৃদ্ধ এই বয়সে কিছু করতে পারছি না। আমরা কেউ কোন ভাতা পাচ্ছি না। একটা টিসিবির কার্ড করে দিয়েছে কিন্তু টাকা না থাকায় মালামাল কিনতে পারিনি। আজকে যে রান্না করবো ঘরে চাউল নাই। আশপাশের কিছু ভালো মানুষ আছে তারা আমাগোরে খাওন দিয়া যায়, আমরা হেইয়া খাইয়া থাহি। আল্লায় যেন এই জীবন থাইকা আমাগোরে মুক্তি দেন। শেষ জীবনে যাতে একটু নামাজ রোজা কইরা মরতে পারি হেইডাই চাই।’

এ বিষয়ে ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লাভলু বলেন, এ রকম অসহায় লোক আছে সেটা আমার জানা নাই। তবে যদি টিসিবির কার্ড না পেয়ে থাকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাবা আমার ছেলে সন্তান নাই ছোট মেয়ের সামান্য আয়ে চলে না আমাদের সংসার এক মা বাবার আকুতি

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ এপ্রিল ২০২২

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি :উপার্জনের কেউ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতির শফিজ উদ্দিন (৬৩) ও রিজিয়া বেগম (৫০) দম্পত্তির পাঁচ মেয়ে। চার মেয়ের বিয়ে হওয়ায় ছোট মেয়ে নিয়ে কোন রকম জীবনযাপন করছেন ।ছোট মেয়ে বরিশাল অপসোনিন ফার্মা লিমিটেডে সপ্তাহে ১৮শত টাকায় চাকরি করেন।ঘরটি জরাজীর্ণ হওয়ায় ঋণ নিয়ে মেরামত করায় সপ্তাহে যা আয় হয় তা ঋণের টাকা শোধ করতে হয়। তাই এ বৃদ্ধ বয়সে প্রায় দিনই চুলা জ্বলে না তাদের। সেখানে আশপাশের লোকজন কিছু খাবার দিয়ে যান, তা খেয়েই জীবন বাঁচাচ্ছেন তারা। এভাবেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। এমন ঘটনা ঘটেছে ঝালকাঠির জেলার নলছিটি পৌরসভার ৮ ওয়ার্ডের ভাংগাদেউলা গ্রামে।

শফিজ উদ্দিন ছিলেন একজন শ্রমিক। একসময় সুখে শান্তিতে কাটছিল তাদের জীবন। পরে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দিন পার করছেন তিনি।তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম তিনিও বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। হাঠাৎ করে অসহায় হয়ে পড়ে বৃদ্ধ এই দম্পতি। মেয়েদের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় বা মাকে সাহায্য করতে পারছেন না। তাই বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।

বৃদ্ধ এই দম্পতি কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাবা আমাগো ছেলে সন্তান নাই। চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে ছোট মেয়ে যা আয় করে তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। আমরা বৃদ্ধ এই বয়সে কিছু করতে পারছি না। আমরা কেউ কোন ভাতা পাচ্ছি না। একটা টিসিবির কার্ড করে দিয়েছে কিন্তু টাকা না থাকায় মালামাল কিনতে পারিনি। আজকে যে রান্না করবো ঘরে চাউল নাই। আশপাশের কিছু ভালো মানুষ আছে তারা আমাগোরে খাওন দিয়া যায়, আমরা হেইয়া খাইয়া থাহি। আল্লায় যেন এই জীবন থাইকা আমাগোরে মুক্তি দেন। শেষ জীবনে যাতে একটু নামাজ রোজা কইরা মরতে পারি হেইডাই চাই।’

এ বিষয়ে ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লাভলু বলেন, এ রকম অসহায় লোক আছে সেটা আমার জানা নাই। তবে যদি টিসিবির কার্ড না পেয়ে থাকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলবেন।