২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, – ২০২২ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ প্রস্তুতকরণ উপকমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা
- আপডেট সময় : ১১:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ মার্চ ২০২২ ৮১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মনির হোসেন ঝালকাঠি:ঝালকাঠিতে ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, -২০২২ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ প্রস্তুতকরণ উপকমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা মঙ্গলবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ।
প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এনডিসি মোঃ বসির গাজী ।সভায় উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে সভার কাজ শুরু করা হয়। সভার শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদত বরণকারী বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল শহীদসহ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লক্ষ বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। অতঃপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী পাঠ করে শুনানো হয়।
২। সভাপতি সভায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন যে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির জীবনে এক ভয়াবহ রক্তাক্ত ইতিহাসের দিন। সেই কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কাপুরুষের ন্যায় রাতের অন্ধকারে পাশবিক বিশ্লেতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালির উপর। পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়ার নির্দেশে, জেনারেল টিক্কা খানের নেতৃত্বে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সামরিক অভিযানে সংঘটিত হয় ইতিহাসের জঘন্যতম নারকীয় গণহত্যা। তাই অন্য যে কোনো। দিনের চেয়ে এই দিনটি শুধু আমাদের কাছেই নয়, বিশ্বের গণহত্যার ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ করে দিন। এই হত্যাকাত সারা বিশ্বের মানবতায় আঘাত হানে এবং সারা বিশ্বে প্রতিবাদ হয়। এক দিনে এত মানুষ হত্যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
আরো বলেন ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাংলাদেশে শুধু হত্যাযজ্ঞই শুরু করেনি, বরং আমাদের বাঙালি জাতিসত্ত্বাকে বাংল করার ব্রত নিয়ে তারা অপারেশনে নেমেছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১১ মার্চ, ২০১৭ তারিখে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব গৃহীত হয়। সে প্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিগত ২১ মার্চ, ২০১৭ তারিখে জাতীয়ভাবে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করে এবং গত ২০১৭ সালে প্রথম বারের মতো ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়।
৪। সভাপতি আরও জানান যে আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন”। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা মহান মুক্তিযুদ্ধে দাপিয়ে পড়ে এবং এক সাগর রক্তের বিনিময়ে হিনিতে আনে আমাদের স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। সেই থেকে জাতি প্রতিবছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করে আসছে। এবারের স্বাধীনতা দিবস স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে আড়ম্বরপূর্ণ উপায়ে উদযাপন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
৫। বর্ণিত দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে কর্মসূচি গ্রহণে সকলের মতামত গ্রহণ করা হয়। সকলের মতামত ও জাতীয় কর্মসূচির আলোকে ঝালকাঠি জেলায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস২০২২ এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ২০২২ উদ্যাপনের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নোক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। উক্ত কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নিম্নরূপ উপকমিটি গঠন করা হয়।।
মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম প্রস্তুত উপকমিটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), ঝালকাঠি,নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ, ঝালকাঠি,নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, ঝালকাঠি,
মো: সায়েম ইমরান, সহকারী কমিশনার,
মং এছেন, সহকারী কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়,বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সাহা, প্রাক্তন জেলা ডেপুটি কমান্ডার, .জেলা তথ্য অফিসার, তরুন কুমার কর্মকার, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ ঝালকাঠি,হাবিবুর রহমান হাবিল, সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ, ঝালকাঠি.হাফিজুর রহমান সালাম, সভাপতি, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠি, ঝালকাঠি,উপসহকারী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ, ঝালকাঠি,সচিব, ঝালকাঠি পৌরসভা, ঝালকাঠি
.জেলা নাজির, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঝালকাঠি
বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সাহা তিনি বলেন অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। অনেকই ইচ্ছেমতো বাঁকা করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। তাদেরকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা দিতে হবে।
এ বিষয়ে সভাপতি বলেন একটি কমিটি করা হবে তারা ঝালকাঠি শহরে ঘুরে দেখবে কেহ পতাকা অবমাননা করছে কিনা যদি কেউ জাতীয় পতাকা অবমাননা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভাপতির সবাইকে সতর্ক করে বলেন ২৫ শে মার্চ রাতে সরকারি-বেসরকারি সাহিত্য শাসিত অফিস-আদালতে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান আলোকসজ্জা করা যাবে না। পাশাপাশি ২৫শে মার্চ রাত ৯টায় এক মিনিটের জন্য শাটডাউন থাকবে কোথাও আলো জালানো যাবে না।
২৫শে মার্চ সকাল দশটায় ঝালকাঠি পৌরসভা খেয়াঘাট বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।


























