সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

তরুণীর পেটে কাঁচি রেখেই সেলাই, এক বছর পর জানল পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২১ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম
ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক তরুণীর অপারেশনের পর পেটের ভেতর কাঁচি রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনটি করা হয়েছিল গত বছরের মার্চে। সম্প্রতি মুকসুদপুরের এক হাসপাতালে এক্সরে করা হলে বিষয়টি ধরা পড়ে।

ভুক্তভোগী ওই তরুণীর নাম মনিরা খাতুন (১৭)। সে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার ঝুটিগ্রামের খাইরুল মিয়ার মেয়ে।

এলাকাবাসী, হাসপাতাল ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছর পেটে ব্যথার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন করান মনিরা। অপারেশনের কয়েক দিন পরেই মনিরাকে নগরকান্দা উপজেলার পৈলানপট্টি গ্রামে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পরও পেটে ব্যথা ছিল তার। এরপর মনিরা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বাচ্চা নষ্ট হলে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্বামী। এরপরেও বিভিন্ন গ্রাম্য চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু তার পেট ব্যথা কমেনি। গত দু’দিন আগে পেটে অসহনীয় ব্যথা উঠলে তাকে মুকসুদপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। ওই ক্লিনিকে এক্সরের মাধ্যমে চিকিৎসকরা দেখতে পান মনিরার পেটের মধ্যে একটি কাঁচি আছে।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান, তাদের সন্দেহ হলে তাকে একটি এক্সরে করতে বলেন। পরে এক্সরে রিপোর্ট আসার পর কাঁচি দেখতে পাওয়া যায়। গত বছরের ৩ মার্চ একটি অপারেশনের সময় ভুলে তার পেটের ভেতরে এ কাঁচিটি রেখে দেওয়া হয়েছিল।

চিকিৎসকরা বলেছেন, ওই কাঁচির হাতলে সামান্য মরচে পড়ে গেছে এবং ওই তরুণীর পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে জড়িয়ে গেছে এটি। দ্রুত অপারেশন করে কাঁচিটি বের করা না হলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে বলে জানান তারা।

তবে আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় এই অপারেশনে দেরি হবে বলে জানিয়েছেন মনিরার পরিবার। বিষয়টির সঠিক তদন্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেসিডেন্সিয়াল মেডিকেল অফিসার মোহাম্মাদ আসাদ উল্লাহ সুমন বলেন, আগে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে ঘটনাটি এই হাসপাতালে ঘটেছে কি না। যদি রোগীর কাছে কোনো ডকুমেন্ট থাকে, তাহলে সেই কাগজপত্রসহ একটি আবেদন প্রশাসনিক ভবনে দিলে, হাসপাতাল প্রশাসন সার্জারি বিভাগের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইবে। তবে ওই তরুণীর পরিবার এখনও তাদের হাসপাতালে যোগাযোগ করেনি বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তরুণীর পরিবার মানবিক সহযোগিতা চেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামানের সাথে দেখা করতে যান। পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিক তরুণীকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তরুণীর পেটে কাঁচি রেখেই সেলাই, এক বছর পর জানল পরিবার

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২১

আজকের ক্রাইম
ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক তরুণীর অপারেশনের পর পেটের ভেতর কাঁচি রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনটি করা হয়েছিল গত বছরের মার্চে। সম্প্রতি মুকসুদপুরের এক হাসপাতালে এক্সরে করা হলে বিষয়টি ধরা পড়ে।

ভুক্তভোগী ওই তরুণীর নাম মনিরা খাতুন (১৭)। সে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার ঝুটিগ্রামের খাইরুল মিয়ার মেয়ে।

এলাকাবাসী, হাসপাতাল ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছর পেটে ব্যথার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন করান মনিরা। অপারেশনের কয়েক দিন পরেই মনিরাকে নগরকান্দা উপজেলার পৈলানপট্টি গ্রামে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পরও পেটে ব্যথা ছিল তার। এরপর মনিরা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বাচ্চা নষ্ট হলে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্বামী। এরপরেও বিভিন্ন গ্রাম্য চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু তার পেট ব্যথা কমেনি। গত দু’দিন আগে পেটে অসহনীয় ব্যথা উঠলে তাকে মুকসুদপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। ওই ক্লিনিকে এক্সরের মাধ্যমে চিকিৎসকরা দেখতে পান মনিরার পেটের মধ্যে একটি কাঁচি আছে।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান, তাদের সন্দেহ হলে তাকে একটি এক্সরে করতে বলেন। পরে এক্সরে রিপোর্ট আসার পর কাঁচি দেখতে পাওয়া যায়। গত বছরের ৩ মার্চ একটি অপারেশনের সময় ভুলে তার পেটের ভেতরে এ কাঁচিটি রেখে দেওয়া হয়েছিল।

চিকিৎসকরা বলেছেন, ওই কাঁচির হাতলে সামান্য মরচে পড়ে গেছে এবং ওই তরুণীর পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে জড়িয়ে গেছে এটি। দ্রুত অপারেশন করে কাঁচিটি বের করা না হলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে বলে জানান তারা।

তবে আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় এই অপারেশনে দেরি হবে বলে জানিয়েছেন মনিরার পরিবার। বিষয়টির সঠিক তদন্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেসিডেন্সিয়াল মেডিকেল অফিসার মোহাম্মাদ আসাদ উল্লাহ সুমন বলেন, আগে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে ঘটনাটি এই হাসপাতালে ঘটেছে কি না। যদি রোগীর কাছে কোনো ডকুমেন্ট থাকে, তাহলে সেই কাগজপত্রসহ একটি আবেদন প্রশাসনিক ভবনে দিলে, হাসপাতাল প্রশাসন সার্জারি বিভাগের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইবে। তবে ওই তরুণীর পরিবার এখনও তাদের হাসপাতালে যোগাযোগ করেনি বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তরুণীর পরিবার মানবিক সহযোগিতা চেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামানের সাথে দেখা করতে যান। পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিক তরুণীকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন।