সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সবার দায়িত্ব’: বাবুগঞ্জে এমপি জয়নুল আবেদীন। তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বরগুনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল বেধে শারীরিক নির্যাতন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ নভেম্বর ২০২১ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স: বরগুনায় আলিম নামের ১১ বছরের মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল বেধে ও পিটিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীর মা এর অভিযোগ মাদ্রাসার শিক্ষক মারুফ তার ছেলে কে এই নির্যাতন করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা সদর উপজেলার বরগুনা সদর ইউনিয়নের পশ্চিম হেউলিবুনিয়া গ্রামের মৃধা বাড়ি হাফিজিয়া মাদ্রাসায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্য (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম।

আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আলিমের মা বলেন, আলিম একটু তোতলিয়ে কথা বলে। তাই মাদ্রাসার অন্যদের সঙ্গে ঠিকমতো পড়ে ওঠতে পারে না। এ কারণে মাদ্রাসার হুজুররা প্রায়ই রাগারাগি করে। রাগারাগি করার কারণে আলিম বৃহস্পতিবার ( ৪ নভেম্বর ) বাড়িতে আসলে আমি তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে মাদ্রাসায় রেখে আসি। সে যেন মাদ্রাসা থেকে বের হতে না পারে সেজন্য মাদ্রাসার শিক্ষক মারুফ তার পায়ে শিকল দিয়ে বেধে রাখে। শুক্রবার ফজরের ওয়াক্তের একটু আগে শিকলের তালার চাবি শিক্ষক মারুফের বাক্সের উপর দেখতে পায় আলিম। সে চাবি দিয়ে শিকল খুলে বাড়িতে চলে আসে। তার পিছনে পিছনে মাদ্রাসার শিক্ষকরাও বাড়িতে আসে। তারা আলিমকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জোড় করলে আমি তাদেরকে বলি আপনারা যান আমি কিছুক্ষণ পরে আলিম কে মাদ্রাসায় দিয়ে আসবো। কিন্তু তারা জোড় করে আলিম কে ধরে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, মাদ্রাসায় নিয়ে তারা আলিমের ওপর শারীরিক নির্যাতন করে। তার কানে থাপ্পড় মেরে কান থেকে রক্ত বের করে দেয়। পিঠে লাথি মারে এবং লাঠি দিয়ে পাছার উপরে পিটিয়ে আহত করে। এ সময় লাঠির এক বাড়ি আলিমের বাম হাতের কবজিতে লাগলে কবজি মারাত্মক ভাবে ফুলে ওঠে। আমি আলিমের বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে আলিমকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, আলিমের বাবা রিক্সা চালায় গরীব মানুষ। আলিম কে মাদ্রাসায় দিয়েছি কোরআনের হাফেজ বানাতে এই রকমের নির্যাতন করার জন্য নয়।

এ বিষয়ে ওসি কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, পশ্চিম হেউলিবুনিয়া মৃধা বাড়ি হাফিজি মাদ্রাসার ১১ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসার মারুফ নামে এক শিক্ষক পিটিয়ে আহত করেছে। ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। এ সময় এলাকাবাসী একজোট হয়ে শিক্ষক মারুফের বিচার দাবী করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ও অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক মারুফ মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। মারুফের বাড়ি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নে। এ ব্যপারে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা রুজু করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বরগুনায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল বেধে শারীরিক নির্যাতন

আপডেট সময় : ১২:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ নভেম্বর ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স: বরগুনায় আলিম নামের ১১ বছরের মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল বেধে ও পিটিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীর মা এর অভিযোগ মাদ্রাসার শিক্ষক মারুফ তার ছেলে কে এই নির্যাতন করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা সদর উপজেলার বরগুনা সদর ইউনিয়নের পশ্চিম হেউলিবুনিয়া গ্রামের মৃধা বাড়ি হাফিজিয়া মাদ্রাসায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্য (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম।

আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আলিমের মা বলেন, আলিম একটু তোতলিয়ে কথা বলে। তাই মাদ্রাসার অন্যদের সঙ্গে ঠিকমতো পড়ে ওঠতে পারে না। এ কারণে মাদ্রাসার হুজুররা প্রায়ই রাগারাগি করে। রাগারাগি করার কারণে আলিম বৃহস্পতিবার ( ৪ নভেম্বর ) বাড়িতে আসলে আমি তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে মাদ্রাসায় রেখে আসি। সে যেন মাদ্রাসা থেকে বের হতে না পারে সেজন্য মাদ্রাসার শিক্ষক মারুফ তার পায়ে শিকল দিয়ে বেধে রাখে। শুক্রবার ফজরের ওয়াক্তের একটু আগে শিকলের তালার চাবি শিক্ষক মারুফের বাক্সের উপর দেখতে পায় আলিম। সে চাবি দিয়ে শিকল খুলে বাড়িতে চলে আসে। তার পিছনে পিছনে মাদ্রাসার শিক্ষকরাও বাড়িতে আসে। তারা আলিমকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জোড় করলে আমি তাদেরকে বলি আপনারা যান আমি কিছুক্ষণ পরে আলিম কে মাদ্রাসায় দিয়ে আসবো। কিন্তু তারা জোড় করে আলিম কে ধরে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, মাদ্রাসায় নিয়ে তারা আলিমের ওপর শারীরিক নির্যাতন করে। তার কানে থাপ্পড় মেরে কান থেকে রক্ত বের করে দেয়। পিঠে লাথি মারে এবং লাঠি দিয়ে পাছার উপরে পিটিয়ে আহত করে। এ সময় লাঠির এক বাড়ি আলিমের বাম হাতের কবজিতে লাগলে কবজি মারাত্মক ভাবে ফুলে ওঠে। আমি আলিমের বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে আলিমকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, আলিমের বাবা রিক্সা চালায় গরীব মানুষ। আলিম কে মাদ্রাসায় দিয়েছি কোরআনের হাফেজ বানাতে এই রকমের নির্যাতন করার জন্য নয়।

এ বিষয়ে ওসি কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, পশ্চিম হেউলিবুনিয়া মৃধা বাড়ি হাফিজি মাদ্রাসার ১১ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসার মারুফ নামে এক শিক্ষক পিটিয়ে আহত করেছে। ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। এ সময় এলাকাবাসী একজোট হয়ে শিক্ষক মারুফের বিচার দাবী করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ও অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক মারুফ মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। মারুফের বাড়ি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নে। এ ব্যপারে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা রুজু করা হবে।