সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ ​রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ​ ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় দুই অভিযোগ ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ,

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে স্ট্যাম্পে সই রাখলেন কাদের মির্জা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ ১০২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে এক বেকারি ব্যবসায়ীকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে বসুরহাট পৌরসভায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় আটক রাখার পর ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ওই বেকারি মালিক আব্দুল ওয়াহাব অভিযোগ করেছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের জুবলি রোডের মেসার্স ছাত্তার বিস্কুট বেকারি অ্যান্ড ব্রেড ইন্ডাস্ট্রি থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে ব্যবসায়ী ও তার পরিবার আতঙ্কে রয়েছেন। তবে এই ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী এখনি কোনো আইনের আশ্রয় নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

আব্দুল ওহাব অভিযোগ করেন, তার পৈত্রিক ব্যবসা বেকারি। তার বাবা ১৯৬৯ সালে ১৬ শতক জমি ক্রয় করে চার শতকের ওপর বেকারি ব্যবসা গড়ে তুলেন। তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভূমি অফিসের ভুলের কারণে ভুলবশত সরকারি খাস জমি হিসেবে রেকর্ড হয়ে যায়। পরে ভূমি অফিসের পরামর্শে ওই রেকর্ডের বিরুদ্ধে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের ল্যান্ড ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা গত পাঁচবছর ধরে চলমান রয়েছে।

সম্প্রতি বসুরহাট পৌরসভা থেকে বলা হয়েছে তাদের বেকারির চার শতক জমি সরকারি। ওই জায়গা ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন মেয়র। এরপর গত ১৫-২০ দিন আগে কাদের মির্জা তার লোকজন নিয়ে এসে তাদের বেকারিতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চাবি নিয়ে যান। এর চারদিন পর তাদেরকে ডেকে পাঠিয়ে চাবি দিয়ে দিলে তারা পুনরায় কারখানায় উৎপাদন শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ১০টার দিকে কাদের মির্জা দোকানে এসে আমাকে ঘুষি মেরে তার অনুসারীদের আমাকে উঠিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমার দোকান থেকে আমাকে পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমার থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় আমাকে জানানো হয় এতে কোনো সমস্যা হবে না। পরে স্ট্যাম্পের বিষয়ে আমার সাথে কথা বলা হবে।’

ওহাব জানান, এ বিষয়ে তিনি আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন না। পরে ভেবে চিন্তে তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

ওহাব আরও জানান, দীর্ঘদিন থেকে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। তিনি ও তার পরিবারের লোকজন ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচন ও কাদের মির্জার পৌর নির্বাচনে কাজ করেছেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুক্রবার বিকেলে ও রাত সোয়া ৯টার দিকে মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার মোবাইলে কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, এমন ঘটনা তিনি জানেন না এবং এই বিষয়ে কেউ তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগও দেয়নি। যদি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় তাহলে পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে স্ট্যাম্পে সই রাখলেন কাদের মির্জা

আপডেট সময় : ০৫:০৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

অনলাইন ডেস্ক

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে এক বেকারি ব্যবসায়ীকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে বসুরহাট পৌরসভায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় আটক রাখার পর ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ওই বেকারি মালিক আব্দুল ওয়াহাব অভিযোগ করেছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের জুবলি রোডের মেসার্স ছাত্তার বিস্কুট বেকারি অ্যান্ড ব্রেড ইন্ডাস্ট্রি থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে ব্যবসায়ী ও তার পরিবার আতঙ্কে রয়েছেন। তবে এই ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী এখনি কোনো আইনের আশ্রয় নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

আব্দুল ওহাব অভিযোগ করেন, তার পৈত্রিক ব্যবসা বেকারি। তার বাবা ১৯৬৯ সালে ১৬ শতক জমি ক্রয় করে চার শতকের ওপর বেকারি ব্যবসা গড়ে তুলেন। তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভূমি অফিসের ভুলের কারণে ভুলবশত সরকারি খাস জমি হিসেবে রেকর্ড হয়ে যায়। পরে ভূমি অফিসের পরামর্শে ওই রেকর্ডের বিরুদ্ধে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের ল্যান্ড ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা গত পাঁচবছর ধরে চলমান রয়েছে।

সম্প্রতি বসুরহাট পৌরসভা থেকে বলা হয়েছে তাদের বেকারির চার শতক জমি সরকারি। ওই জায়গা ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন মেয়র। এরপর গত ১৫-২০ দিন আগে কাদের মির্জা তার লোকজন নিয়ে এসে তাদের বেকারিতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চাবি নিয়ে যান। এর চারদিন পর তাদেরকে ডেকে পাঠিয়ে চাবি দিয়ে দিলে তারা পুনরায় কারখানায় উৎপাদন শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ১০টার দিকে কাদের মির্জা দোকানে এসে আমাকে ঘুষি মেরে তার অনুসারীদের আমাকে উঠিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমার দোকান থেকে আমাকে পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে ৩০০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমার থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় আমাকে জানানো হয় এতে কোনো সমস্যা হবে না। পরে স্ট্যাম্পের বিষয়ে আমার সাথে কথা বলা হবে।’

ওহাব জানান, এ বিষয়ে তিনি আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন না। পরে ভেবে চিন্তে তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

ওহাব আরও জানান, দীর্ঘদিন থেকে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। তিনি ও তার পরিবারের লোকজন ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচন ও কাদের মির্জার পৌর নির্বাচনে কাজ করেছেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুক্রবার বিকেলে ও রাত সোয়া ৯টার দিকে মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার মোবাইলে কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, এমন ঘটনা তিনি জানেন না এবং এই বিষয়ে কেউ তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগও দেয়নি। যদি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় তাহলে পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।