সংবাদ শিরোনাম ::
ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ ​রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ​ ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় দুই অভিযোগ ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী”

গৃহকর্মীকে গরম আয়রনের ছ্যাঁকা, সিআইডি কর্মকর্তার স্ত্রী গ্রেফতার।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

নাটোরে এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে সিআইডি কর্মকর্তা খন্দকার আতিকুর রহমানের স্ত্রী সুমি বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোর থানায় সুমি বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুর মা।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পরিবারের সঙ্গে ওই শিশুকে দেখা করাতে নিয়ে যান সুমি বেগম। এসময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে আত্মীয়-স্বজন জিজ্ঞাসা করলে সে টানা তিন বছর ধরে চলা নির্যাতনের কথা তুলে ধরে। এরপরই বিক্ষুব্ধ হয়ে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সুমি বেগম এবং শাশুড়ি দিলারা বেগমকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই শিশুটি তিন বছর আগে ঢাকায় সিআইডি পুলিশে কর্মরত উপপরিদর্শক খন্দকার আতিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেয়। এরপর থেকে আর তাকে বাবা-মায়ের সঙ্গে আর দেখা করতে দেওয়া হয়নি। প্রথম আট মাস নিয়মিত বাড়িতে বেতন পাঠানো হলেও পরে আর ঠিকমতো বেতনও দেওয়া হয়নি।

তারা আরও জানান, কাজে যোগ দেওয়ার এক মাস পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গৃহকর্ত্রী সুমি ওই শিশুকে বকাঝকা ও নির্যাতন শুরু করেন। এক পর্যায়ে তার শরীরে গরম আয়রন দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এছাড়া প্লাস দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়াও তুলে ফেলা হয়। শিশুটির মাথা ও হাত-পায়ের আঙ্গুলসহ পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে।

শিশুটি জানায়, কাজে একটু ভুল করলেই তাকে প্রচুর মারধর করা হতো। জোরে কান্না করলে আরও বেশি মারা হতো। তবে গৃহকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক তাকে মা বলে ডাকতেন এবং নিজের মেয়ের মতো আদর করতেন। এমনকি মারধর করার জন্য স্ত্রীকে বকাঝকাও করতেন।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. তারেক জুবায়ের জানান, পুলিশের একটি দল মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সুমি বেগম আটক করেছে। ঘটনার তদন্ত করে যা সামনে আসবে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গৃহকর্মীকে গরম আয়রনের ছ্যাঁকা, সিআইডি কর্মকর্তার স্ত্রী গ্রেফতার।

আপডেট সময় : ০৮:২৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স

নাটোরে এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে সিআইডি কর্মকর্তা খন্দকার আতিকুর রহমানের স্ত্রী সুমি বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোর থানায় সুমি বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুর মা।

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পরিবারের সঙ্গে ওই শিশুকে দেখা করাতে নিয়ে যান সুমি বেগম। এসময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে আত্মীয়-স্বজন জিজ্ঞাসা করলে সে টানা তিন বছর ধরে চলা নির্যাতনের কথা তুলে ধরে। এরপরই বিক্ষুব্ধ হয়ে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সুমি বেগম এবং শাশুড়ি দিলারা বেগমকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই শিশুটি তিন বছর আগে ঢাকায় সিআইডি পুলিশে কর্মরত উপপরিদর্শক খন্দকার আতিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেয়। এরপর থেকে আর তাকে বাবা-মায়ের সঙ্গে আর দেখা করতে দেওয়া হয়নি। প্রথম আট মাস নিয়মিত বাড়িতে বেতন পাঠানো হলেও পরে আর ঠিকমতো বেতনও দেওয়া হয়নি।

তারা আরও জানান, কাজে যোগ দেওয়ার এক মাস পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গৃহকর্ত্রী সুমি ওই শিশুকে বকাঝকা ও নির্যাতন শুরু করেন। এক পর্যায়ে তার শরীরে গরম আয়রন দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এছাড়া প্লাস দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়াও তুলে ফেলা হয়। শিশুটির মাথা ও হাত-পায়ের আঙ্গুলসহ পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে।

শিশুটি জানায়, কাজে একটু ভুল করলেই তাকে প্রচুর মারধর করা হতো। জোরে কান্না করলে আরও বেশি মারা হতো। তবে গৃহকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক তাকে মা বলে ডাকতেন এবং নিজের মেয়ের মতো আদর করতেন। এমনকি মারধর করার জন্য স্ত্রীকে বকাঝকাও করতেন।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. তারেক জুবায়ের জানান, পুলিশের একটি দল মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সুমি বেগম আটক করেছে। ঘটনার তদন্ত করে যা সামনে আসবে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।