সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

বাউফল থানার ওসিকে আদালতের শোকজ।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৭৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাউফল সংবাদদাতা: বাউফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেনের (৮) মৃত্যুর ঘটনায় বাউফল থানার ওসিকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন এ সংক্রান্ত ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়নি? তা জানাতে ওসিকে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বাউফল থানায় মামলা না নেওয়ায় গত রবিবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আদালতে মামলাটি করেছেন নিহত শিশু শিক্ষার্থী আরাফাতের বাবা মোঃ হাসান প্যাদা (২৮)। (মামলা নম্বর ৩০৮/২১)আদালত বুধবার এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোঃ আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, মামলাটি আমলে নিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেন তিন দিনের মধ্যে বাউফল থানার ওসিকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) মামলাটি বাউফল থানায় এজাহার হিসেবে রজু করার নির্দেশ দেন এবং এ সংক্রান্ত ঘটনায় কেন মামলা নেওয়া হয়নি? তা জানতে ওসিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাশিপুর আল ইয়াসিন শিশুসদন হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জিকিরউল্লাহ (৪৫) ও তাঁর ছোট ভাই কাওছারকে (৪০)। এ ছাড়া ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আরাফাত ওই মাদ্রাসার নজরানা বিভাগের ছাত্র ছিল। ৮-৯ মাস আগে মাদ্রাসায় আরাফাতকে ভর্তি করা হয়। মামলার বাদী মোঃ হাসান প্যাদা বলেন, পড়া মুখস্থ না হওয়ায় ২২ আগস্ট বেলা দুইটার দিকে তাঁর একমাত্র ছেলে আরাফাতকে ধরে দেয়ালের সঙ্গে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ জিকিরউল্লাহ।

এতে আরাফাতের মাথার হাড় ভেঙে যায় ও ডান চোখে জখম হয়। কিন্তু বিষয়টি তাঁদের না জানিয়ে জিকিরুল্লাহ তাঁর ছোট ভাই মোঃ কাওছারের মাধ্যমে আরাফাতকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। অবস্থা ভালো না দেখে পরের দিন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মোবাইল ফোনে কল করে আরাফাতের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়। হাসান প্যাদা বলেন, তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে আরাফাতকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

অসুস্থ আরাফাতকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ আগস্ট তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিনই রাত ৯টার দিকে আরাফাত মারা যায়। ময়নাতদন্ত শেষে ২৫ আগস্ট রাত ১১টার দিকে আরাফাতের লাশ বাউফলের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। ২৬ আগস্ট সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

এ ঘটনার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জিকিরউল্লাহ ও তাঁর ভাই কাওছারের নামে শনিবার দুপুরে বাউফল থানায় মামলা করতে যান হাসান প্যাদা। তবে থানায় মামলা নেওয়া হয়নি। তাই পরের দিন রবিবার তিনি পটুয়াখালী আদালতে গিয়ে নালিশি মামলাটি করেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে জিকিরউল্লাহ মাদ্রাসায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাউফল থানার ওসিকে আদালতের শোকজ।

আপডেট সময় : ০৫:১১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১

বাউফল সংবাদদাতা: বাউফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেনের (৮) মৃত্যুর ঘটনায় বাউফল থানার ওসিকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন এ সংক্রান্ত ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়নি? তা জানাতে ওসিকে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বাউফল থানায় মামলা না নেওয়ায় গত রবিবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আদালতে মামলাটি করেছেন নিহত শিশু শিক্ষার্থী আরাফাতের বাবা মোঃ হাসান প্যাদা (২৮)। (মামলা নম্বর ৩০৮/২১)আদালত বুধবার এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোঃ আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, মামলাটি আমলে নিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেন তিন দিনের মধ্যে বাউফল থানার ওসিকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) মামলাটি বাউফল থানায় এজাহার হিসেবে রজু করার নির্দেশ দেন এবং এ সংক্রান্ত ঘটনায় কেন মামলা নেওয়া হয়নি? তা জানতে ওসিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাশিপুর আল ইয়াসিন শিশুসদন হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. জিকিরউল্লাহ (৪৫) ও তাঁর ছোট ভাই কাওছারকে (৪০)। এ ছাড়া ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আরাফাত ওই মাদ্রাসার নজরানা বিভাগের ছাত্র ছিল। ৮-৯ মাস আগে মাদ্রাসায় আরাফাতকে ভর্তি করা হয়। মামলার বাদী মোঃ হাসান প্যাদা বলেন, পড়া মুখস্থ না হওয়ায় ২২ আগস্ট বেলা দুইটার দিকে তাঁর একমাত্র ছেলে আরাফাতকে ধরে দেয়ালের সঙ্গে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ জিকিরউল্লাহ।

এতে আরাফাতের মাথার হাড় ভেঙে যায় ও ডান চোখে জখম হয়। কিন্তু বিষয়টি তাঁদের না জানিয়ে জিকিরুল্লাহ তাঁর ছোট ভাই মোঃ কাওছারের মাধ্যমে আরাফাতকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। অবস্থা ভালো না দেখে পরের দিন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মোবাইল ফোনে কল করে আরাফাতের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়। হাসান প্যাদা বলেন, তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে আরাফাতকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

অসুস্থ আরাফাতকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ আগস্ট তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিনই রাত ৯টার দিকে আরাফাত মারা যায়। ময়নাতদন্ত শেষে ২৫ আগস্ট রাত ১১টার দিকে আরাফাতের লাশ বাউফলের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। ২৬ আগস্ট সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

এ ঘটনার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জিকিরউল্লাহ ও তাঁর ভাই কাওছারের নামে শনিবার দুপুরে বাউফল থানায় মামলা করতে যান হাসান প্যাদা। তবে থানায় মামলা নেওয়া হয়নি। তাই পরের দিন রবিবার তিনি পটুয়াখালী আদালতে গিয়ে নালিশি মামলাটি করেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে জিকিরউল্লাহ মাদ্রাসায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।