দেশে আইনের শাসন নেই, ন্যায়বিচার নেই, সুশাসন নেই: সরোয়ার।
- আপডেট সময় : ০১:২১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স: দেশে আইনের শাসন নেই, ন্যায়বিচার নেই, সুশাসন নেই। গণতন্ত্র নেই বলেই আজ দেশের এমন পরিস্থিতি। গণতন্ত্র নেই বলেই আজ বরিশালে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে। মানুষের ওপর প্রেসার পড়ছে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থার মতো, অলিখিত সেই বাকশালকে আওয়ামী লীগ চালানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার।
তিনি বলেন, বরিশালের মানুষ আজ অতিষ্ঠ। আজ বরিশালের রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টের উন্নয়ন হয় না। বরিশালের যত উন্নয়ন হয়েছে, তা করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু তাকে আজ জেলখানায় আটকে রাখা হয়েছে। যে টাকার কথা বলা হচ্ছে সেই টাকা আজ দ্বিগুণ হয়ে ব্যাংকে অবস্থান করছে অথচ দেশনেত্রীকে জেল খাটতে হচ্ছে।
বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর সদর রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে দলটির যুগ্ম মহাসচিব এসব কথা বলেন। ওই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, সহসভাপতি সৈয়দ হাসান, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আকবর, সহ-সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন প্রমুখ।
মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ওই সমাবেশে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে বড় নেতারাও আজ অনুভব করছেন দেশে রাজনীতি নেই। রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতি নেই। এটা অনেকেই বলছেন কিন্তু বাকিটুকু বলছেন না। বর্তমানে দ্রুত ধনীর সংখ্যায় বাংলাদেশ এক নম্বর। আজ আমরা যাদের উন্নয়নের জন্য, কল্যাণের জন্য কথা বলে থাকি, তাদের উন্নয়ন নেই। কিন্তু অনেক ধনী আজ গ্রো করেছে, যারা বাংলাদেশের এক নম্বর ব্যক্তি এবং তাদের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি। একমাত্র গণতন্ত্রের মাধ্যমে এ দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে। আজ বরিশালে যে ঘটনা ঘটেছিল, সেটিও বলবো গণতন্ত্র থাকলে তা হতো না।
আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্বাসনতন্ত্রে একটি দর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এখানে সেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্র না থাকলে জবাবদিহীতা থাকে না। আর জবাবদিহীতা না থাকলে দুর্নীতি কমানো যায় না। আজ যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের একটা বড় শ্রেণি এখন অবিচার শ্রেণিতে পরিণত হয়েছে। আজ কানাডায় গেলে দেখা যায়, তাদের বাড়িঘর নাকি সব থেকে বেশি। আজ জনপ্রতিনিধিদের কাছে নয় ক্ষমতা হচ্ছে তাদের কাছে।
বিএনপির এই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দেশে একটা অসম লড়াই চলছে, দেশে একটা বৈষম্য চলছে, দেশে নিশিরাত্রের ভোট চলছে, দেশে গণতন্ত্র নেই, দেশের মানুষগুলো অধিকারহীনতায় রয়েছে। মানুষের মধ্যে আস্থা নেই, মানুষ সংকটে রয়েছে। মানুষ ভোট দিতে পারছে না। আওয়ামী লীগ গ্রামেও তাদের নৌকা মার্কা নিয়ে গেছে, যাতে করে তাদের লোকগুলোকে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত করা যায়। আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হচ্ছে না। গণতন্ত্রের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জনগণের ভোটে নির্বাচন। আর ভোট না হলে যোগ্য নেতা কীভাবে নির্বাচিত হবে? ভোট নেই দেখে যোগ্য নেতাও নির্বাচিত হয় না।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানি একটি বৈষম্যের আকাঙ্ক্ষা থেকে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সৃষ্টি কোনো রাজনৈতিক দর্শনের মাধ্যমে ছিল না। মুক্তিযুদ্ধকে যে-যার ইচ্ছেমতো তার দিকে নিয়ে যেতে চায়। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, যার মূল আনুসঙ্গ হচ্ছে গণতন্ত্র। কিন্তু সেই গণতন্ত্রকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।


























