বাকেরগঞ্জে এতিমের টাকা আত্মসাৎ।
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অগাস্ট ২০২১ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স: বেসরকারি এতিমখানার নামে মাদ্রাসাগুলো সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি বরাদ্দের টাকা সঠিক খাতে ব্যয় করছে না। মা-বাবা থাকলেও অনেক মাদ্রাসা ছাত্রদের এতিম বলে চালিয়ে দিচ্ছে। আবার কিছু এতিমখানার অস্তিত্ব কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই।
বাকেরগঞ্জে বছরের পর বছর এতিম শূন্য থাকলেও সমাজসেবা অধিদফতরের যোগসাজশে নিবন্ধনপ্রাপ্ত বেসরকারি এতিমখানার শিশুদের প্রতিপালন, চিকিৎসা এবং শিক্ষা প্রদানের জন্য আর্থিক সহায়তার (ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট) বরাদ্দ তুলছেন একটি কু-চক্রী মহল।
নামে বেনামে বরাদ্দ দিয়ে সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন এতিমদের বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা। যাদের বরাদ্দ দিচ্ছে সমাজসেবা অধিদফতর তারাও বলছেন দফতরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বরাদ্দ নিচ্ছেন তারা।
প্রতিবার বরাদ্দ দেয়ার আগে সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করার কথা থাকলেও বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না।
উপজেলার সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তাদের তালিকা অনুযায়ী উপজেলায় ২০টি বেসরকারি এতিমখানা রয়েছে।
অধিকাংশই মাদ্রাসাভিত্তিক লিল্লাহ বোর্ডিং এতিমখানা। এতিমদের সংখ্যা ৩১২ জন কাগজ কলমে থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রতি মাসে তাদের ২ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর এতিমখানাগুলোর অধিকাংশ মাদ্রাসাভিত্তিক। নানা অভিযোগে উপজেলার ৩ টি ভুয়া এতিমখানার বার্ষিক বরাদ্দ বন্ধ করা হয়েছে। বাকেরগঞ্জে বিভিন্ন এতিমখানায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, তালিকায় থাকা ২০ টি এতিমখানার বেশির ভাগই বছরের প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে।
প্রথম সকাল অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাকেরগঞ্জের সাহেবগঞ্জ মোসলেম উদ্দিন এতিমখানা এতিম নেই। একটি কক্ষে দেখা মেলে দুই জন ছাত্রের তারাও নাকি ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সাংবাদিকদের প্রশ্নে ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি জানান, এতিমখানায় এতিম নাই বর্তমানে আমরা দুইজন আছি। তাও কোনো সুযোগ-সুবিধা তো দূরের কথা একটি বাথরুমও নেই। তিনি আরো জানান অপর দুটি কক্ষে ফাজিল মাদ্রাসার ও নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষকেরা থাকেন। যখন পরিদর্শনে আসেন কেউ তখন বাহির থেকে ছাত্র এনে দেখানো হয়। দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে তিনি বলেন ভাই জোর যার মুল্লুক তার আমাদের দেখার কেউ নেই।
অপরদিকে পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়নের, বড় রঘুনাথপুর
মরহুম আব্দুল আলী এতিমখানায় সাইনবোর্ড পর্যন্ত দেখা যায়নি। তবে আধাপাকা টিন সেটের একটি ঘর দেখা গেলেও সেটাতে কোনো এতিমের দেখা মেলেনি। অথচ ২০২১ জানুয়ারি হতে জুন পর্যন্ত ২৫ জন ছাত্র দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ড উত্তোলন করেছেন।
অপরদিকে দেখা যায় বাকেরগঞ্জ হাসাননগর ফাতেমাতুজ্জহরা এতিমখানার ঘরটির মধ্যে কিছুই নেই। জানালা-দরজা বন্দো। এতিম পাওয়া যায়নি। এতিমদের তালিকা দেখাতে পারেননি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবু -ছালে। তিনি জানান পাশেপাশে অনেক মাদ্রাসার কারনে তার এতিমখানায় ছাত্র পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ ১৪ জন এতিম ছাত্র দেখিয়ে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সরকারি বরাদ্দ নিয়েছেন ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। বছরের পর বছর সরকারি বরাদ্দ নিলেও তদারকি নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
সরেজমিনে আরো দেখা যায় বাকেরগঞ্জের দক্ষিণ নারাঙ্গল নেছারমহল দারুস ছুন্নত এতিমখানায় ২৯ জন এতিমের জন্য মাসিক বরাদ্দ আসলেও এতিম নেই সেখানে এমন কি গেটও তালা দেয়া। এতিমখানার সাইনবোর্ড টাঙানো ভবনটি দক্ষিণ নারাঙ্গল নেছারমহল দারুস ছুন্নত মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার বেলকুনির উপড়ে। এতিম খানার বিষয়ে যানতে চাইলে ঐ মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম জানান, নেছারমহল দারুস ছুন্নত এতিমখানার নিজেস্ব জমিতে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই খালি জমি পড়ে রয়েছে তাও এই মাদ্রাসার বাহিরে উওর নারাঙ্গল মৌজায়। অথচ এতিমখানার সাধারন সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান নামে মাত্র এতিমখানা খুলে বছরে প্রায় ৭ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন করে থাকে। বিভিন্ন ব্যাক্তিদের থেকে প্রপ্তা অনুদান এতিমখানার নামে আসলে তা নিজেই আত্নসাৎ করে থাকেন। কুরবানিতে এতিমখানার নামে গরু ছাগল আসলে তাও জবাই করে অর্ধেক নিজের ফ্রিজে রাখেন।
নারাঙ্গল নেছারমহল দারুস ছুন্নত মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মাহবুব জানান, আমাদের মাদ্রাসার তিন তলা দখল করে রেখেছে সাধারন সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি আরো জানান, মাওলানা হাবিবুর রহমান এর বিরুদ্ধে তার চাচাতো ভাই মানিক মিনা কিছুদিন আগে বরিশাল সমাজসেবা কার্যালয়ে ডিডি বরারব লিখিত অভিযোগ দিলে মাদ্রাসা ভিজিট করতে আসেন এডি সহিদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে মানিক মিনা জানান, আমার দেয়া অভিযোগে তখন কলাপাড়া থেকে ভাড়া করে এতিম শিশুদের এনে এতিমখানার ছাত্র দেখিয়ে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দ গ্রহন করেন। এছাড়াও এই এতিমখানার সভাপতি হিসেবে মাওলানা হাবিবুর রহমান তার ছোট মেয়ে জামাইকে পদে রেখেছেন অথচ সভাপতি নোয়াখালির বাসিন্দা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসা পরিচালকদের কাছ থেকেই জানা গেছে, এতিমদের বরাদ্দের টাকা আত্মসাতে সমাজসেবা অধিদফতরের অসাধু কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছে।
জেলা সমাজসেবা ডিডি আল মামুন জানান, এই প্রতিষ্ঠান গুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।


























