সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ

বরিশালে প্রেমের ফাঁদে মেম্বারকে বিয়ে, অর্থকড়ি নিয়ে উধাও দ্বিতীয় স্ত্রী।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২১ ১১৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাত মাস আগে বিবাহিত এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় এক ইউপি সদস্যের। ফোনালাপেই গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। এরপর নারীর চাপাচাপিতেই হয় বিয়ে। কিন্তু বেশিদিন টিকলো না সেই প্রেমের বিয়ে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান স্ত্রী।

এমন অভিযোগ এনে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ ও পরে থানায় লিখিত আবেদন করেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহজাহান ব্যাপারী। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন তিনি।

মামলায় ইউপি সদস্যের স্ত্রী লাকি বেগম ও তার আত্মীয় সবুর হাওলাদার (৩৫), আশিক হাওলাদার (২০), হায়দার ভূঁইয়া (৩০), বোন সোনিয়া বেগমকে (৩২) অভিযুক্ত করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান ব্যাপারীর সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার বেলুহার গ্রামে হারুন ভূঁইয়ার মেয়ে লাকি বেগমের পরিচয় হয়। এরপর মোবাইল ফোনে তাদের কথা হতো। দুজনই বিবাহিত ছিলেন এবং তাদের সন্তানও আছে।

এক পর্যায়ে শাহজাহান ব্যাপারীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন ওই নারী। এরপর তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হতে থাকে। নিজেদের অন্তরঙ্গের কিছু ছবি তুলে রাখেন লাকি বেগম। এক পর্যায়ে তিনি বিয়ের জন্য শাহজাহান ব্যাপারীকে বলেন। অবশেষে ১ মার্চ তারা বিয়ে করেন।

বিয়ের পর লাকি বেগমের জন্য ধামুরা এলাকায় আলাদা বাসা ভাড়া নেন শাহজাহান ব্যাপারী। মাসখানেক পর ঘটে বিপত্তি। লাকি বেগম বিভিন্ন খরচের কথা বলে শাহজাহানের কাছ থেকে টাকা নেয়া শুরু করেন।

গত ৪ আগস্ট ব্যবসার কাজে তিনি বাইরে যান। রাতে বাসায় ফিরে দেখেন লাকি বেগম নেই। পরে আলমারি খুলে দেখেন, সেখানে রক্ষিত জমি বিক্রির ৩ লাখ ৫০ হাজার এবং ব্যবসার জন্য জমানো ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা নেই। এছাড়া দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, দুটি দামি মোবাইল ফোনও নেই।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. শাহজাহান ব্যাপারী বলেন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর লাকি বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলে জানিয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এসব বিবেচনা করে তাকে ফিরে আসতে বলি। কিন্তু সে রাজি হয়নি। টাকা ও ও স্বর্ণালংকার ফিরিয়ে দিতে বললে সে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সে আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। এ কাজে লাকি বেগমকে তার স্বজনরা সহায়তা করেছে। পরে তার বাবার বাড়ির এলাকার কয়েকজন লোকের মাধ্যমে জেনেছি, লাকি বেগম তার আগের স্বামীকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক দিয়েছে। উজিরপুর মডেল থানায় ও ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনায় ৫ আগস্ট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এরপর ১৯ আগস্ট বরিশাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছি। তবে কোনো প্রতিকার পাইনি।

শোলক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পল্লীচিকিৎসক আব্দুল হালিম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ওই নারী কোনোভাবেই মীমাংসায় রাজ হননি।

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আরশাদ জানান, শাহজাহান ব্যাপারীর লিখিত অভিযোগ ও আদালতের করা মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বরিশালে প্রেমের ফাঁদে মেম্বারকে বিয়ে, অর্থকড়ি নিয়ে উধাও দ্বিতীয় স্ত্রী।

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাত মাস আগে বিবাহিত এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় এক ইউপি সদস্যের। ফোনালাপেই গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। এরপর নারীর চাপাচাপিতেই হয় বিয়ে। কিন্তু বেশিদিন টিকলো না সেই প্রেমের বিয়ে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান স্ত্রী।

এমন অভিযোগ এনে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ ও পরে থানায় লিখিত আবেদন করেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহজাহান ব্যাপারী। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন তিনি।

মামলায় ইউপি সদস্যের স্ত্রী লাকি বেগম ও তার আত্মীয় সবুর হাওলাদার (৩৫), আশিক হাওলাদার (২০), হায়দার ভূঁইয়া (৩০), বোন সোনিয়া বেগমকে (৩২) অভিযুক্ত করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান ব্যাপারীর সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে পার্শ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার বেলুহার গ্রামে হারুন ভূঁইয়ার মেয়ে লাকি বেগমের পরিচয় হয়। এরপর মোবাইল ফোনে তাদের কথা হতো। দুজনই বিবাহিত ছিলেন এবং তাদের সন্তানও আছে।

এক পর্যায়ে শাহজাহান ব্যাপারীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন ওই নারী। এরপর তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হতে থাকে। নিজেদের অন্তরঙ্গের কিছু ছবি তুলে রাখেন লাকি বেগম। এক পর্যায়ে তিনি বিয়ের জন্য শাহজাহান ব্যাপারীকে বলেন। অবশেষে ১ মার্চ তারা বিয়ে করেন।

বিয়ের পর লাকি বেগমের জন্য ধামুরা এলাকায় আলাদা বাসা ভাড়া নেন শাহজাহান ব্যাপারী। মাসখানেক পর ঘটে বিপত্তি। লাকি বেগম বিভিন্ন খরচের কথা বলে শাহজাহানের কাছ থেকে টাকা নেয়া শুরু করেন।

গত ৪ আগস্ট ব্যবসার কাজে তিনি বাইরে যান। রাতে বাসায় ফিরে দেখেন লাকি বেগম নেই। পরে আলমারি খুলে দেখেন, সেখানে রক্ষিত জমি বিক্রির ৩ লাখ ৫০ হাজার এবং ব্যবসার জন্য জমানো ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা নেই। এছাড়া দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, দুটি দামি মোবাইল ফোনও নেই।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. শাহজাহান ব্যাপারী বলেন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর লাকি বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলে জানিয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এসব বিবেচনা করে তাকে ফিরে আসতে বলি। কিন্তু সে রাজি হয়নি। টাকা ও ও স্বর্ণালংকার ফিরিয়ে দিতে বললে সে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সে আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। এ কাজে লাকি বেগমকে তার স্বজনরা সহায়তা করেছে। পরে তার বাবার বাড়ির এলাকার কয়েকজন লোকের মাধ্যমে জেনেছি, লাকি বেগম তার আগের স্বামীকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক দিয়েছে। উজিরপুর মডেল থানায় ও ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনায় ৫ আগস্ট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এরপর ১৯ আগস্ট বরিশাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছি। তবে কোনো প্রতিকার পাইনি।

শোলক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পল্লীচিকিৎসক আব্দুল হালিম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ওই নারী কোনোভাবেই মীমাংসায় রাজ হননি।

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আরশাদ জানান, শাহজাহান ব্যাপারীর লিখিত অভিযোগ ও আদালতের করা মামলাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।